পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে চোট পাওয়ায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদকে। সোমবার (২২ নভেম্বর) সিরিজের শেষ ম্যাচে বোলিং করার সময় ডান হাতে ব্যথা পান তিনি। আঘাতের মাত্রা জানতেই ম্যাচের পর হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে।
সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে বল করছিলেন তাসকিন। প্রথম বলে পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম স্ট্রেট ড্রাইভ করলে বল আটকানোর চেষ্টা করেন তাসকিন। তবে বলটি তাসকিনের ডান হাতের ওপরের অংশে আঘাত করে। চোট পাওয়ার পর মাঠে মেডিক্যাল টিমের ট্রিটমেন্ট নিলেও পরে মাঠ ছাড়তে হয় তাসকিনকে। তবে এর কিছুক্ষণ পরই মাঠে ফেরেন তিনি। ৩ ওভার বোলিংও করেন। ম্যাচ শেষে অ্যাম্বুলেন্সযোগে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে, ম্যাচে বোলিংয়ের সময় ডান হাতে ব্যথা পেয়েছেন তাসকিন। তাই ম্যাচের পর স্ক্যানের জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে তাকে। আঘাতের মাত্রা কেমন, তা স্ক্যানের পর জানা যাবে।
এদিকে নিয়মরক্ষার শেষ ম্যাচেও জয়ের দেখা পায়নি টাইগাররা। সিরিজের তিন ম্যাচেই হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে স্বাগতিকদের। সোমবার সিরিজের শেষ ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এদিন দলে আনা হয় বেশ কিছু পরিবর্তন। তবে শেষ ম্যাচের আগের দিন দলে ডাক পাওয়া পারভেজ হোসেন ইমন ও কামরুল ইসলাম রাব্বীকে রাখা হয়নি মূল একাদশে।
আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২৪ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। দলের পক্ষে নাঈম শেখের ব্যাট থেকে ৫০ বলে আসে ৪৭ রান। যেখানে দুটি চার ও দুটি ওভার বাউন্ডারির মার ছিলো। তাছাড়া শামীম হোসেন ২২ ও আফিফ হোসেনের ২০ রান ছাড়া বলার মতো কোনো রান করতে পারেননি কোনো ব্যাটসম্যান।
জয়ের জন্য ১২৫ রানের লক্ষে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা হয় ধীরগতির ব্যাটিং দিয়ে। দলীয় ৩২ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ১৯ রান করে আমিনুলের বলে ক্যাচ দিয়ে আউট হন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। পরে হায়দার আলীকে সঙ্গে নিয়ে জয়ের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে সফরকারীরা। তবে ১৫ দশমিক ১ ওভারে দলীয় ৮৩ রানের মাথায় শহিদুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন ৪৩ বলে ৪০ রান করা মোহাম্মদ রিজওয়ান।
তখনও পাকিস্তানকে জিততে হলে দরকার ২৮ বলে ৪১ রান। এমন সমীকরণেও ঘুরে দাঁড়াতে পারলো না বাংলাদেশ। তবে খেলা পর্যন্ত নাটকীয়তায় রূপ নেয়। ৬ বলে পাকিস্তানের দরকার হয় ৮ রান। বল হাতে নেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। প্রথম বল ডট, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে উইকেট। চতুর্থ বলে ছক্কা, পঞ্চম বলে আবারো উইকেট। জয়ের জন্য শেষ বলে দরকার দুই রান। আর একরান হলে সুপারওভার। কিন্তু ব্যাটসম্যান মোহাম্মাদ নেওয়াজ সব সমীকরণ শেষ করে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৫ উইকেট হাতে রেখেই শেষ ম্যাচেও জয় তুলে নেয় পাকিস্তানিরা।
বাংলাদেশের পক্ষে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এক ওভার বল করে ১০ রান দিয়ে নেন তিন উইকেট। আর শহিদুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম নেন একটি করে উইকেট।
আগামী ২৬ নভেম্বর থেকে চট্টগ্রামে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। মিরপুরে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ৪ ডিসেম্বর।
