গ্রামীণফোনকে সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার বা এসএমপি ঘোষণার সময়ই কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে বলে জানিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। অবশেষে গ্রামীণফোনের উপর প্রাথমিকভাবে চার ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বিটিআরসি। আরও কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা শিগগিরই আসছে বলেও জানিয়েছেন বিটিআরসির কর্মকর্তারা।
বিটিআরসির নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়েছে, নতুন সেবার (প্যাকেজ, অফার, কলরেট) তথ্য জানিয়ে কোনো মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিতে পারবে না গ্রামীণফোন। গত সোমবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে বিটিআরসি। বিটিআরসি বলছে, তাদের করণীয় ও বর্জনীয় ঠিক করে দেওয়া হবে।
বিটিআরসির চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বতন্ত্র এবং একক স্বত্বাধিকার চুক্তিও করা যাবে না। কোনোভাবেই মাসে কল ড্রপের সর্বোচ্চ হার ২ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। এমএনপি লকের ক্ষেত্রে মেয়াদ হবে ৩০ দিন। যেখানে অন্য অপারেটররা ৯০ দিনের সুবিধা পান। এসবের বাইরেও দেশব্যাপী কোনো ধরনের মার্কেট কমিউনিকেশন করা যাবে না। কোনো মাধ্যম ব্যবহার করে এটা করা যাবে না।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, গ্রামীণফোন সেবার ক্ষেত্রে তাদের গুণগত মান বজায় রাখতে পারছে না। এ কারণে তাদের আর কোনো বিজ্ঞাপন দিতে দেওয়া হবে না। মোবাইল ফোনের সেবার মান নিশ্চিত করতে কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোয়ালিটি অব সার্ভিস রেগুলেশন অনুযায়ী, ইতোমধ্যে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অপারেটরগুলোকে বিভিন্ন নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। সেবার মানের বিষয়ে কমিশনের নির্দেশনা অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে জরিমানা ও শাস্তির বিধানও রয়েছে।
এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণফোনকে এসএমপি ঘোষণা করে বিটিআরসি। এ ঘোষণার ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণে কোম্পানিটির একচেটিয়া ক্ষমতা হ্রাস পাবে। অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রে বাজারে টিকে থাকার পথ তৈরি হবে।
