মুসলিম উম্মাহর ঐক্য শান্তি কামনায় শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩১

নিজ নিজ গুনাহ মাফ, সকল বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত ও রহমত প্রার্থনায় লাখো মুসল্লির আকুতিতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি লাভ, আত্মশুদ্ধি কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে তাবলিগ জামাতের ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা। মঙ্গলবার মাওলানা সা’দ অনুসারীদের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন দিল্লি মারকাজের হযরত মাওলানা মুহাম্মদ শামীম। সকাল ১১টা ৪৫মিনিটে আখেরী মোনাজাত শুরু হয়। তা চলে ১২টা ২ মিনিট পর্যন্ত।

১৭ মিনিট স্থায়ী এ আখেরি মোনাজাতে দেশের কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর সুদৃঢ় ঐক্য, দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি কামনা করা হয়। এ সময় দুই হাত তুলে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে ফরিয়দ জানায় লাখ লাখ মুসল্লি। আল্লাহর দরবারে আকুতি মিনতি করে চোখের পানিতে বুক ভাসায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

মোনাজাতে অংশ নিতে মঙ্গলবার ভোর হতেই চার দিক থেকে লাখ লাখ মুসল্লি যানবাহন না পেয়ে পায়ে হেঁটেই ইজতেমা ময়দানস্থলে পৌঁছান। আখেরি মোনাজাতের আগেই ইজতেমা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। পরে মুসল্লিরা ময়দানের আশপাশের অলি-গলি, রাস্তা, পার্শ্ববর্তী বাসা-বাড়ি, কল-কারখানা ছাদে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, টঙ্গী-ঘোড়াশাল ও কামারপাড়া সড়কে অবস্থান নিয়ে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন। এছাড়াও তুরাগ নদে নৌকায় বসে দলে দলে মুসল্লিরা আখেরি মোনাজাতে শামিল হতে দেখা গেছে। বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন পেশার মানুষ ছাড়াও নারীরা ভিড় ঠেলে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেয়। পুরো এলাকায় এক ধর্মীয় আবহ    বিরাজ করছিল। মোনাজাতের সময় নিজ নিজ গুনাহ মাফ চেয়ে মুসল্লিরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

২০২০ সালের বিশ্বইজতেমা

সা’দপন্থীদের আয়োজনে টঙ্গীতে ২০২০ সালের বিশ্বইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে ওই সনের ৩,৪ ও ৫ জানুয়ারি। বিশ্ব ইজতেমার মূল নজমের জামাতের সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ জানান, প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য ওই তারিখ বাছাই করা হয়েছে। এছাড়া টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে তাদের পক্ষের পাঁচদিনের জোড় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে এবছরের ২২ থেকে ২৬ নভেম্বর।

আর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের পর শনিবার মাইকে জোবায়ের অনুসারীরা ২০২০ সালের ইজতেমার তারিখ ঘোষণা করেন। সে অনুযায়ী মাওলানা জোবায়ের অনুসারীদের আগামী বিশ্ব ইজতেমার প্রথম দফা ২০২০ সালের ১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারি এবং ২য় দফা ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। আর তাদের পাঁচ দিনের জোড় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে ২০১৯ সালের ২৯ ও ৩০ নভেম্বর এবং ১,২ ও ৩ ডিসেম্বর।  

শেষ দিনে বয়ানকারী

মঙ্গলবার বাদ ফজর উর্দুতে বয়ান করেন দিল্লির মাওলানা হাফেজ ইকবাল নায়ার। পরে বাংলায় তরজমা করেন বাংলাদেশের  মাওলানা মুফতি ওসামা বিন ওয়াসিফ। সকাল ১০টার দিকে উর্দু ভাষায় হেদায়েতি বয়ান করেন দিল্লির মাওলানা মুহাম্মদ শামীম এবং বাংলায় তা তরজমা করেন মাওলানা আশরাফ আলী। পরে দিল্লির মাওলানা শামীম হেদায়েতির কিছু কথা বলে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন। এবারের বিশ্বইজতেমায় বিভিন্ন দেশ ছাড়াও ভারতের নিজামউদ্দিন মারকাজের শীর্ষ মুরুব্বী তাবলীগ জামাতের বিশ্ব আমির সা’দ কান্ধলভীর পক্ষে নেতৃত্ব দিতে তাবলীগ জামাতের ৩২ সদস্যের একটি দল টঙ্গীর ইজতেমায় যোগ দেন। এতে জিম্মাদারের নেতৃত্ব দেন দিল্লির মাওলানা মুহাম্মদ শামীম।

হেদায়তী বয়ানে যা বলেন

হেদায়তী বয়ানে মাওলানা মুহাম্মদ শামীম মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আল্লাহর জন্য দৈনিক ৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হবে এবং মসজিদে কমপক্ষে ২০ জনকে দীনের দাওয়াত দিতে হবে। পরামর্শ করে কাজ করলে তা সুন্দর ও সুষ্ঠু হয়। সকল কাজই পরামর্শ করে করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মসজিদে পরামর্শ করে দীনের দাওয়াত দিতে হবে। পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করলে আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়। 

আখেরি মোনাজাতে মহিলাদের অংশগ্রহণ

আখেরি মোনাজাতে মহিলা মুসল্লিগণ অংশ নিয়েছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শতশত মহিলা মুসুল্লি ইজতেমা ময়দানের আশপাশে, কল-কারখানা ও বাসা-বাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন।

বিদেশি মেহমান

সা’দ অনুসারী মাওলানা মো. আশরাফ আলী জানান, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও চীনসহ প্রায় ৩৬টি  দেশের তাবলীগ জামাতের সহস্রাধিক বিদেশি মেহমান এবারের ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেন।