মামলা করতে করতেই ঐক্যফ্রন্ট পঙ্গু হয়ে যাবে :কাদের

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৫

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে মামলা করতে করতেই ঐক্যফ্রন্ট পঙ্গু হয়ে যাবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সড়ক ভবনে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প প্রধানদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

গণশুনানির জন্য সরকার কোনো জায়গা দিচ্ছে না- ঐক্যফ্রন্টের এমন অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান তো আছে। গণশুনানি কাকে বলে, গণশুনানি না গণতামাশা। গণতামাশার জন্য অনুমতি চাইলে পুলিশ কমিশনারকে বলবো। তিনি বলেন, ‘সমালোচনা গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হতে পারে। বিরোধী দল না থাকলে, সমালোচনা না থাকলে শুদ্ধ হওয়া যায় না। কোনো ভুল করে থাকলে বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনা থেকে আমরা শুদ্ধ হতে পারি।’ ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের সরকারের             সমালোচনা নিয়ে আওয়ামী লীগ কী ভাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘১৪ দলের শরিকদের সমালোচনার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। তারা আজকে মুখ খুলেছেন, সমালোচনা করছেন। সরকার ভালোভাবে চলার জন্য এই সমালোচনাটি দরকার। গঠনমূলক বিরোধী দলের মাধ্যমে সংসদ আরও গতিশীল হতে পারে।’

সড়ক নির্মাণে গুণগতমান সুরক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের নির্দেশ প্রদান করে সড়ক মন্ত্রী বলেন, সড়ক নির্মাণকাজের গুণগতমান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আছে। কিছু কিছু সড়ক নির্মাণের তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। তাই সড়ক নির্মাণে গুণগতমান সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।  আগামী মার্চ মাসের প্রথমার্ধে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নবনির্মিত দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু চালু হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ঈদুল ফিতরে জনগণের ঘরে ফেরা স্বস্তিদায়ক করতে ঈদের আগেই দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে। ঢাকা-সিলেট এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ কাজও সরকার গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। এ দুটি মহাসড়কের দুপাশে ধীরগতির যানবাহন চলাচলের জন্য আলাদা দুটি লেন নির্মাণ করা হবে।

‘বেঁচে থাকতে কত টাকা লাগে?’:জানা গেছে, সভায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, কোথাও কোথাও তিন মাসে রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। যথাযথ মানসম্পন্ন সামগ্রী দিয়ে রাস্তা তৈরির সরকারের যে নির্দেশনা আছে, তা মানা হচ্ছে না। তিনি বলেন, বেঁচে থাকতে কত টাকা লাগে? টাকা দিয়ে কী করবেন? যারা ভালো ও সত্ তারাই এখন থেকে অসেদর ঠেকাবেন। রাস্তা তৈরিতে ও নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারে মানের ব্যাপারে, নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার ব্যাপারে কঠোর নজর দিতে হবে।

সভায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, বাস র্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পের পরিচালক সানাউল হক, সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-১ এর পরিচালক মো. ইসহাক এবং প্রকল্প-২ এর পরিচালক শাহরিয়ার আলম, ক্রস বর্ডার প্রকল্পের পরিচালক মো. আতিক, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুত্ সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক মঈনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।