মানসিক চাপ থেকে অবসাদ, বিষণ্ণতা, হতাশার মত সমস্যা গুলো তৈরি হয় সেকথা আমাদের জানা। কিন্তু জানেন কি এই মানসিক চাপ আপনার ওজন বেড়ে যাওয়ারও কারণ হতে পারে। তাই বলছে বিশেষজ্ঞদের মতামত।
যুক্তরাজ্যের লিডস ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চিকিৎসক গাইলস ইয়েও এ বিষয়ে গবেষণা করেছেন। গবেষণার কার্যক্রম হিসেবে লিডসের গবেষকরা গাইলসকে ‘স্ট্রেস ফুল’ কিছু করতে বললেন। একটি কম্পিউটারের সামনে গাইলসকে বসানো হয়।
তাঁকে ক্রমাগত ২০৪৩ থেকে ১৭ বিয়োগ করতে বলা হয়। বারবার করতে করতে একসময় তাঁর ভুল হচ্ছিল, যা তাঁকে চাপে ফেলছিল। তারপর তাঁর হাত বরফশীতল পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। এই পরীক্ষার আগে ও পরে গাইলসের রক্তে চিনির মাত্রা পরীক্ষা করেন গবেষকরা। এ রকম কয়েক দিন পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, গাইলস যখন অসম্ভব চাপে থাকেন, তখন তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে তিন ঘণ্টার মতো সময় নেয়, যা চাপমুক্ত থাকা অবস্থার তুলনায় ছয় গুণ বেশি।
গবেষকরা বলেন, যখন মানুষ চাপে থাকে, তখন শরীর ‘ফাইট’ মুডে থাকে। অর্থাৎ শরীর চাপ মোকাবেলায় ফাইট করতে থাকে। সে বেশি গ্লুকোজ নিঃসরণ করে পেশিতে শক্তি বা এনার্জি তৈরি করে। আবার চাপ নেওয়ার প্রয়োজন না হলে অগ্ন্যাশয় রক্তে শর্করার মাত্রা আবারও নিচে নেওয়ার জন্য ইনসুলিনকে পাম্প করে। আর রক্তে চিনির মাত্রা কমে আসা এবং ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে ক্ষুধা লাগে।
মানসিক চাপ তৈরি হওয়ার নানা কারণ থাকতে পারে। ক্লান্তি ও অনিদ্রাসহ নানা কারণে অবসন্নতা ভর করে জীবনে। এতে ঘন ঘন খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। যার ফলে শরীর আরো ক্লান্ত হওয়ার পাশাপাশি অলসতা বাড়তে থাকে।
আর এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে মানসিক চাপ কমানোর বিকল্প কিছু নেই। এক্ষেত্রে প্রথমেই আপনাকে মানসিক চাপ সৃষ্টির কারণ চিহ্নিত করতে হবে। এরপর এর থেকে বের হওয়ার উপায় বের করুন। নিজেকে সবসময় ভালো চিন্তার মধ্যে রাখুন। সুস্থ ও সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রতিদিন সকালে অন্তত আধঘণ্টা হাঁটুন। মানসিক প্রশান্তির জন্য যোগ ব্যায়াম করতে পারেন।
অনেকে অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির অধিক সময় কাজ করেন। এই অভ্যাস ত্যাগ করুন। অতিরিক্ত কাজের ফলেও মানসিক অবসাদ বাড়ে।
