ঘুম ভাঙতেই ফোন হাতে নিচ্ছেন? অজান্তেই হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্যের চরম ক্ষতি

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫১

প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে শুরু করে সারাদিন তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনাকাঙ্ক্ষিত তুলনা আধুনিক মানুষের মানসিক অবসাদ ও ক্লান্তির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠছে। মনস্তাত্ত্বিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দৈনন্দিন কাজের বাহ্যিক চাপের চেয়েও মস্তিষ্কে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত তথ্য প্রবেশ এবং সবকিছু নিয়ে অতিরিক্ত সচেতন থাকা মানুষকে দ্রুত অবসাদগ্রস্ত করে তুলছে।

বিবর্তন ও মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মন মূলত একটি নির্দিষ্ট ও ছোট সামাজিক পরিমণ্ডলে সীমিত সমস্যা মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে উঠেছিল। তবে বর্তমান ডিজিটাল যুগে দূরবর্তী অঞ্চলের সংকট, যুদ্ধ, অন্যের ব্যক্তিগত জীবনের সাফল্য বা ভ্রমণের ঝলকানি সার্বক্ষণিকভাবে চোখের সামনে হাজির হচ্ছে। ফলে নিজের বাস্তব জীবনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগসূত্র না থাকা সত্ত্বেও মানুষ অবচেতনভাবেই পৃথিবীর বহু বিষয়ের মানসিক চাপ নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের আপাত সফল জীবনের সঙ্গে নিজের বাস্তবতার ক্রমাগত তুলনা মানুষের মানসিক ভার আরও বাড়িয়ে দেয়। সামাজিক মাধ্যমে কেবল মানুষের জীবনের বাছাই করা ইতিবাচক মুহূর্তগুলোই প্রদর্শিত হয়, যা পুরো জীবনের প্রতিচ্ছবি নয়। এই কৃত্রিম তুলনায় জড়িয়ে পড়ার ফলে ব্যক্তি নিজের সক্ষমতা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে একধরনের অযাচিত অতৃপ্তিতে ভোগে।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মানসিক ক্লান্তি থেকে নিস্তার পেতে জীবনযাত্রায় কিছু মৌলিক শৃঙ্খলা আনা প্রয়োজন। এক মাসের দীর্ঘমেয়াদি দুশ্চিন্তায় একবারে ভারাক্রান্ত না হয়ে সময়কে ছোট করে এনে কেবল প্রতিদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া উচিত। পাশাপাশি কোন বিষয়টি নিজের নিয়ন্ত্রণে আছে এবং কোনটি কেবলই তথ্য—এই পার্থক্য স্পষ্ট করে অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের মানসিক দায় নেওয়া থেকে বিরত থাকা জরুরি।

এর পাশাপাশি ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সারাদিন নিরবচ্ছিন্নভাবে সামাজিক মাধ্যম বা সংবাদের পেছনে না ছুটে দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময় নিজেকে এসব থেকে পুরোপুরি দূরে রাখা এবং কর্মঘণ্টা শেষে নিজস্ব সময়কে আলাদা করাই মনোযোগ ও স্বস্তি পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি। সব বিষয় একসঙ্গে সামলানোর মানসিকতা পরিহার করে অপ্রয়োজনীয় তথ্য ও তুলনা জীবন থেকে বাদ দেওয়াই মানসিক অবসাদ কাটানোর সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

ইত্তেফাক/এনএন