জ্বর হলেই গোসল করছেন? নিজের অজান্তেই ডেকে আনছেন চরম বিপদ!

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৪

আবহাওয়ার পরিবর্তনের এই সময়ে প্রায় ঘরে ঘরেই মৌসুমি জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, জ্বর মূলত কোনো স্বতন্ত্র রোগ নয়; বরং শরীরে যেকোনো ধরনের বহিরাগত সংক্রমণ দেখা দিলে তার বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সক্রিয় লড়াইয়ের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিমিত পরিচর্যা ও বিশ্রামে জ্বর সেরে গেলেও অসচেতনতা এবং কিছু সাধারণ ভুলের কারণে অনেক সময় রোগমুক্তি বিলম্বিত হয়।

জ্বরের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি হলো পানিশূন্যতা। শরীরের উচ্চ তাপমাত্রা এবং ঘামের কারণে দ্রুত তরল পদার্থের ঘাটতি তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত বিরতিতে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা জরুরি। পানির পাশাপাশি খাওয়ার স্যালাইন (ওআরএস), ডাবের পানি, পুষ্টিকর স্যুপ কিংবা তাজা ফলের রস গ্রহণ করলে দ্রুত ক্লান্তি দূর হয় এবং মাথা ঘোরা বা তীব্র মাথাব্যথার মতো উপসর্গ এড়ানো সম্ভব হয়।

সংক্রমণ প্রতিরোধের পেছনে শরীরের শক্তি বেশি ব্যয় হওয়ায় এ সময় হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিকের চেয়ে ধীরগতির হয়ে পড়ে। ফলে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত ও ভারী খাবার পরিহার করার ওপর জোর দেন পুষ্টিবিদরা। দ্রুত শক্তি পুনরুদ্ধার ও শারীরিক সুরক্ষায় জাউভাত, পাতলা খিচুড়ি, ডাল, নরম সুজি বা টোস্টের মতো সহজপাচ্য ও হালকা খাবার গ্রহণ করাই সবচেয়ে উপযোগী।

জ্বর কমাতে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করার প্রচলিত ধারণাটি পুরোপুরি ভুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। বরফশীতল পানি ত্বকের সংস্পর্শে এলে শরীরে তীব্র কাঁপুনি তৈরি হতে পারে, যা শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রাকে উল্টো আরও বাড়িয়ে দেয়। এর পরিবর্তে স্বাভাবিক কিংবা কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করা অথবা ভেজা সুতি কাপড় দিয়ে সারা শরীর আলতো করে মুছে দেওয়াই বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি।

সুস্থতার জন্য কেবল ওষুধের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। পাশাপাশি সামান্য জ্বর হলেই নিজে নিজে ওষুধ সেবনের প্রবণতা পরিহার করে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে পরবর্তী সময়ে বড় কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি না হয়।

ইত্তেফাক/এনএন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন