সোমবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

রাজশাহীর নৌকা ‘ডোবালেন’ দলীয় নেতারা!

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৭:৫৭

সদ্য সমাপ্ত তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে রাজশাহীর একমাত্র নারী চেয়ারম্যান প্রার্থী ফাহিমা বেগম আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। প্রচারণায় নৌকা নিয়ে অনেকটা একাই মাঠে ছিলেন। তবে তিনি নৌকা নিয়ে পার হতে পারেননি। তার অভিযোগ, স্থানীয় এমপিসহ দলের নেতাকর্মীরাই নৌকা ‘ডুবিয়েছেন’।

ফাহিমা বেগম রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। তিনি জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও সংষ্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক। মহিলা আওয়ামী লীগের ইউনিয়নের সভাপতিও তিনি। গত ২৮ নভেম্বর ভোটযুদ্ধে চার চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে তিনি তৃতীয় হয়েছেন। যদিও এই ফলাফলের আভাস তিনি আগেই পেয়েছিলেন।

পারিলায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের ‘স্বতন্ত্র’ (বিদ্রোহী) প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের সাঈদ আলী মোর্শেদ। তিনি পেয়েছেন ১২ হাজার ৯৭৬ ভোট। এ ইউপিতে আওয়ামী লীগের আরেক ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ও সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল বারী ভুলু পেয়েছেন ৭ হাজার ৫১৩ ভোট। আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী ফাহিমা বেগম ৪ হাজার ৪০৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রাজু হোসেন হয়েছেন চতুর্থ।

জানা যায়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় বিজয়ী সাঈদ আলী মোর্শেদকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে ২৬ নভেম্বর ফাহিমা বেগম অভিযোগ করেছিলেন, সবই লোকদেখানো। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহরাব আলীই কাজ করেছেন বিদ্রোহী প্রার্থী সাঈদ আলীর হয়ে। প্রতিটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকেরাও সোহরাবের কথা শুনেছেন। আর সাইফুল বারী টানা ১৫ বছরের চেয়ারম্যান। তার কাছ থেকে যারা এতদিন সুবিধা পেয়েছেন তারা সাইফুল বারীর পক্ষে কাজ করছেন। আর তিনি কাজ করেছেন অনেকটা একা। ভোটের ফলাফলের চিত্রটা ফাহিমা বেগমের কথা প্রমাণ করছে।

এলাকার লোকজন জানান, দলীয় নেতাকর্মীরা পাশে না থাকায় ফাহিমার জামাতা পবার কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী প্রচারে গিয়ে ভোটের মাঠ গরম করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তির অভিযোগ উঠলে তিনিও বেকায়দায় পড়ে আর পারিলায় যাননি। হাতেগোনা কিছু কর্মী-সমর্থককে নিয়ে ফাহিমা ভোটের প্রচার চালিয়েছেন। 

জানা যায়, ২০১৬ সালের নির্বাচনেও তিনি নৌকা পেয়েছিলেন। তবে ধরাশয়ী হয়েছিলেন বিদ্রোহী সাইফুল বারীর কাছে। এবার হারলেন আরেক বিদ্রোহীর কাছে। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে মঙ্গলবার দুপুরে ফাহিমা বেগম বলেন, সরকার দলীয় একজন সংসদ সদস্য তাকে ফেল করিয়েছেন। এমপি নৌকা প্রতীককে অসম্মান করেছেন। তিনি এর বিচার চান।

ফাহিমা বেগমের মতে, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে নৌকা দিলেও এমপি মেনে নেননি। দুবারই দলের নেতাকর্মীরা কাজ করেননি। তারা নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। পারিলায় আওয়ামী লীগের এখন যারা নেতা, তাদের অনেকের ভাত জুটতো না। আমরা চাঁদা তুলে খাইয়েছি, পারিলাবাসী দেখেছে। তারা এখন তিনশো বিঘা পুকুরের মালিক। বিলাসবহুল বাড়ি। এমপির তাদেরকেই দরকার। এ কারণে আমার বিরোধিতা।’

এ বিষয়ে এমপি আয়েন উদ্দিন অবশ্য বলেন, ‘নৌকা নেওয়ার আগে তার (ফাহিমার) বিবেচনা করা উচিত ছিল জনসমর্থন আছে কি না? ভোটাররা তাকে পছন্দ করেনি বলেই বিদ্রোহীকে ভোট দিয়েছে। এতে আমার কী করার আছে! ভোট হয়েছে ফেয়ার। কেউ কোন প্রশ্ন তুলতে পারবে না। এমন তো না ফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে এখন কথা বলে কোন লাভ আছে?’ 

ইত্তেফাক/এসআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বন্ধুত্বের ফাঁদ পেতে ছিনতাই, স্বামী-স্ত্রীসহ গ্রেফতার ৪

রাজশাহীতে রাজনৈতিক সহিংসতার ১৯৮টি মামলা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি

রেড জোন রাজশাহীতে করোনা সংক্রমণের নতুন রেকর্ড

দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাওয়ায় বাবাকে হত্যা করে ট্যাংকে ফেলে দিলো ছেলে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

কমিটি বিলুপ্তি ও বহিষ্কারে পৃথক বার্তা দুই দলের 

চিকিৎসক সেজে হাসপাতালে, অতঃপর ধরা

মঞ্চে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে মারধর ইউপি চেয়ারম্যানের, থানায় অভিযোগ

রাজশাহীতে ফের করোনার থাবা