সোমবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেলেন সক্রিয় শিবির কর্মী

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৫:৫০

ঠাকুরগাঁওয়ে একসময়ের সক্রিয় শিবির কর্মী আলাউদ্দিন আলাল মাস্টার এবার নৌকার মাঝি হয়েছেন। চতুর্থধাপে ইউপি নির্বাচনের উদ্দেশ্যে ঠাকুরগাঁও সদরের ১৭ নং জগন্নাথপুর ইউনিয়ন থেকে তিনি আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ সহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন নেতা কর্মীরা। 

এই বিষয়ে জগন্নাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি দেবেশ চন্দ্র শর্মা ও সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার রায় স্বাক্ষরিত বেশকিছু নথিপত্র ও অভিযোগনামা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে পাঠানো হয়। সেই অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে যে, আলাল মাস্টার এক সময় সক্রিয় শিবির কর্মী ছিলেন। পরে ২০০৯ ও ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি ইউনিয়ন জামাতের জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে বিএনপিতে যোগদান করে, বিএনপির দলীয় সমর্থন নিয়ে ২০১২ সালের ইউপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়। এর পরে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির হয়ে ভোটকেন্দ্র ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের অভিযোগ রয়েছে। 

অভিযোগ পত্রে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, তিনি সময়ে বিভিন্ন আ.লীগ কর্মী ও ভোটারদের উপরে নির্যাতন করতেন। এর পর ২০১৫ সালে সুকৌশলে তিনি আ.লীগে যোগদান করেন। পরে ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে হঠাৎ তিনি আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক পেয়ে জান এবং নির্বাচিত হন। 

এর পর আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী নিয়ে আলোচনা শুরু হলে ২০১৯ সালে প্রকাশিত রংপুর বিভাগের ৩৮৯ জন অনুপ্রবেশকারীর তালিকায় তার নাম উল্লেখ করা হয়।

জামাত শিবিরের সাথে যুক্ত থাকার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম বলেন, সে ছাত্র জীবনে ছাত্র শিবিরের সাথে যুক্ত ছিলেন। আলালের সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তাকে জগন্নাথপুর ইউনিয়নে জেনারেল সেক্রেটারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

আলাল মাস্টারের বিষয়ে অভিযোগ পাঠানোর বিষয়ে কথা হয় জগন্নাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি দেবশ চন্দ্র শর্মার সঙ্গে। তিনি বলেন, আলাল মাস্টারতো সুবিধাদি লোক। যেই দল ক্ষমতায় থাকবে, সে সেই দলের হয়ে যাবে। তার ভাই জেনারুল এখনও ইউনিয়ন বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক। 

তার বেশিরভাগ কর্মী বিএনপি জামাতের। উনি এই মেয়াদে আওয়ামীলীগ কর্মীদের সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত রেখে বিরোধীদের নিয়ে কাজ করেছেন। আবার উনি নৌকার প্রতীকে নির্বাচনে গেলে আ.লীগ এই ইউনিয়নটি হারাতে পারে এমন শঙ্কায় আছি।

সেই ইউনিয়নের তৃনমূল আওয়ামীলীগ কর্মী মিজানুর বলেন, আলাল বাদে যে কাউকে নৌকা দেয়া হোক। আমরা পাশে থাকবো। কিন্তু আলাল মাস্টার আর না। তিনি এবার টিআর, কাবিখা ও বয়স্ক ভাতার বেশিরভাগ সুযোগ সুবিধা দিয়েছন বিএনপি পন্থীদের। এতে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। তার বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ থাকার পরেও কিভাবে সে নৌকা পায় তা বুঝতে পারিনা। এবার প্রয়োজনে নির্বাচন করবোনা তবুও তার তার নির্বাচনে আমরা থাকবোনা।

বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী আলাল মাস্টার বলেন, আমি বিএনপির সমর্থন করতাম। জামাত শিবিরের সঙ্গে সম্পর্ক এটা কিন্তু অনেক আগের কথা। এই বিষয়ে আমি বেশি কিছু বলতে চাচ্ছিনা।

এই বিষয়ে ঠাকুরগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অরুণাংশু দত্ত টিটু জানান, হ্যা আলাল মাস্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি আমি জানি। যারা নৌকা প্রতীক চেয়ে পায়নি তারাই এসকল অভিযোগ নিয়ে ঘুরছে। তিনি এর আগেও নৌকার প্রতীকে নির্বাচন করে জয় পেয়েছেন। হয়তো সেই কারণেই কেন্দ্র থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

কমিটি বিলুপ্তি ও বহিষ্কারে পৃথক বার্তা দুই দলের 

মঞ্চে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে মারধর ইউপি চেয়ারম্যানের, থানায় অভিযোগ

আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এনে ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

জয়নাল হাজারীর কুলখানিতে ১৫ হাজার লোক খাওয়াবেন নিজাম হাজারী

নৌকায় ভোট চাওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে জখম

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বয়কট করলো সিলেট আওয়ামী লীগ

‘যারা নৌকা করে তারা রাজাকারের বাচ্চা’