ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৩১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের বহনকারী তিনটি হায়েস মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত মুন্সিগঞ্জ সদর ও শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের আটক করা হয়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তারা গভীর রাতে মাইক্রোবাসে করে এক্সপ্রেসওয়েতে জড়ো হয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে আকস্মিক ঝটিকা মিছিল বের করার পরিকল্পনা করছিলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার একটি চেকপোস্টে প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে তল্লাশি চালিয়ে একটি মাইক্রোবাসসহ ১০ জনকে আটক করা হয়। এরপর রাত পৌনে দুইটার দিকে সদর থানার হাতিমারা মোড়ের চেকপোস্টে অপর একটি মাইক্রোবাস থেকে ১১ জনকে আটক করে পুলিশ। অন্যদিকে রাত দুইটার দিকে শ্রীনগর থানাধীন ছনবাড়ি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন চেকপোস্টে তৃতীয় মাইক্রোবাসটি থামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে আরও ১০ জনকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয়।
শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমান জানান, এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস সড়কে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ছনবাড়ি এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখান থেকে একটি মাইক্রোবাসসহ ১০ জনকে আটক করা হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মিছিলের প্রস্তুতির কথা স্বীকার করেছেন।
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন জানান, সদরের দুটি পৃথক এলাকা থেকে দুটি মাইক্রোবাসসহ ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া মোট ৩১ জনের বিরুদ্ধেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়েরের পর মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

