স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক কাজে নেতৃত্ব ও যুব সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বাংলাদেশি আশিক আহাম্মেদ। গত সপ্তাহে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ন্যাশনাল অ্যাসেম্বেলি হলে 'গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড ২০২১' অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা তুলে দেন দেশটির উপ-রাষ্ট্রপতি নন্দ বাহাদুর পুঁন।
প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যুবকদের ইতিবাচক কাজের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অ্যাওয়ার্ডজয়ী আশিক আহাম্মেদ বর্তমানে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের ইবরাহীম খাঁ সরকারি কলেজর শিক্ষার্থী।
পুরষ্কার জয়ের অনুভূতি জানতে চাইলে আশিক বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করে আসছি। আর সে কাজের স্বীকৃতি পেলাম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। এ সম্মাননা আমার কাজের গতি আরো বাড়িয়ে দিবে।’
আশিক ২০১৭ সালের দিকে টাঙ্গাইল এসোসিয়েশন অব কুয়েট নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে যুক্ত হন, যেটি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত টাংগাইলের শিক্ষর্থীদের সংগঠন। এর পর থেকে স্বেচ্ছাশ্রম ও মানবিক বিভিন্ন কাজের প্রতি তার আগ্রহ বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশ স্কাউটস, ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ, লিও ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল সহ একাধিক সংগঠনে সমাজ উন্নায় ও মানবতার ব্রত নিয়ে কাজ করছেন আশিক। সেসব সামাজিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেছেন মাও সেতুং ইয়ুথ ইনভেনশন পুরস্কার, ন্যাশনাল সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড আর সাম্প্রতিক সময়ে গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড। এছাড়াও তিনি বিতর্কসহ নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত।
বর্তমানে দেশব্যাপি ১০০ টি'রও বেশি সমাজ উন্নায়মুলক প্রজেক্টে কাজ করছেন আশিক; যেসব কাজ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ১৭ লক্ষ্য বাস্তাবায়নের অন্তর্ভুক্ত। তার মধ্যে শিশুশ্রম নিরোধ কার্যক্রম, মাদক বিরোধ কার্যক্রম, অবহেলিত ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের জীবন যাত্রার মান-উন্নয়ন অন্যতম।
সমাজের উন্নয়নে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আজীবন কাজ করে যাবেন বলে আশিক দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ভবিষ্যতে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করবেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, গ্লোবাল ইয়ুথ পার্লামেন্ট’ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণদের মেধা ও নেতৃত্ব যাচাই নিয়ে কাজ করে। সংস্থাটি ২০১৪ সালে নেপালে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে বিশ্বের ৮০টি দেশে কাজ করছে। প্রতিবছর চারটি ক্যাটাগরিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যুবকদের কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্মাননা দিয়ে থাক। তারা মূলত উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন, গণতন্ত্র শক্তিশালী করা, নতুন সুযোগ তৈরি করা ও একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরি করা নিয়ে কাজ করে। এ জন্য প্রতিবছর বিশ্বের নানা দেশের যুব লিডারদের নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ সামিট করে থাকে।
