দায়িত্বপ্রাপ্তরা রহিয়াছেন কেন?

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০

সড়ক-মহাসড়ক এবং জলপথে বিশৃঙ্খলা এবং প্রাণহানির অন্যতম প্রধান কারণ হিসাবে ফিটনেসবিহীন এবং অনুমোদনবিহীন যানবাহন বহুল আলোচিত। আমরা দেখিয়া আসিতেছি কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই এবং সরকারিভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করিবার পরও দীর্ঘদিন ধরিয়া সারা দেশের সড়ক-মহাসড়ক দাপাইয়া বেড়াইতেছে তিন চাকার ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ট্রাক্টর-ট্রলি, নসিমন-করিমন, ভটভটি, ট্রাক্টর এবং লেগুনার মতো ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন। প্রতিদিনই পত্রপত্রিকা এবং মিডিয়ার শিরোনামে উঠিয়া আসিতেছে এই সকল ফিটনেসবিহীন এবং অনুমোদনবিহীন যানবাহনের খবর। কেবল সড়ক-মহাসড়কেই নহে, সারা দেশের নৌপথে ট্রলার, বালুবাহী জাহাজ, স্পিডবোট এবং ইঞ্জিনচালিত অন্যান্য নৌযান মিলাইয়া কয়েক হাজার অবৈধ এবং সম্পাদকীয়অনিবন্ধিত নৌযান চলাচল করিতেছে। ইহার ফলে নৌপথে দুর্ঘটনা বাড়িতেছে, বাড়িতেছে হতাহতের সংখ্যাও।

সারা দেশের সড়ক পরিবহন খাতের সমস্যা দূরীকরণ, উন্নয়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণ লইয়া কাজ করিবার জন্য দেশে রহিয়াছে সড়ক পরিবহন এবং সেতু মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অধীনে রহিয়াছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, ইহার অধীনে রহিয়াছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ। এই সকল সংস্থাগুলির জন্য রহিয়াছে আলাদা আলাদা দপ্তর-অধিদপ্তর-পরিদপ্তর, রহিয়াছেন সচিব হইতে শুরু করিয়া বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাও। সড়ক-মহাসড়ক দেখভাল করিবার এত বন্দোবস্ত থাকিবার পরও এইখানে নাই কোনো শৃঙ্খলা, অবাধে রাস্তায় চলাচল করিতেছে অবৈধ এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন। নিষিদ্ধ করিবার পরও সড়কে অবৈধ যানবাহনগুলি কী করিয়া চলাচল করিতে পারে তাহা আমাদের অবাক না করিয়া পারে না। 

রাজধানীর অভ্যন্তরে এবং সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কে চলাচলরত বাসগুলির যান্ত্রিক ফিটনেস লইয়া এত আলোচনা-সমালোচনা, অথচ সেইগুলি তদারকির ভার রহিয়াছে বিআরটিএ-র উপরে। এই সকল যানবাহনগুলির ফিটনেস পাইতে ব্রেক-গিয়ার ঠিক রাখা, দরকারি বাতি থাকা, কালো ধোঁয়া বাহির না হওয়া, রং ঠিক থাকাসহ অন্তত ৩৬ ধরনের কারিগরি ও বাহ্যিক বিষয়ে পরীক্ষা করাইতে হয়। অথচ এই সকল পরীক্ষা ছাড়াই রাস্তায় রহিয়াছে হাজার হাজার ফিটনেসবিহীন গাড়ি। অন্যদিকে সারা দেশের নৌযানের সার্বিক কার্যক্রম দেখভালের দায়িত্ব নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের। ইহা ছাড়াও নৌপথের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষা করিবার জন্য নৌপুলিশ এবং কোস্ট গার্ড দায়িত্ব পালন করিয়া থাকে। সড়ক ও নৌপথ তদারকি করিবার জন্য এতসকল সংস্থা ও ব্যবস্থাপনা থাকিবার পরও সড়ক ও নৌপথে অবৈধ, নিষিদ্ধ এবং ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধে তেমন কোনো উদ্যোগ কিংবা পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয় না বলিলেই চলে।

সড়কে ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ গাড়ি চলাচলের বিষয়ে নূতন সড়ক পরিবহন আইনে শাস্তি ও জরিমানা বাড়ানো হইলেও আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবে থামানো যাইতেছে না এই সকল যান চলাচল। দ্বিধাদ্বন্দ্ব ব্যতিরেকেই বলা যাইতে পারে যাহাদের এই সকল বিষয়ে কাজ করিবার কথা তাহারা কাজ করিতেছেন না। সুতরাং যাহাদের উপর সড়ক এবং নৌপথে চলাচলকারী যানবাহনগুলি দেখভাল করিবার দায়িত্ব তাহারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করেন, তাহা হইলে এত এত সংস্থা, অফিস, জনবল থাকিবারই কী প্রয়োজন! 

পরিবহন খাত দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। বিশৃঙ্খল এবং অনিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রতিবন্ধক। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরাইবার নিমিত্তে অবৈধ এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনগুলির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে। আমরা আশা করিব সড়কের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি আন্তরিকতার সহিত দায়িত্ব পালন করিবে।

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন