দক্ষিণ মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের কারণে দুবলার চরের ১২ সহস্রাধিক শুঁটকি জেলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া বিভাগ ২ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে।
দুবলার আলোরকোল থেকে শুক্রবার দুপুরে রামপালের সমুদ্রগামী জেলে সমিতির সেক্রেটারি মো. তাহের আলী মোবাইল ফোনে জানান, ওড়িশা ও অন্ধ্র উপকূলের দিকে ধেয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদে দুবলার চর অঞ্চলের প্রায় ১২ সহস্রাধিক জেলে মৎস্যজীবী উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। ওড়িশা ঝড়ে আক্রান্ত হলে তার প্রভাব দুবলার চরে পড়বে। সেটি হলে বৃষ্টিপাতে দুবলার ৭০০ জেলে ঘরের কোটি কোটি টাকার শুঁটকি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া ঝড়ের সময় আলোরকোলে জেলেদের আশ্রয়ের জন্য একটি সাইক্লোন শেল্টার থাকলেও সেটি জরাজীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। বর্তমানে সাগর কিছুটা উত্তাল ও দুবলার আকাশে মেঘ জমতে শুরু করেছে বলে জেলে তাহের আলী জানান।
দুবলার মাঝের চর থেকে খুলনার মৎস্যজীবী ফরিদ মিয়া জানান, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের সম্ভাব্য আঘাতের আশঙ্কায় দুবলার চরের জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। দুবলার মেহেরআলী, মাঝেরকিল্লা, অফিসকিল্লা, আলোরকোল, শ্যালারচরে বিদ্যমান সাইক্লোন শেল্টারগুলো জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় জেলেরা ঝড়ের সময় অনেকটা আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছেন বলে ফরিদ মিয়া জানান।
দুবলা রেড ক্রিসেন্ট সিপিপি কমিটির সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, বাংলাদেশ আবহাওয়া বিভাগ ইতিমধ্যে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করেছে। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের গতিবিধি ও আবহাওয়া বিভাগের সংকেতের প্রতি নজর রাখা হচ্ছে। দুবলার জেলেদের সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। ঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কায় জেলেদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক বলে কামাল উদ্দিন জানিয়েছেন। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন ইত্তেফাককে জানান, ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের কারণে সুন্দরবন উপকূলের সব ফরেস্ট স্টেশন ও টহল ফাঁড়িকে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সাবধানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
