দুই দফা মীমাংসার পর বাড়িতে গিয়ে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৫১

গাজীপুরের কালীগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দফা মীমাংসার পর বাড়িতে গিয়ে হামলায় প্রহলাদ চন্দ্র বর্মণ (৫৫) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। হত্যা ও বিচারের দাবিতে দুপুরে স্থানীয়রা রাস্তায় বিক্ষোভ করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ​

মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার মূলগাঁও (বর্মণপাড়া) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার রাতে নিহতের ছেলে গোবিন্দ চন্দ্র বর্মণ বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা (নং ২৫) দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ মো. শুক্কুর আলী (৩৮) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছে। 

নিহত প্রহলাদ চন্দ্র বর্মণ উপজেলার মূলগাঁও (বর্মণপাড়া) গ্রামের মৃত মদন চন্দ্র বর্মণের ছেলে। তিনি পার্শ্ববর্তী পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল বাজারে মাছের ব্যবসা করতেন। গ্রেপ্তার হওয়া শুকুর আলী একই উপজেলার বাঘেরপাড়া গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে। তিনি রিকসা চালাতেন।  

মামলার বাদী জানান, মঙ্গলবার বিকেলে জাঁকের পার্টির গান বাজিয়ে রিকসা চালিয়ে আসছিলেন শুকুর আলী। মূল-গাঁও বর্মণপাড়া এলাকায় এলে গোবিন্দ তাকে ফরিদপুরী বলে কুশলাদী বিনিময় করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্কুর আলী তাকে মারধর করে। খবর পেয়ে গোবিন্দের বাবা প্রহলাদ ও পরিবারের লোকজন এসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। 

পরে শুক্কুর আলী তার ভগ্নীপতি সেলিম মিয়া (৪৫) ও ভাগনে ফয়সালকে (১৯) নিয়ে পুনরায় গোবিন্দদের বাড়িতে আসেন। গোবিন্দকে না পেয়ে তারা বাবা প্রহলাদ, মা ও বোনকে মারধর করেন। স্থানীয়রা এসে আবারও বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়। 

আরো পড়ুন: সন্ত্রাস মোকাবেলায় ভারতের পাশে থাকবে সৌদি: যুবরাজ

গোবিন্দর বাবা প্রহলাদ স্থানীয়দের কাছে বিচার দাবি করে বাড়িতে ফেরার সময় রাস্তায় ঢলে পড়েন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। পরিবারের দাবি মারধরের কারণেই প্রহলাদের মৃত্যু হয়েছে।
 
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুবকর মিয়া জানান, ওই মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকীরা পলাতক থাকলেও তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

ইত্তেফাক/অনি