শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যু: অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি ঢাবি শিক্ষক সমিতির

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২২, ১৯:০২

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষক ড. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ‘একটি ছাত্র সংগঠনের’ অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (ডুটা)। তবে অপরাধীরা কোন ছাত্র সংগঠনের তার নাম উল্লেখ করা হয়নি শিক্ষক সমিতির বিজ্ঞপ্তিতে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের মানসিক নির্যাতনে শাহ আমানত হলের প্রাধ্যক্ষ এবং ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেনের অপমৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে একটি ছাত্র সংগঠনের বিশ^বিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে কিছু ছাত্র শাহ আমানত হলের ডাইনিং ম্যানেজার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তার উপর মানসিক নিপীড়ন চালান। তিনি বাসায় ফিরে এ ঘটনা তার পরিবারকে জানান। শিক্ষার্থী নামধারী দুর্বৃত্তদের দ্বারা লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনা সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ বলেন, কোন ছাত্র সংগঠন এ কাজ করেনি। ছাত্র সংগঠনের পরিচয় দিয়ে ছাত্র নামধারী কিছু দুর্বৃত্ত এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। তিনি বলেন, ছাত্র সংগঠন সবসময় পবিত্র। ব্যক্তি এখানে আসল দোষী। সেজন্য আমরা ছাত্র সংগঠনের নাম উল্লেখ করিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মনে করে আত্মসম্মান ও মর্যাদাবোধই একজন শিক্ষকের নৈতিক শক্তির ভিত্তি। কুয়েটের শিক্ষক ড. সেলিম হোসেন ছাত্রনামধারী দুর্বৃত্তদের অনৈতিক চাপে মাথানত না করে শিক্ষকদের মর্যাদা সমুন্নত রেখেছেন।

কুয়েট কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুয়েত কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটি যেন সব ধরনের প্রভাবমুক্ত থেকে প্রকৃত অপরাধীদের খুজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সুপারিশ করে এবং কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে ছাত্র নামধারী দুর্বৃত্তমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণ করতে হবে। কুয়েটের ঘটনার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কুয়েটের লালন শাহ হলে ছাত্র আবাসিক হলের ডিসেম্বর মাসের খাদ্য ব্যবস্থাপক (ডাইনিং ম্যানেজার) নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার প্রচেষ্টার অভিযোগ ওঠে সেজান প্যানেলের বিরুদ্ধে। তারা হল প্রভোস্ট ড. সেলিম হোসেনকে নিয়মিত হুমকি দিতেন তাদের মনোনীত প্রার্থীকে নির্বাচিত করার জন্য। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেজানের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ ক্যাম্পাসের রাস্তায় ড. সেলিমকে জেরা শুরু করে। পরবর্তীতে তার সঙ্গেই তড়িৎ প্রকৌশল ভবনে প্রবেশ করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা আনুমানিক আধাঘণ্টা ওই শিক্ষকের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।

ইত্তেফাক/ইআ