| স্বা স্থ্য সে বা |
ডা. তাসনিম জারা
সহায়
সাবলীল বাচনভঙ্গি আর তথ্যবহুল ঘরোয়া পদ্ধিতে বিজ্ঞানভিত্তিক মেডিকেল স্বাস্থ্যসেবার পরামর্শদানের জন্য ডা. তাসনিম জারা ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন। করোনার মহামারীর সময় মানুষকে সহজে ঘরে বসে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য অনলাইনভিত্তিক মেডিকেল প্ল্যাটফর্ম 'সহায়’ গড়ে তুলেছেন তিনি। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে নিয়মিত মানুষকে স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হচ্ছে তার এই ভিডিওগুলো দেখে।
ডা. তাসনিম জারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এভিডেন্স-বেজড মেডিসিনে স্নাতকোত্তর করছেন। বর্তমানে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সুপারভাইজার এবং ইন্টেগ্রেটেড ফাউন্ডেশন অব মেডিকেল এডুকেশন কোর্সে কাজ করছেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের পড়াচ্ছেনও তিনি। পাশাপাশি একজন পেশাদার চিকিৎসক হিসেবে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল প্যাপওয়ার্থ হাসপাতালে কাজ করেন। করোনার মহামারীর সময় সম্মুখে থেকে কাজ করায় পেয়েছেন ব্রিটিশ সরকারের ‘ভ্যাকসিন লুমিনারি’ স্বীকৃতি। জারার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল এখন তুমুল জনপ্রিয়।
| শি ক্ষা |
আয়মান সাদিক
টেন মিনিট স্কুল
বিশ্ববিদ্যালয় থাকাকালীন কোচিং সেন্টারে ক্লাস নেওয়ার সময় ঢাকার দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের সীমাবদ্ধতা, গরিব ও মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের দুঃখ-দুর্দশা তাকে ভাবিয়ে তোলে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা শিক্ষা প্রশাসন থেকে স্নাতক পড়ার শেষদিকে কয়েকজন সহপাঠীকে সাথে নিয়ে গড়ে তোলেন অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘টেন মিনিট স্কুল’। শুরুর দিকে অ্যাকাডেমিক বিষয়ে ভিডিও তৈরি করলেও সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণের লক্ষ্য অ্যাকাডেমিক, ক্যারিয়ার, চাকরি-বাকরিসহ আত্মউন্নয়নমূলক ভিডিও তৈরি করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ভিডিও থেকে প্রতিদিন শিক্ষা গ্রহণ করছেন প্রায় সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী।
আয়মান সাদিক দেশের ডিজিটাল শিক্ষা বাস্তবায়নে অবদান রাখা ও শিক্ষা ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব সাড়া ফেলার জন্য কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন সরকারের গ্লোবাল আইসিটি অ্যাওয়্যার্ড। যুক্তরাজ্যের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের হাত থেকে পেয়েছেন কুইন্স লিডার্স অ্যাওয়ার্ড। এছাড়াও ২০১৮ সালে বিশ্বের জনপ্রিয় সাময়িকী ফোর্বসের থার্টি আন্ডার থার্টি-তে জায়গা করে নিয়েছেন। লেখক হিসেবেও তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। এখন পর্যন্ত যৌথভাবে ৪টি আত্নউন্নয়নমূলক বই লিখেছেন এবং ১টি একক বই লিখেছেন। বইগুলোও শিক্ষার্থীদের মাঝে সাড়া জাগিয়েছে।
| বি জ্ঞা ন ও টে ক |
আশিকুর রহমান তুষার
এটিসি
বিভিন্ন কোম্পানির অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের রিভিউয়ের জন্য বেশ জনপ্রিয় অ্যান্ড্রয়েড টোটো কোম্পানি বা সংক্ষেপে এটিসি। নিত্যনতুন বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফোনগুলোর দুর্বলতা, চার্জিং, কার্যক্ষমতাসহ পূঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা হয় এই ইউটিউব চ্যানেলে। নিরপেক্ষ পর্যালোচনার জন্য দিন দিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এটিসি।
কলেজে পড়ার সময় আশিকুর রহমান তুষার তার আরো কয়েকজন সহপাঠীকে নিয়ে এটিসি গড়ে তুলেন। এটিসি সম্প্রতি দুটি নতুন শো শুরু করেছে। একটি শোতে টিমের সবাই মোবাইল ফোনের প্রযুক্তি বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করে, যে বিষয়গুলো প্রত্যেক ব্যবহারকারীর জানা দরকার। আরেকটি হল 'ছুঁড়ে ফেলুন', যেখান তারা প্রতিটি ভিডিওতে কয়েকটি বিষয় সংক্ষেপে পর্যালোচনা করেন এবং দূর্বল ও ক্রুটিপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরেন।
| সা ই বা র স চে ত ন তা ও ভ্র ম ণ |
মুনজুরুল করিম
সাইবার লাইফ
তথ্য প্রযুক্তির উৎকর্ষে ইন্টারনেটের ব্যাপক পরিসরের কারণে প্রতিনিয়তই বাড়ছে সাইবার অপরাধ। আর এসব অপরাধ বন্ধ করতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সাইবার বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনলাইনে ‘সাইবার লাইফ’ নামে অনুষ্ঠান শুরু করেন মুনজুরুল করিম। যেখানে সাইবার জাগতের সব অপরাধের খবর এবং তার আইনি প্রতিকারসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকেন তিনি। এর আগে তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান ‘তালাশ’-এ দীর্ঘদিন উপস্থাপক হিসেবে কাজ করেছেন।
সাইবার লাইফ-এর পাশাপাশি মুনজুরুল করিম দেশ-বিদেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়েও ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রকাশ করে থাকেন। এ আয়োজনের নাম দিয়েছেন ’মুভ উইথ মুনজুরুল করিম'। তার ভ্রমণের সেসব ভিডিও প্রতিনিয়তই দেখছেন লাখ লাখ মানুষ। চমৎকার উপস্থাপনার জন্য সহজে সবাইকে আকর্ষণ করছে তার ভ্রমণের ভিডিওগুলো।
| বি নো দ ন |
শামস আফরোজ চৌধুরী
থটস অব শামস
শামস আফরোজ চৌধুরী ‘থটস অব শামস’ নামেই পরিচিত। বিচিত্রধর্মী নানান হাসির ভিডিওর মাধ্যমে তিনি দর্শকদের বিনোদন দিয়ে যাচ্ছেন। কখনো ভিডিওতে হাজির হন নানীর চরিত্রে, কখনো মা, বাবা কিংবা কখনোবা পাশের বাসার আন্টি হয়ে। পাশের বাসার কুলসুম-শামসুর প্রেমকাহিনী নিয়েও হাজির হন তিনি। প্রতিটি চরিত্রে থাকে সমাজের নানা বাস্তবতার চিত্র, সাথে নানান ভঙ্গিতে অভিনয়ের মাধ্যমে থাকে বিনোদনও। ভিডিওগুলোও প্রতিনিয়তই ভাইরাল হচ্ছে ফেসবুকে।
বারবার সরকারি চাকরির চেষ্টা করেও না পেয়ে হতাশার কথাগুলো দিয়ে ভিডিও তৈরি করেন এই তরুণ। ছোট ছোট ভিডিও বানিয়ে ফেসবুকে আপলোড করে হতাশাকে কাটিয়ে উঠতে চেয়েছেন। এরমধ্যে পনেরো হাজার টাকা বেতনে একটা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন, কিন্তু করোনার কারণে স্কুল থেকে বেতন না দেয়ায় চাকরিটা ছেড়ে দিতে হয়। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত বিনোদনমূলক ভিডিও আপলোড করতে থাকেন। খুব দ্রত তার ফলোয়ার বাড়তে থাকে। ইতোমধ্যে ফেসবুক-ইউটিউব মিলে তার অনুসারি প্রায় সাড়ে ৩ মিলিয়ন। শখের বসে তৈরি করা ভিডিওই এখন পরিণত হয়েছে তার পেশায়।
| মু ভি রি ভি উ |
রাশেদুজ্জামান রাকিব
আরএনএআর
ব্যতিক্রমি বাচনভঙ্গিতে সিনেমার গল্পের অসঙ্গতি, দূর্বল সংলাপ, ট্রেলারের ত্রুটি, কাহিনির নকল ধরিয়ে দেওয়ার কাজ করেন রাশেদুজ্জামান রাকিব। এর পাশাপাশি ভালো সিনেমার প্রশংসা করে আলোচনা-সমালোচনার জন্য সিনেমাখোরদের কাছে জনপ্রিয় রাকিবের প্ল্যাটফর্ম 'আরএনএআর'। রাকিব জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করেন।২০১৭ সালে ‘আরএনএআর’ নামে ইউটিউব চ্যানেল খুলেন, যার সাবস্ক্রাইবার ইতোমধ্যেই ১ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। রাকিব রুটিনমাফিক প্রতি সপ্তাহে একটি করে রিভিউ আপলোড করে থাকেন।
পরিবর্তনের প্রত্যয়ে আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে বাংলা সিনেমার দুর্বল দিকগুলো তুলে ধরেন এই তরুণ। ভালো কাজগুলো নিয়েও করেন প্রশংসা। তার কথা বলার ধরন একদমই ব্যতিক্রম হওয়ায় তা দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিনোদনের পাশাপাশি তার ভিডিওতে থাকে নানারকম যুক্তি, সিনেমার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ।
| ফু ড রি ভি উ |
ফাহরিন ফাইজা
ক্ষুধা লাগছে
দেশে ভোজনরসিকদের কাছে 'ক্ষুধা লাগছে’ চ্যানেলটি বেশ জনপ্রিয়। চ্যানেলটির উদ্যোক্তা ফাইজা। নিজেও পরিচিত হয়ে উঠেছেন ‘ক্ষুধা লাগছে আপু’ নামে। কখনো ক্যামেরার পেছনে দাঁড়ান বার্গার থেকে শুরু করে পিৎজা আবার কেক থেকে চিকেন ফ্রাই, সবধরনের খাবারের রিভিউ নিয়ে।
শহরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে নিজের বাসা, সবখানে ফাইজা হাজির হন নানারকম খাবারের ভালো মন্দ নিয়ে। কখনো কথা বলেন সেসব খাবার তৈরির প্রক্রিয়া নিয়েও। ফাইজার চ্যানেলটিতে ইতোমধ্যে ১ মিলিয়নেরও অধিক ফলোয়ার যুক্ত হয়েছে। ‘ক্ষুধা লাগছে'র পাশাপাশি 'ফাইজা' নামেও তার আরও একটি চ্যানেল রয়েছে, যেখানে তিনি বিভিন্ন জামা-কাপড়, দৈনন্দিন জীবনের নানা আসবাব সামগ্রী নিয়েও ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করে থাকেন। আর তার সব কাজে, ক্যামেরা থেকে শুরু করে ভিডিও এডিটিংয়ের পেছনে থাকেন তার স্বামী সাদী।
