সোমবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ৩ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

চলনবিল জাদুঘর

অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে দুর্লভ নিদর্শন

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:৪৫

চলনবিল জাদুঘরের নামে সাইনবোর্ড আছে। আছে পুরোনো একটি ভবনও। তবে জাদুঘরে রক্ষিত দুর্লভ প্রাচীন নিদর্শনগুলোর অনেক কিছুই সেখানে নেই। নিদর্শন না থাকায় জাদুঘরটিতে লোক সমাগমও নেই। জাদুঘরটির সর্বত্র এখন অযত্ন ও অবহেলার ছাপ।

জানা গেছে, আবু বক্কার নামের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী জাদুঘরটির দেখাশোনা করছেন। ঐ কর্মচারী দিয়েই কয়েক বছর ধরে চলছে জাদুঘরের কার্যক্রম। দায়িত্বে থাকা কর্মচারী আবু বক্কার জানান, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এবং রাসায়নিক পরিচর্যার জন্য জাদুঘরে রক্ষিত লক্ষ্মী, সরস্বতী ও কৃষ্ণ মূর্তিসহ বেশ কিছু মূল্যবান নিদর্শন প্রায় পাঁচ বছর আগে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। তা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি।

গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর গ্রামে ১৯৭৮ সালে চলনবিল জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৪ সালে এটি সরকারিকরণ হয়। কিন্তু যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি জাদুঘরে রক্ষিত নিদর্শনাবলি। ফলে অযত্ন ও অবহেলায় ইতিমধ্যেই বিনষ্ট হয়ে গেছে অনেক দুর্লভ প্রাচীন নিদর্শন। জনবল ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। 

খুবজীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম জানান, জায়গা জটিলতা ও রাজস্ব আদায় না হওয়ার অজুহাতে জাদুঘরটি অন্যত্র স্থানান্তরের চেষ্টা করেছিল প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর। কিন্তু এলাকাবাসীর দাবির মুখে তা সম্ভব হয়নি। এখনো নতুন ভবন নির্মাণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে ৮ শতাংশ জায়গা রেজিস্ট্রিমূলে জাদুঘরের কার্যক্রম শুরু করা হয়। সেই সঙ্গে চলনবিল তথা উপ-মহাদেশের অনেক দুর্লভ নিদর্শন সংগ্রহ করে আনা হয় এ জাদুঘরে। যা এ অঞ্চলের মানুষের কাছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সংগ্রহ ছিল। পরে জাদুঘরটি উন্নয়নের লক্ষ্যে নরওয়ে সরকারের প্রজেক্ট নরওয়ে এজেন্টি (নোরাট) ১ লাখ ২০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করে, যা দিয়ে জাদুঘরের পাকা দোতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। জাদুঘরটি আরো সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে বেসরকারি পর্যায় থেকে সরকারি পর্যায়ে স্থানান্তর করা হয়। সে সময় জাদুঘরটি বগুড়া মহাস্থান গড়ে অবস্থিত মহাস্থান জাদুঘরের অধীনস্থ করা হয়। নিয়োগ দেওয়া হয় একজন কর্মকর্তা ও তিন জন কেয়ারটেকার। সবশেষ প্রায় ১০ বছর আগে মো. আখতার হোসেন নামের একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ করা ছাড়া সরকারিভাবে আর কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম না থাকায় জাদুঘরটি বেহাল অবস্থায় পর্যবসিত হয়। সরেজমিনে চলনবিল জাদুঘরে গিয়ে দেখা যায়, জাদুঘরের ওপরের তিনটি কক্ষ ব্যবহারের অনুপোযোগী হওয়ায় তা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এখন নিচের দুটি কক্ষে রয়েছে সংগ্রহীত নিদর্শনাবলী। অফিসে কর্মকর্তা পর্যায়ের কাউকে পাওয়া যায়নি। ভবনটি দীর্ঘদিন যাবত সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। জাদুঘরটির পাশেই রয়েছে খুবজীপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও এম. হক ডিগ্রি কলেজ।

খুবজীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মনিরুল ইসলাম দোলন বলেন, জাদুঘরে যাওয়ার জন্য সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্হা অনেক উন্নত হয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় লোকবলসহ সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জাদুঘরটি দর্শক হারাচ্ছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বগুড়ার আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা জানান, চলনবিল জাদুঘরের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে অনেক নিদর্শনা রাসায়নিক পরিচর্যার জন্য পাঠানো হয়েছে। কাজ শেষ হলেই সেগুলো জাদুঘরে ফেরত দেওয়া হবে।

 

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

চেয়ারম্যান পদে মা-ছেলের যুদ্ধ