কাটা হচ্ছে পারকি সৈকতে আটকে পড়া জাহাজটি

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:৪৯

দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর কাটা হচ্ছে চট্টগ্রামের আনোয়ারার পারকি সমুদ্র সৈকতে আটকে পড়া বিশাল আকারের মালবাহী জাহাজ এমভি ক্রিস্টাল গোল্ড। ২০১৭ সালের ৩০ মে ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে নোঙর ছিঁড়ে পারকি সমুদ্র সৈকতে এসে আটকে পড়ে ক্রিস্টাল গোল্ড নামের এই জাহাজটি। মালিক পক্ষ অনেক চেষ্টা করেও জাহাজটি সরিয়ে নিতে পারেনি। পরবর্তীকালে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান জাহাজটি কিনে নেয়। দীর্ঘ আইনিপ্রক্রিয়া শেষে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে তারা জাহাজটি কাটা শুরু করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সমুদ্রসৈকতে আটকা পড়া জাহাজটির চারদিকে ঘেরা দিয়ে কাটা হচ্ছে। শনিবার থেকে জাহাজটি কাটা শুরু হয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ মাহবুবের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে পরিবেশবান্ধব উপায়ে জাহাজটি কাটা হচ্ছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক পরিবেশবান্ধব উপায়ে জাহাজটি কাটার জন্য অনেকগুলো প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। যেহেতু এটা পর্যটন স্পট, সেজন্য আমাদেরকে বলা হয়েছে পর্যটকরা যাতে জাহাজটির কাছাকাছি যেতে না পারে। কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। সেজন্য আমরা চারদিকে ব্যারিকেড দিয়েছি। তবে জাহাজটি কাটার কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে সামাজিক 

যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে পর্যটকরা নানা ধরনের বিরূপ মন্তব্য শুরু করেছে। তাদের মতে, জাহাজটি পারকি সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছিল। দূরদূরান্ত থেকে এই জাহাজটি দেখার জন্য পর্যটকরা পারকি সৈকতে ভিড় জমাত। জাহাজটি আটকা পড়ার পর থেকে যেসব পর্যটক পারকির রূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য এসেছে তাদের মধ্যে খুব কমসংখ্যকই পাওয়া যাবে যারা জাহাজটির সঙ্গে ফ্রেমবন্দি হয়নি। সীমা আক্তার নামের এক পর্যটক বলেন, এই ক্রিস্টাল গোল্ড জাহাজটির সঙ্গে অনেক স্মৃতি রয়েছে। পারকিতে এসে জাহাজটি আর দেখব না ভাবতেই খারাপ লাগছে। জাহাজটি ছাড়া পারকি সৈকত ফাঁকা ফাঁকা লাগবে। তবে করিম নামের স্থানীয় একজন যুবক জানান, জাহাজটির কারণে বেড়িবাঁধের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। এখন জাহাজটি কেটে নেওয়া হচ্ছে তাতে আমরা খুশি।

একটি পর্যটন এলাকায় জাহাজ কাটায় পরিবেশের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে পরিবেশবাদী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মঞ্জিল মোর্শেদ বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের যে শর্তগুলো রয়েছে সেগুলো মেনে যদি জাহাজটি কাটা হয় তাহলে পরিবেশের ওপর তেমন একটা প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মফিদুল আলম বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে জাহাজটি কাটা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এমআর