সাব্বির রহমানও শিরোনামে থাকতে পারতেন।
নাটকীয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা শেষে দলে সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশি এই ব্যাটসম্যান গতকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে এসে তুলে নিয়েছেন নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। তারপরও বাংলাদেশ দলকে গুঁড়িয়ে দিয়ে এবং হোয়াইট ওয়াশ করে দিনের নায়ক হয়ে উঠলেন টিম সাউদি। ইনজুরি থেকে ফেরার এই ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়ে কিউই বোলার শেষ করে দিয়েছেন বাংলাদেশের সান্ত্বনার জয়ের স্বপ্ন। বাংলাদেশকে শেষ ওয়ানডেতে ৮৮ রানে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। সেই সাথে ৩-০ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে তারা ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ।
আগে ব্যাট করা নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে ৩৩০ রানের বিশাল স্কোর করেছিল। জবাবে সাব্বিরের সেঞ্চুরি এবং সাইফউদ্দিনের ৪৪ রানের পরও বাংলাদেশ অলআউট হয় ২৪২ রানে।
বড় রান তাড়া করতে নামা বাংলাদেশকে প্রথম ওভারেই ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন টিম সাউদি। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে কোনো রান না করে তামিম ইকবাল ক্যাচ দিয়ে দেন উইকেটের পেছনে। এক বছর পরে কোনো রকম ফুটওয়ার্ক ছাড়াই খেলতে গিয়ে সাউদির বলে বোল্ড হন সৌম্য সরকার। দু’জন শূন্য রানে ফেরার পর লিটন দাস টানা তৃতীয় ম্যাচে ১ রান করে আউট হন। সাউদির পরের ওভারের প্রথম বলে এলবিডব্লু হন লিটন। সেই সময় ২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।
এখান থেকে প্রথম একটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু সে চেষ্টাও খুব কার্যকর হয়নি। ১৭ রান করে মুশফিক এবং ১৬ রান করে রিয়াদ ফিরে আসেন। এরপর দিনে বাংলাদেশকে সেরা সময়টা উপহার দেন সাব্বির রহমান রুম্মন ও সাইফউদ্দিন। দু’জনে ১০১ রানের জুটি করেন সপ্তম উইকেটে। পুরো সিরিজেই ব্যাট হাতে ভালো করতে থাকা সাইফ ৬৩ বলে ৪টি চারে সাজানো ৪৪ রান করে ফেরেন। মাশরাফি পরপর এসে ২ রানে আউট হন। এরপর সাব্বিরকে আবার বেশ সঙ্গ দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মিরাজ ৩৪ বলে করেন ৩৭ রান। আর সাউদির শেষ শিকার ও বাংলাদেশের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে সাব্বির ১১০ বলে ১২টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০২ রানের ইনিংস খেলেন।
সাউদি এই ম্যাচে ৬৫ রানে তুলে নেন ৬ উইকেট।
এর আগে টসে জিতে নিউজিল্যান্ডকে আগে ব্যাটে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। শুরুতেই রানবন্যার ইঙ্গিত দিতে থাকা নিউজিল্যান্ডের দলীয় ২১ রানে প্রথম উইকেট তুলে নেন মাশরাফি। তিনি এলবিডব্লু করে ফেরান কলিন মুনরোকে। এরপর নিউজিল্যান্ডের হয়ে যে উইকেটে এসেছেন, তিনিই রান উত্সবে যোগ দিয়েছেন। মাপটিল ২৯ রান করে ফেরেন। মাঝখানে ইনিংসের পথ ঠিক করে দেন হেনরি নিকোলস, রস টেইলর ও টম লাথাম। নিকোলস ৬৪ রান, টেইলর ৬৯ রান ও লাথাম ৫৯ রান করেন। আর শেষ দিকে রানটাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে নিয়ে যান জিমি নিশম ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। নিশম ২৪ বলে ৩৭ রান করেন। আর গ্র্যান্ডহোম ১৫ বলে ৩৭ রান করে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের হয়ে ২টি উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। কিন্তু তিনি ছিলেন ভয়ানক খরুচে। ১০ ওভারে ব্যয় করে ফেলেছেন ৯৩ রান। এ ছাড়া মাশরাফি, রুবেল, সাইফ ও মিরাজ একটি করে উইকেট নেন।
স্কোর কার্ড
টস : বাংলাদেশ
নিউজিল্যান্ড
ব্যাটসম্যান রান বল চার ছয়
গাপটিল ক তামিম ব সাইফউদ্দিন ২৯ ৪০ ৩ ১
মুনরো এলবিডব্লু ব মাশরাফি ৮ ৭ ০ ০
নিকোলস ক তামিম ব মিরাজ ৬৪ ৭৪ ৭ ০
টেইলর ক মাহমুদুল্লাহ ব রুবেল ৬৯ ৮২ ৭ ০
লাথাম ক সৌম্য ব মুস্তাফিজ ৫৯ ৫১ ২ ৩
নিশাম বোল্ড ব মুস্তাফিজ ৩৭ ২৪ ৩ ২
ডি গ্র্যান্ডহোম অপরাজিত ৩৭ ১৫ ৪ ২
স্যান্টনার অপরাজিত ১৬ ৯ ০ ১
অতিরিক্ত (লেবা-৩, নো- ২, ও-৬) ১১
মোট:৫০ ওভারে ৩৩০/৬
বাংলাদেশ বোলিং :
মাশরাফি : ১০-১-৫১-১, মুস্তাফিজ : ১০-০-৯৩-২ (ও-৩, নো-১), রুবেল : ৯-০-৬৪-১ (নো-১), সাইফউদ্দিন : ১০-০-৪৮-১, মিরাজ : ৯-০-৪৩-১ (ও-১), মাহমুদুল্লাহ : ২-০-২৮-০।
বাংলাদেশ
তামিম ক লাথাম ব সাউদি ০ ২ ০ ০
লিটন এলবিডব্লু ব সাউদি ১ ৪ ০ ০
সৌম্য বোল্ড ব সাউদি ০ ২ ০ ০
মুশফিক ক মুনরো ব বোল্ট ১৭ ২৭ ৩ ০
মাহমুদুল্লাহ ক মুনরো ব গ্র্যান্ডহোম ১৬ ৩৬ ১ ১
সাব্বির ক এন্ড ব সাউদি ১০২ ১১০ ১২ ২
সাইফউদ্দিন ক গাপটিল ব বোল্ট ৪৪ ৬৩ ৪ ০
মাশরাফি ক বোল্ট ব সাউদি ২ ৩ ০ ০
মিরাজ ক গাপটিল ব সাউদি ৩৭ ৩৪ ৭ ০
রুবেল রান আউট ৩ ৩ ০ ০
মুস্তাফিজ অপরাজিত ০ ০ ০ ০
অতিরিক্ত (লে বা-২, ও-১৮) ১৮
মোট: ৪৭.২ ওভারে ২৪২/১০
নিউজিল্যান্ড বোলিং :
সাউদি : ৯.২-১-৬৫-৬ (ও-৭), বোল্ট : ৯-১-৩৭-২ (ও-২), গ্র্যান্ডহোম : ৫-০-১৮-১ (ও-২), ফার্গুসন : ১০-০-৫০-০ (ও-৩), স্যান্টনার : ১০-২-৪৬-০, নিশাম : ৪-০-২৪-০।
ফল : নিউজিল্যান্ড ৮৮ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : টিম সাউদি (নিউজিল্যান্ড)।
সিরিজ সেরা : মার্টিন গাপটিল (নিউজিল্যান্ড)।
সিরিজ : নিউজিল্যান্ড ৩-০ ব্যবধানে জয়ী
