৩ দিনের ছুটিতে কক্সবাজার আসছেন ৫ লাখ পর্যটক 

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২১:০৫

এবারে বিজয় দিবসের পরপরই আছে দুইদিনের সাপ্তাহিক ছুটি। মোট তিনদিনের এই ফাঁকা সময় কাজে লাগাতে ভ্রমণপ্রেমীরা কক্সবাজারে আসছেন। উপলক্ষ্যে কক্সবাজারে ৫ লাখের বেশি পর্যটক উপস্থিতির আশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা। এ তিনদিনে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হতে পারে বলেও আশা করছেন তারা।

পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা বলয় তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ। নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা, তথ্য সেবা, পানীয় জলের ব্যবস্থাসহ নানা সেবামূলক কার্যক্রমের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি মো. জিল্লুর রহমান। 

হোটেল মালিকদের বরাত দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, টানা ছুটিকে টার্গেট করে একসপ্তাহ আগে থেকে আগাম বুকিং হয়ে আছে সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট। এতে টইটম্বুর পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সতর্ক অবস্থায় দায়িত্বপালনে মজুদ রয়েছে ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশ। মোতায়েন রাখা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশও। যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে পর্যটন স্পটগুলো। ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত সাধারণ চিকিৎসা ও খাবার পানির ব্যবস্থা রয়েছে সৈকততীরে। 

গোসল করাকালীন বিপদাপন্ন পর্যটকদের রক্ষার্থে সর্তক অবস্থায় রয়েছেন লাইফগার্ড কর্মীরা। পাশাপাশি করোনার সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে পর্যটকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসনের বিচ কর্মীরা।

ঢাকার মোহাম্মদপুর চাঁদউদ্যান এলাকা থেকে আসা পর্যটক দম্পতি ফয়সাল আমিন জানান, করোনা পরিস্থিতির দীর্ঘদিন কোথাও যাওয়া হয়নি। বিজয় দিবসের ছুটিসহ টানা বন্ধ পেয়ে বাড়ির সবাইকে নিয়ে কক্সবাজার এসে তারকা হোটল ওশান প্যারাডাইসে উঠেছি। আমাদের হোটেলের প্রায় রুমে লোকজন আছে বলে মনে হচ্ছে।  

তারকা হোটেল হোয়াইট অর্কিডের মহাব্যবস্থাপক রিয়াদ ইফতেখার বলেন, এখন পর্যটন মৌসুম। প্রায় প্রতিদিনই কমবেশী পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করেন। বিজয় দিবসের ছুটি ও সপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে একসাথে অনেক লোক বেড়াতে আসছেন। এবারও টানা তিনদিন ছুটি পড়ায় সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট আগাম বুকিং হয়েছে। 

কলাতলীর মোহাম্মদীয়া গেস্ট হাউজের ব্যবস্থাপক শফিক ফরাজী বলেন, হোটেল-মোটেলে যে পরিমাণ ধারণ ক্ষমতা তার চেয়েও লোকসমাগম বেশি হবে এবার। অতীত অভিজ্ঞতা তেমনই বলছে। রুম বুকিং করে যারা এসেছেন, তারা ছাড়া বাকিরা ভোগান্তিতে পড়তে পারে বলে মনে হচ্ছে। কারণ দেড় লাখাধিক লোক থাকার আয়োজন রয়েছে। কিন্তু সৈকত শহর কক্সবাজারে ৪/৫ লাখের অধিক পর্যটকের আগমন হলে রাত্রি যাপন নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

সী সেইফ লাইফ গার্ডের সুপারভাইজার মোহাম্মদ ওসমান বলেন, বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ সৈকতে নিয়মিত থাকেন। বন্ধের দিনে এ সংখ্যা বাড়ে। ঢেউয়ের তালে দাপিয়ে বেড়ান সববয়সের পর্যটক। অনেকে বিপদসীমার বাইরেও চলে যান। তাদের কিনারায় আনতে এবং নিরাপদ থাকতে বার বার সতর্ক করি আমরা। 

তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, করোনা আমাদের চরম ভাবে ঋণগ্রস্ত করেছে। বিজয় দিসব উপলক্ষ্যে পর্যটক উপস্থিতি আমাদের আশান্বিত করছে। মহামারি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আবারো সুন্দর বাণিজ্যিক সময় প্রত্যাশা আমাদের।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, পর্যটক নিরাপত্তায় সৈকত ও আশপাশে পোশাকধারী পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের বিশেষ রেসকিউ টিম, ইভটিজিং কন্ট্রোল টিম, ড্রিংকিং জোন, দ্রুত চিকিৎসাসহ নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে পর্যটকদের নিরাপত্তায়। সৈকতে বীচ বাইক নিয়েও রয়েছে টহল। রয়েছে ৩টি বেসরকারি লাইফ গার্ড সংস্থার অর্ধশতাধিক প্রশিক্ষিত লাইফগার্ড কর্মী। কন্ট্রোল রুম, পর্যবেক্ষণ টাওয়ারসহ পুরো সৈকত পুলিশের নজরদারির আওতায় রয়েছে। কোন হোটেলে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পেলে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, সৈকতের লাবনী, সুগন্ধা, কলাতলীসহ ১১টি পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে তথ্য কেন্দ্র। পর্যটকদের করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মানতে সর্বদা সচেতনতা মূলক মাইকিং ও প্রয়োজনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। পর্যটক হয়রানি বন্ধে মাঠে থাকছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত। কোথাও পর্যটক হয়রানির অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় সবসময় সর্তকাবস্থায় রয়েছে পুলিশ। পর্যটকদের অনাকাঙ্খিত হয়রানি রোধে, পোষাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকে এবং পর্যটক বেশেও পুলিশের নারী সদস্যরা সৈকতে ঘুরছেন।  

ইত্তেফাক/এসএ