তিন দিনের টানা ছুটি 

বান্দরবানে পর্যটকের ঢল

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:১২

তিন দিনের টানা ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে পর্যটন জেলা বান্দরবানে। জেলার অন্যতম পর্যটন স্পট ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে এখন পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়। এক সপ্তাহ আগে থেকে বান্দরবানের হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে যায়। লম্বা ছুটিতে যান্ত্রিক জীবনের একটু ক্লান্তি দূর করতে বিনোদনের খোঁজে মানুষ ছুটে আসছেন পাহাড়ের মনোরম প্রাকৃতিক লীলাভূমি বান্দরবানে। 

বান্দরবানের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে এসেছেন ভ্রমণ-পিপাসুরা। হাজার হাজার পর্যটকের পদচারণায় মুখর পর্যটন স্পটগুলো। এতে ঝিমিয়ে পড়া পর্যটনে হঠাৎ প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। ঘুরে দাঁড়িয়েছে পর্যটন শিল্প। এদিকে বান্দরবান জেলা প্রশাসন কর্তৃক বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী, মহান বিজয় দিবস ও মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন পরিচালিত পর্যটন কেন্দ্র নীলাচল, মেঘলা, প্রান্তিক লেক, চিম্বুক, নীল দিগন্তসহ সব পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ১৬ ডিসেম্বর এক দিনের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। 

পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা মহামারীর ধকল কাটিয়ে প্রায় দুই বছর পর বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে বান্দরবানের পর্যটন হঠাৎ জেগে উঠেছে। মাসের শুরু থেকে পর্যটকেরা হোটেল-মোটেল ও অবকাশযাপন কেন্দ্রগুলোতে আগাম ভাড়া নিতে থাকেন। কোথাও কোনো সিট খালি নেই। জেলা শহর ও শহরতলীতে ছোট-বড় প্রায় ৬৫টি আবাসিক হোটেল-মোটেল ও অবকাশকেন্দ্রে ৪ হাজার পর্যটক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। থানচি, রুমা, বগালেক, তাজিংডং, তিন্দু, রেমাক্রি, নাফাকুমসহ বিভিন্ন পাহাড় চূড়ার বিভিন্ন স্থানে আরো কয়েক হাজার পর্যটকের আবাসন করা সম্ভব। এ সব পর্যটন স্পটে কোথাও কোনো জায়গা খালি নেই। 

জেলা আবাসিক হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি অমল কান্তি দাশ জানান, শীত মৌসুম হচ্ছে পর্যটকদের ভরা মৌসুম। এ সময় পর্যটকদের আগমন বেশি ঘটে। পর্যটন করপোরেশনের মেঘলা পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানান, বিজয় দিবস থেকে এ মাসের শেষ দিন পর্যন্ত মোটেলের সবকটি কক্ষ অগ্রিম ভাড়া হয়ে গেছে। মিলনছড়ি রিসোর্টের ব্যবস্থাপক রয়েল বম জানিয়েছেন, হঠাৎ পর্যটক আসা শুরু হওয়াতে এখন আর জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

টুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, লম্বা ছুটি থাকায় পর্যটকের ঢল নেমেছে বান্দরবানে। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে ঘুরে বেড়াতে পারে সেজন্য প্রতিটি পর্যটন স্পটে টুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা মোতায়েন থাকবে। সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরাও নিয়োজিত থাকবে। কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই পর্যটকরা নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারবে বান্দরবানের প্রতিটি পর্যটন স্পটে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ইয়াসমিন পারভীন তিবরিজী বলেন, পর্যটন নগরী বান্দরবানের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে বছরের পুরোটা সময়ই পর্যটকের আগমন ঘটে। তবে টানা ছুটি থাকায় পর্যটকের আগমন আরো বেড়েছে। বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আমাদের জেলা প্রশাসন পরিচালিত সব পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রবেশমূল্য ফ্রি করে দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। 

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেন, পৃথিবীর আর কোনো দেশে এমন বৈচিত্র্যময় ঋতুর সমাবেশ নেই। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশের অন্য শিল্পের মতো পর্যটনও অনেক দূর এগিয়েছে। বান্দরবানের নতুন নতুন পর্যটনস্পট এই সম্ভাবনাময় সেক্টরকে আরো এগিয়ে নিয়ে গেছে।

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি