কাদের হাতে উঠছে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড, জানা যাবে সোমবার

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:১০

জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে যাচ্ছে। দেশ ও মানুষের কল্যাণে যেসব সংগঠন ও তরুণ উদ্যোক্তা কাজ করছেন, মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে ২০ ডিসেম্বর সোমবার।

আওয়ামী লীগের গবেষণা উইং সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইয়াং বাংলার পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দেশে তরুণদের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম ইয়াং বাংলা ২০১৪ সাল থেকে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। এবার বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে দেওয়া হচ্ছে পঞ্চম আসরের পুরস্কার। দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, তৃতীয় লিঙ্গ, দলিত ও অনগ্রসর সমাজকে নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনসহ ৩০টি সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠানকে পঞ্চমবারের মত এ পুরস্কার দিতে অক্টোবরে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের নিবন্ধন শেষ হয়।

ইয়াং বাংলার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের জন্য প্রতিবছরের মত এবারও বিপুল সাড়া পড়েছে। সারা দেশ থেকে জমা পড়েছে ৭৫০টির মত প্রতিষ্ঠানের আবেদন।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশ গঠনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডে এবারই প্রথম দেওয়া হবে আজীবন সম্মাননা পুরষ্কার।

মাশরাফি বিন মুর্তজা ও জয়া আহসান ছাড়াও ১২ সদস্যের তারকাখচিত জুরি বোর্ডে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মফিদুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান, সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, উদ্যোক্তা আছিয়া খালেদা নীলা ও জারা মাহবুব, পরিবেশ সংরক্ষণবাদী শাহরিয়ার সিজার রহমান, চলচ্চিত্রকার রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত, টেলিভিশনের সংবাদ পাঠক তাসনুভা শিশির, উদ্যোক্তা স্বর্ণলতা রায় এবং সাংবাদিক পরিমল পালমা।

মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেন, “জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড জুরি বোর্ডের একজন সদস্য হিসেবে এ বছর খুব কাছ থেকে দেখেছি- বাংলাদেশের তরুণরা দেশ ও সমাজকে নিয়ে কতটা গভীরভাবে চিন্তা করে। আমাদের সামনে যে অ্যাপ্লিকেশনগুলো এসেছে তার প্রতিটাই অসাধারণ, প্রত্যেকের ভিন্ন একটা গল্প আছে। তাই জুরিদের জন্য এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাওয়াটা অন্য রকম অভিজ্ঞতা ছিল।”

অভিনেত্রী জয়া আহসান বলেন, “বাংলাদেশের শক্তি কিন্তু সব সময় তারণ্যের শক্তি। এই আমরা আজকে বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছি, এই মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা দেশ পেলাম। এই স্বাধীনতা এসেছে তরুণদের হাত ধরে, তাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে।"

তিনি বলেন, “আমি এই প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়ে খুবই অনুপ্রাণিত বোধ করছি। যাছাই প্রক্রিয়াটা দেখতে গিয়ে আমি দেখলাম যে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কত তরুণ যে নিজের মত করে বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করে যাচ্ছে। জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের জন্য যাদেরকে বাছাই করা হল, তাদেরকে শুভেচ্ছা। তারাই যে শুধু দেশকে, সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, তা নয়, এই যে দেশের আজকে এত উন্নয়ন, দেশ একটা অবস্থানে গেছে, কত শত তরুণ তো আসলে প্রতিনিয়ত কাজ করে গেছে, করছে। এখানে তো আসলে তরুণদেরই ভূমিকা আছে।"

দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তরুণ প্রজন্মকে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্যে তাদের নতুন ধারণা ও উদ্ভাবনগুলোকে তুলে আনার জন্যই ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর আত্মপ্রকাশ করে ইয়াং বাংলা। ৫০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবী এবং ৩১৫টির বেশি সংগঠনকে সাথে নিয়ে চলা এ সংগঠনটির সদস্য সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ।

২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নিজ নিজ এলাকায় সফল হওয়া যুবক ও যুব সংগঠনগুলোকে পুরস্কৃত করে আসছে ইয়াং বাংলা। পুরস্কারের জন্য এমন তরুণদের বাছাই করা হয়েছে, যারা বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষিত করা  এবং দুস্থদের সাহায্য করার মত বিস্তৃত কার্যক্রমের মাধ্যমে নীরবে তাদের সম্প্রদায়কে বদলে দিচ্ছে।

২০১৮ সালের জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী সাদাত রহমান গত বছর পেয়েছিলেন ‘আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার’। ‘সাইবার বুলিং’ থেকে শিশুদের রক্ষায় কাজ করে তিনি এ পুরস্কার পান।

সিআরআই-এর অঙ্গ সংগঠন ইয়াং বাংলার এই আয়োজনে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে থাকছে দৈনিক ইত্তেফাক।

ইত্তেফাক/এসটিএম