খাগড়াছড়ির পাহাড়ে পর্যটকের ভিড় বেড়েছে

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৫৩

বিজয় দিবসসহ টানা তিন দিনের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে পাহাড়ে বেড়াতে এসেছেন প্রচুর পর্যটক। খাগড়াছড়ি, সাজেকসহ পাহাড়ের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে অসংখ্য পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। কাকডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের উপস্থিতিতে মুখর থাকছে শহরের বিভিন্ন সড়ক ও পর্যটন কেন্দ্রগুলো। পর্যটক বাড়ার প্রভাব পড়েছে হোটেল-মোটেলসহ স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে। বর্তমানে খাগড়াছড়িতে হোটেল-মোটেলে কোনো কক্ষ খালি নেই। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা সদরের বিভিন্ন পর্যটন এলাকা, জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক, আলুটিলা, রিছাং ঝরনা, দেবতা পুকুর, মায়াবিনী লেক, অরণ্য কুটির, দীঘিনালা তৈদুছড়া ঝরনায় লোকে লোকারণ্য।

মনটনা হোটেলের মালিক মো. রুবেল ও মক্কা হোটেলের মালিক মো. আলমগীর বলেন, কয়েক দিন ধরে প্রচুর পর্যটক জেলা শহরের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় আসছেন। এতে করে খাগড়াছড়ি হোটেল ব্যবসা ভালো চলছে। জেলা শহরের অন্যতম পর্যটন স্পট জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন শত শত পর্যটকের ভিড়ে এ পার্ক মুখরিত হয়ে উঠছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম শান্তি বাস সার্ভিসের দায়িত্বে থাকা সুমন দেবনাথ জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা গাড়িগুলোতে পর্যটকরা আসছেন। এতে আমাদের গাড়ির ব্যবসা জমে উঠেছে। খাগড়াছড়ি সদরের জেলা পরিষদ পার্ক হর্টিকালচারের টিকিট বিক্রেতা মো. ইউসুফ জানান, টানা তিন দিনের ছুটিতে পার্কে ভিড় প্রচুর। বৃহস্পতিবার এ পার্কে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টিকিট বিক্রি হয়েছে।

খাগড়াছড়ি অরণ্য বিলাসের ব্যবস্থাপক স্বপন চন্দ্র দেবনাথ জানান, গত মাসের তুলনায় এ মাসে প্রচুর পর্যটক এসেছেন। থ্রিস্টার বোডিংয়ের মালেক জগন্নাথ দে জানান, এ বছর পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। আমাদের বোডিং ব্যবসা ভালো চলছে। খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম জানান, রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক এখন বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন নগরী। সাজেকে যেতে হয় খাগড়াছড়ি হয়ে। তাই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক এসে খাগড়াছড়ি জড়ো হচ্ছেন। খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ হর্টিকালচারের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিষদ সদস্য পার্থ ত্রিপুরা জুয়েল জানান, ভবিষ্যতে এ পার্ককে জেলার আকর্ষণীয় এবং পর্যটকবান্ধব বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি মো. আবদুর রশীদ জানান, এ সপ্তাহে প্রচুর পর্যটক আসছে। পর্যটকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা মতিন বলেন, খাগড়াছড়ি ভবিষ্যতে যেনো পর্যটকের সংখ্যা আরো বাড়ে এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলো আরো আকর্ষণীয় করা যায়, সে ব্যাপারে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এমআর