সময় ও চাহিদা অনুযায়ী কাজ করতে পারার সুবিধার কারণে সারাবিশ্বে ‘ফ্রিল্যান্সিং’-এর জনপ্রিয়তা বেড়ে চলেছে। তাছাড়া সারা বিশ্বের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহ এখন স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগের চেয়ে ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে তাদের প্রয়োজন মেটানোর দিকে বেশি ঝুঁকছে, যার হার ৪৮ শতাংশেরও বেশি। বিগত কয়েক বছর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এই হার ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে।
বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিংয়ের ওয়েবসাইটগুলোতে লক্ষ্য করা যায়, অনুন্নত দেশের চেয়ে উন্নত দেশের ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা ও আয় বেশি। বর্তমানে আয় ও ফ্রিল্যান্সার সংখ্যার দিক থেকে সবার ওপরের স্থান আমেরিকার। দ্বিতীয় স্হানে আছে ইংল্যান্ড। তৃতীয় স্হানে ব্রাজিল। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও ফ্রিল্যান্সিং-এ অনেক উৎসুক। ফ্রিল্যান্সিং-এ আয়ের দিক থেকে এবং ক্রমবর্ধমান উপার্জনে সেরা দেশের তালিকার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮ম। যদিও বাংলাদেশের অবস্থান আরো ওপরের সারিতে ছিল। কিন্তু বর্তমানে উন্নত দেশের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারার কারণে অবস্থান পিছিয়েছে।
ফ্রিল্যান্সিংয়ের অনেক সুবিধা আছে; তার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরী সুবিধাগুলো হলো—নিজের সময় ও চাহিদা মতো কাজ করা যায়। কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই ইচ্ছেমতো কাজ বা ছুটি নেওয়া যায়। যারা পেশাদার ফ্রিল্যান্সার তাদের সময়ের প্রতি গুরুত্ব বেশি। ফ্রিল্যান্সিং কর্মক্ষেত্রে বেশির ভাগ কাজই করা হয় বহির্বিশ্বের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির সঙ্গে, যার কারণে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ভালো ভালো কাজের মাধ্যমে অনলাইন জগতে সুনাম অর্জন করা যায়। সর্বোপরি, ফ্রিল্যান্সিং টাকা আয় করার জন্য একটি উৎকৃষ্ট পন্থা।
শুধু যে সুবিধা আছে, তা নয়। কিছু অসুবিধাও আছে। ফ্রিল্যান্সিং কর প্রদান করা ও এর ধাপগুলো অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কিছু কিছু সময় ফ্রিল্যান্সিং আয় অনিশ্চিত হতে পারে। কাজে দক্ষ না হলে ফ্রিল্যান্সিং তাদের জন্য না। নির্দিষ্ট আয় ফ্রিল্যান্সিং-এ সহজ নয়। দিন দিন ফ্রিল্যান্সিং-এ প্রতিযোগিতা বেড়েই চলেছে, তাই সেরা কাজের বিকল্প নাই। অন্যথায় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে টিকে থাকা সম্ভব নয়। সব সময় কম্পিউটাররে সঙ্গে সময় কাটাতে কাটাতে একঘেয়েমি আসতে পারে। বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারদের সামাজিক মর্যাদা নাই। তাদের কোনো সামাজিক স্বীকৃতিও নাই। বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষিতে তাদের কোনো পদবি না থাকার কারণে বিভিন্ন সময় তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। ফ্রিল্যান্সাররা ভালো আয় করলেও বিয়ে বিষয়ে ঝামেলা, ব্যাংকঋণসহ নানা সুবিধা পান না।
সব কাজেরই ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক দুটোই থাকে। তবে ফ্রিল্যান্সিং-এ নেতিবাচক দিক থেকে ইতিবাচক দিকই বেশি লক্ষ্য করা যায়। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কম্পিউটার বিষয়ে ভালো জ্ঞান না থাকলে ভবিষ্যতে টিকে থাকা কঠিন হবে। তাই কম্পিউটার দক্ষতা বৃদ্ধি করে সেটা ফ্রিল্যান্সিং-এ কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। বর্তমান সময়ে যে জাতি যত বেশি কম্পিউটার শিক্ষায় দক্ষ তার তত বেশি উন্নত। তাছাড়া বাংলাদেশেও এখন সর্বক্ষেত্রেই তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। ব্যবসায়, শিক্ষা, চিকিৎসা প্রায় সব ক্ষেত্রেই তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার লক্ষণীয়।
ফ্রিল্যান্সারদের সামাজিক মর্যাদা প্রদানের লক্ষ্যে সরকারের ফ্রি-আইডি প্রদান, ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে অবহিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন টিভি-চ্যানেল, পত্রপত্রিকায় বেশি বেশি প্রচারণা করা দরকার। এতে ফ্রিল্যান্সারদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে, শিক্ষিত বেকাররা ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানে উত্সাহিত হবে, এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় হবে।
লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ।
