পুরান ঢাকার চকবাজারে চার তলা একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডে বহু মানুষ আহত হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে রাড়ে ১০টার দিকে শাহী মসজিদের পেছনের চুড়িহাট্টার ওই ভবনে আগুন লাগার পর রাত সোয়া ১২টা নাগাদ অন্তত ৪০ জনকে আহতাবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদের মধ্যে ১৮ জন অগ্নিদগ্ধ এবং বাকিদের বিভিন্ন স্থানে জখম রয়েছে বলে হাসপাতালে কর্তব্যরত কর্মীরা জানিয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের পর দ্রুত নামতে জখম হন অনেকে। লাফিয়ে নামতে গিয়ে হাত-পাও ভেঙেছেন কেউ কেউ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ফাঁড়ির এসআই বাচ্চু মিয়া বলেছেন, ‘আহত আরও অনেকে আসছে।’ এর বাইরেও মিটফোর্ডসহ অন্য বেসরকারী হাসপাতালেও আহতদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই সংখ্যা অর্ধাশতাধিক। ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন, আলামিন (২৫), রিমন (২৮), সিয়াম (২৩), রেজাউল (২১), বাবুল (২৮), শহিদ (৫২), শহিদুলাহ (৫০), করিম (৫০), শামীমুর রহমান (৪২), সাইফুল (৩৫), সালাউদ্দিন (২৬), জাকির হোসেন (৫০), মাহমুদ (৫০), লামিম (১২), আনোয়ার (৫৫), সালাউদ্দিন (৩৫), পীর মোহাম্মদ (৪৭), কাউছার (৪৫), সোহেল (৩৫), পলাশ (৩৫), জাহাঙ্গীর (৩৫), সালাম (৩৫), রবিউল (২৭), মন্জুরুল আলম (৪৫), জিয়াউদ্দিন (২৪) প্রমূখ। অন্য হাসপাতালে যারা গেছেন তাদের নাম জানা যায়নি।
যে ভবনে আগুন লেগেছে, তার নিচতলায় একটি দোকান রয়েছে, দোতলায় রয়েছে বিভিন্ন সামগ্রীর গুদাম। উপরের দু’টি তলায় রয়েছে বাসা। নিচতলা থেকে আগুনে সূত্রপাত বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। আগুন নিচ থেকে উপরে উঠতে দেখা যাচ্ছিল। যে ভবনটিতে আগুন লেগেছে তার নাম ওয়াহেদ ম্যানশন। ভবনটির নিচতলার দোকানে পাস্টিকের উপকরণ বিক্রি হয়। কেউ কেমিকেল থাকার কথাও বলেছেন।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা মাহফুজুল হক রিগান বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে কাজ করছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের পাশের মসজিদ থেকে পানি নিয়ে আগুনে নেভাতে দেখা গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৩২টি ইউনিট কাজ করছে। ঢাকা শহরের সব ফায়ার সার্ভিস ইউনিটকে ডেকে পাঠানো হয় বলেও জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ভবনের ভেতরে কতজন আটকে আছেন, সে ব্যাপারে কিছুই জানাতে পারেনি ফায়ার কর্মীরা। কেউ নিহত হয়েছেন কি-না তাও জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার পর ভবনের সামনে থাকা বিদ্যুতের ট্রান্সমিটার বিস্ফোরণের শব্দ পান তারা। তবে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে। চকবাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান বলেন, চুরিহাট্টা মসজিদ গলির একটি আবাসিক ভবনে আগুন লাগার খবর পেয়ে থানার একাধিক কর্মকর্তা সেখানে গেছেন। আগুন লাগা ভবনের আশপাশের এলাকায় বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। রাত ১টায় তিনি বলেন, আগুনের গতি কমে আসছে। আগুন আশপাশের তিন থেকে চারটি ভবনে ছড়িয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওয়াহেদ ম্যানশনের সামনে একটি ট্রান্সফর্মার বিস্ফোরিত হয়ে প্রাইভেটকারের ওপর পড়ে। এসময় প্রাইভেটকারের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ভবনে আগুন লাগে। তবে স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, ওয়াহেদ ম্যানশনের পাশে দু’টি হোটেল রয়েছে। সেই হোটেল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। রাত দেড়টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণ আনা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, ভবনটির উপরের ফ্ল্যাটগুলোতে ২০/২২টি পরিবার থাকতো। তাদের সবাইকে নিরাপদে নামানো হয়েছে কি না এখনো নিশ্চিত না।
