ক্ষয়ে যাওয়া তারাগুলো ফিরে পাচ্ছে আলো 

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:১৯

রাত তখন ৯টা। সারা দিনের কর্মব্যস্ততায় ক্লান্ত হয়ে বাইকে ছুটছিলাম বাড়ির পথে। বাংলামোটরের পাম্হকুঞ্জের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কানে ভেসে এলো এক ঝাঁক কচি কণ্ঠ, কারা যেন ইরেজিতে কথা বলছে। বিষয়টা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল।

হঠাৎ মনে হলো যাই, গিয়েই দেখি, এই রাতের বেলা কারা এত বিশুদ্ধ ইংরেজিতে কথা বলছে। কী আর করা, বাইক ঘুরিয়ে ফিরে গেলাম সেখানে। সেদিন হালকা শীত পড়েছিল। কুয়াশাও সামান্য। এরই মাঝে ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ৫০ থেকে ৬০ জন শিশু ইংরেজি পড়ছে বিশুদ্ধ উচ্চারণে। কেউ কেউ একে অপরের সঙ্গে গল্পও করছে।

মলিন মুখ দেখে বুঝতে পারলাম যে, ওরা কেউই উচ্চ বা মধ্যবিত্তের পরিবারের সন্তান নয়। যদিও তাদের চুল পরিপাটি করে আঁচড়ানো। গায়ে একই রকমের স্কুলড্রেস। বোঝাই যাচ্ছিল, দিনের আলোয় স্কুলে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি তাদের।

প্রশ্ন জাগল, তাহলে ওরা কীভাবে এখানে এলো? একটু এগিয়ে যাই সামনে। দেখি এক জন পড়াচ্ছেন ওদের। গিয়ে কথা বলি তার সঙ্গে। জানতে পারি যিনি পড়াচ্ছিলেন তার নাম জাহিদুর রহমান। পেশায় পুলিশ অফিসার।

তিনিই জানালেন, এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা দিনের বেলায় নানা কাজ করে পরিবারের জন্য উপার্জন করে। এদের কেউ রাস্তায় বসে বা ট্রাফিক সিগন্যালে বিক্রি করে ফুল-চকলেট। কেউ পরিবারের সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায় সাহাঘ্য করে। কাজ শেষে সময় সুযোগ করে রাতের বেলায় চলে আসে তাদের প্রাণের FnF School-এ।

সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা দিনের বেলায় নানা কাজ করে রাতে শিক্ষাগ্রহণ করে। ছবি: আব্দুল গনি

জাহিদুর রহমান বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবতার তাগিদে তিনি এ কাজ করছেন। তিনি মনে করেন, শিক্ষা প্রতিটি মানুষের জন্মগত অধিকার, আর শিক্ষাই পারে আলোকিত মানুষ গড়তে, আর আলোকিত মানুষ গড়তে পারে আলোকিত সমাজ।

FnF School-এ শিশুদের মধ্যে আশার বীজ বুনে দিয়েছে। তাই তো এদের কেউ এখন হতে চায় ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার, কেউ হতে চায় শিক্ষক-প্রশাসনিক কর্মর্কতা। এমনকি সেনাবাহিনী বা পুলিশ অফিসার হওয়ার স্বপ্নও দেখছে তারা।

এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা ক্ষয়ে যাওয়া তারার মতো। যদি কিছুটা যত্ন ও ভালোবাসা এই তারারা পায়, তাহলে ওরা ফিরে পেতে পারে হারানো আলো। এভাবেই একদিন আমাদের আকাশ আলোকিত হয়ে উঠবে উজ্জ্বল তারায় তারায়। 

ইত্তেফাক/এএএম