হবিগঞ্জে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ, আহত ৫০

  • রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ
  • ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সংবাদ সম্মেলন
আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭:০৩

হবিগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। বুধবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ২টা থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। টানা এক ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে পুলিশসহ কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত ৭ জনকে আটক করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসার দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সমাবেশের আয়োজন করে জেলা বিএনপি। শহরের শায়েস্তানগর এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জয়নাল আবেদীন ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সেই অনুযায়ী বেলা ২টার কিছু আগে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলের দিকে রওনা হয়। এ সময় শায়েস্তানগর পয়েন্টে তাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। বিকেল পৌনে ৩টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এ সময় পুলিশ অন্তত অর্ধশত রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এ সময় আহতদের হবিগঞ্জ ও সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে আসার সময় বিভিন্ন স্থানে পুলিশ তাদের বাঁধা দিয়েছে। শহরের শায়েস্তানগরে বাঁধা দিলে নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে তাদের নিয়ে আসেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে তাদের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তবে এখনই হতাহতের সংখ্যা বলা সম্ভব নয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিমুল আক্তার জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বাঁধা দেওয়া হয়নি। পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিল। হঠাৎ বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। এতে ২৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কি পরিমাণ রাবার বুলেট বা টিয়ার সেল নিক্ষেপ করা হয়েছে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সংবাদ সম্মেলন

এদিকে বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, মানুষের ভোটে অধিকার নাই। দিনের ভোট রাতে ডাকাতি করে সরকার পরিচালনা করছে। আজকে দেশে গণতন্ত্র নেই সেটি হবিগঞ্জের ঘটনায় প্রতিফলিত হয়েছে। কেননা আমাদের মৌলিক অধিকার আছে আমাদের নেত্রী সম্পর্কে দাবি করা। আজকে একটি শর্তের জন্য আমাদের নেত্রী বিদেশে যেতে পারছেন না। তারা নির্বাহী আদেশে নেত্রীর সাজা মওকুফ করেছে। কিন্তু সেখানে একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে। তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। আমাদের একটাই দাবি সে শর্ত তুলে নেওয়া হোক। যে ধারায় আমাদের নেত্রীকে সাজা মওকুফ করেছেন সেখানে লেখা আছে শর্তযুক্ত অথবা শর্তহীনভাবে তারা এ কাজটি করতে পারবে। কিন্তু তারা শর্ত যুক্ত করেছে। আমরা শুধু শর্ত তুলে নেওয়ার দাবি করছি। এখানে আইনের কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা হচ্ছে সরকারের। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য আজ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেওয়া হচ্ছেনা। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, ড. এনাম আহমেদ, খন্দকার মোক্তাদির, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, কেন্দ্রীয় সমবায় বিষয়ক সম্পাদক জি কে গউছ, শাম্মি আক্তার শিপা, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আহমেদ শ্যামল।

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি