মির্জাপুরে নিয়ম না মেনে ইটভাটা, হুমকির মুখে পরিবেশ

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৫:৩০

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সরকারি বনাঞ্চল, নদীর আশপাশ ও ফসলি জমি দখল করে প্রায় ৭০টি ইটভাটা গড়ে উঠছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি আইন অমান্য করে প্রভাবশালী মহল ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে এসব ইট ভাটা গড়ে তুলেছেন। ৭০টি ইট ভাটার মধ্যে পৌরসভা ও চার ইউনিয়নেই রয়েছে অর্ধশত ইটভাটা। 

সরেজমিন দেখা গেছে, নদীর আশপাশ, তিন ফসলি জমি ও বনাঞ্চলের ভিতরে এসব ইটভাটায় বনের গাছ পোড়ানো হচ্ছে। অবৈধ ইট ভাটা বন্ধসহ ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলার বংশাই ও লৌহজং নদীর আশপাশ, মির্জাপুর পৌরসভা এবং গোড়াই, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের পাহাড়ি বনের ভিতর এবং আশপাশে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে অর্ধশত ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এছাড়া উপজেলার মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, ভাওড়া ও বহুরিয়া ইউনিয়নে ফসলি জমির উপর প্রায় ২০টি ইটভাটা  গড়ে উঠেছে। সরকারি ভাবে ইট ভাটা তৈরির জন্য বিভিন্ন নিয়ম কানুন থাকলেও মির্জাপুরে এসব ভাটা তৈরির ক্ষেত্রে সরকারি কোনো নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। 

নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আজগর হোসেন ও হাটুভাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মো. সরাফত আলীসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, সরকারি নীতিমালা না মেনে গড়ে ওঠা ইটভাটা গুলোর বিষাক্ত ধোয়ায় এলাকার গাছপালা, ডোবা-নালা, পুকুর ও নদীর মাছ মরে যাচ্ছে এবং বিষাক্ত হয়ে উঠেছে আবাদি জমির মাটি। এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে।

ইটভাটা মালিক মো. শহিদুল ইসলাম সহিদ বলেন, বিভিন্ন কারণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ইটভাটা তৈরির জন্য কোনো ছাড়পত্র এবং কাগজপত্র দিচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে তারা হাই কোর্টে রিট করে ইটভাটা চালাচ্ছেন।

ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মো. ফিরোজ হায়দার খান বলেন, ইটভাটা তৈরির জন্য যে নিয়ম রয়েছে তার সবগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু কিছু ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে। যাদের ছাড়পত্র নেই তারা হাই কোর্টে রিট করে ভাটা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরো পড়ুন: শিবালয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

বাঁশতৈল রেঞ্জ অফিসের কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, মির্জাপুরে নীতিমালার তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালী মহল একের পর এক ভাটা স্থাপন করে তুলেছেন। 

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক বলেন, যারা নদীর আশপাশ, তিন ফসলি জমি, সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তার আশপাশ ও সরকারি বনাঞ্চলের ভিতরে ও আশপাশে অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে তুলেছেন তাদের ছাড়পত্র ও অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। যারা অবৈধ ভাবে ইট ভাটা গড়ে তুলেছেন তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/অনি