প্রজন্মের অনুপ্রেরণা ইত্তেফাক

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:০৪

৬৮ বছরের একটি দীর্ঘ সময় পেরিয়ে ৬৯ এ পদার্পণ করতে চলেছে বাংলাদেশের অন্যতম স্বনামধন্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ইত্তেফাক। দৈনিক ইত্তেফাক এদেশের সবচেয়ে প্রাচীন জাতীয় দৈনিক, যার যাত্রা শুরু হয় ১৯৫৩ সাল থেকে। অবিভক্ত পাকিস্তান আমল থেকে পত্রিকাটির পথচলা শুরু। অর্থাৎ বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির ছোট-বড় প্রায় সব ঘটনার সাক্ষী এই পত্রিকা। দেশের সব সংকটকাল থেকে অর্জন সব সময় নির্ভীকভাবে সত্য ও সঠিক সংবাদ পরিবেশন করে চলেছে তারা। 

কোনো একটি দেশের জাতীয় দৈনিক সেই দেশের প্রতিচ্ছবি। পত্রিকাই দেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরে। দেশের সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয় প্রকাশ করে যা পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তের মানুষের কাছে পৌঁছে যায় নিমিষেই। সেক্ষেত্রে ইত্তেফাক কাজ করে যাচ্ছে নিরলসভাবে। ৬৮ বছর যাবত দেশের সংবাদ নির্ভীক ভাবে পৌঁছে দিচ্ছে দেশের সর্বত্র। ১৯৫৩ থেকে পরবর্তী সময়ে দেশের সব ক্রান্তিলগ্নে নির্ভয়ে পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামের তথ্য প্রকাশে তারা কাজ করে গেছে। তবে সত্য প্রকাশে ক্ষতিগ্রস্তও হতে হয়েছে নানাভাবে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে অপারেশন সার্চলাইটের অংশ হিসেবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পুড়িয়ে দেয় দৈনিক ইত্তেফাক ভবন। তবে থেমে যায়নি ইত্তেফাকের যাত্রা। নতুন উদ্যমে শুরু হয় পথচলা। এই পথচলার ৬৯তম বর্ষ কড়া নাড়ছে ইত্তেফাকের দোরগোড়ায়। 

বর্তমানে দৈনিক ইত্তেফাক বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক। দেশের সর্বাধিক পঠিত সবচেয়ে প্রাচীন জাতীয় দৈনিক হিসেবে দীর্ঘদিনের এই পথচলা অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে চলেছে দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই ইত্তেফাক পৌঁছে যাচ্ছে দেশের প্রতিটি প্রান্তে। এছাড়া রয়েছে পত্রিকাটির অনলাইন ভার্শন। প্রতিদিন হাজারো লাখো মানুষ পড়ছে ইত্তেফাক। সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে দেশের এবং দেশের বাইরের সমস্ত বিষয়ে। দৈনিক ইত্তেফাকের নিয়মিত আয়োজনের মধ্যে রয়েছে :জাতীয় সংবাদ, সম্পাদকীয়, রাজধানী, খেলার খবর, বিশ্ব সংবাদ, রাজনীতি, বিনোদন সংবাদ, শিক্ষা বিষয়ক সংবাদ এবং অন্যান্য। এছাড়াও তরুণ প্রজন্মের ভাবনা, তথ্যপ্রযুক্তি সংবাদ বেশ গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়ে আসছে। 

দেশের উন্নয়নে এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণে দেশের তরুণ প্রজন্ম অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাক তরুণদের মতামত তুলে ধরছে। ফলে তারা তাদের চিন্তাভাবনা প্রকাশ করার সুযোগ পাচ্ছে। তাদের দেওয়া হচ্ছে নিজেদের প্রকাশ করার একটি প্ল্যাটফরম। দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দৈনিকে নিজেদের মতামত প্রকাশের মাধ্যমে তরুণদের চিন্তাভাবনা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের সর্বত্র। এই উদ্যোগ সত্যিকার অর্থে খুবই প্রশংসনীয়। তারা অনুপ্রাণিত করছে দেশের হাজারো তরুণকে। তারা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে। ফলে অনেক অবহেলিত প্রতিভা হারিয়ে যাচ্ছে না। বরং তা অন্ধকার থেকে আলোয় আসছে। এভাবেই একজন প্রতিভাবান তরুণ অনুপ্রাণিত করছেন আরো হাজারো প্রতিভাকে। 

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় দৈনিক হিসেবে সাহিত্য বিশেষ স্থান করে নিয়েছে ইত্তেফাকে। নবীন প্রতিভাবান অনেক লেখক উঠে আসছেন এখান থেকে। ইত্তেফাক সাময়িকীতে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হয় সাহিত্য ও দেশের শিল্প সাংস্কৃতিক বিষয়াবলী। এছাড়াও রয়েছে মহিলা অঙ্গন এবং কচি-কাঁচার আসর। নারীদের জন্য আলাদাভাবে সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এতে তারা তাদের নিজেদের মনোভাব প্রকাশ করার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রস্ফুটিত হচ্ছে নারীদের সুপ্ত প্রতিভা। পিছিয়ে পড়া নারী সমাজ এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে নারীরা জায়গা পাচ্ছে, সুযোগ পাচ্ছে নিজেদের তুলে ধরার। দেশ ও সমাজের সামনে তারা নিজদের পরিচয় তৈরি করতে পারছেন। নিজেদের অবস্থান শক্ত করে এভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে নারীরা। এর পাশাপাশি রয়েছে শিশুদের প্রতিভা বিকাশের ব্যাপক সুযোগ। নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হচ্ছে ছোটদের লেখা কবিতা, গল্প, চিত্রাঙ্কন। 
এভাবেই কালের পরিক্রমায় নিজদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে এগিয়ে যাচ্ছে ইত্তেফাক। দেশ-বিদেশের তথ্যবহুল এবং সত্য সংবাদ প্রকাশে তারা একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সত্য প্রকাশে নির্ভীকতা এবং সাহসী সাংবাদিকতায় তারা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এগিয়ে যাবে সামনে। দেশের গৌরব ও অর্জনের মহিমা তাদের সঠিক সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে ছড়িয়ে যাবে বিশ্বে। সমগ্র দেশ ও জাতির উন্নয়নে এবং দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবে তারা, ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এই কামনায় শুভ হোক ইত্তেফাকের পথচলা। 

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন