দৈনিক ইত্তেফাকের ৬৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কানাডায় অভিবাসী বাংলাদেশি লেখক ও সাংবাদিকেরা শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানান। তারা হচ্ছেন- লুৎফর রহমান রিটন, সুমন রহমান, শহিদুল ইসলাম মিন্টু, মাহবুবুল হক ওসমানী এবং সাকিবুর রহমান খান।
বিশিষ্ট লেখক লুৎফর রহমান রিটন স্মৃতিচারণের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আমার আত্মপ্রকাশের প্রথম মুখপত্র ইত্তেফাক। আমার শৈশব কৈশোরে ইত্তেফাক ছিলো সেই পত্রিকা যে পত্রিকার কোনো একটা নিউজের মধ্যেও নিজের নামটা মুদ্রিত হলে সেটা সারাদেশে রাষ্ট্র হয়ে যেতো। প্রচার সংখ্যায় শীর্ষে ছিলো দৈনিক ইত্তেফাক। দেশের অন্য সব দৈনিকের সার্কুলেশন একসঙ্গে যোগ করেও ইত্তেফাকের সঙ্গে পার্থক্যটা ছিলো আকাশ পাতাল পর্যায়ের।
ঊনপঞ্চাশ বছর আগে, আমার বালক বয়েসে ১৯৭২ সালে ইত্তেফাকের ছোটদের পাতা কচি-কাঁচার আসরের মাধ্যমেই ছড়াকার হিশেবে আমার প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটেছিলো। এরপর আমার পুরো বিকাশকালটা পল্লবিত হয়েছে ইত্তেফাকের পরম মমতা আর ভালোবাসায়। ইত্তেফাকের রোকনুজ্জামান খান দাদাভাইয়ের কল্যাণেই সেদিনের খুদে লেখক লুৎফর রহমান রিটনের যৌবনপ্রাপ্তি ঘটেছিলো। ইত্তেফাক তাই আমার কাছে প্রথম প্রেমের নাম। প্রথম ভালোবাসার নাম। শুভ জন্মদিন ইত্তেফাক। ভালো থেকো তুমি।
অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলা সাবেক সাব-এডিটর ও শিফট ইনচার্জ সুমন রহমান বলেন, দৈনিক ইত্তেফাক আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে আপোসহীন ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে এসেছে ইত্তেফাক। বাংলাদেশের অভ্যুদয়, তার বিবর্তন ও ক্রমবিকাশের বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে ইত্তেফাকের পাতায়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইত্তেফাকের প্রকাশনা ‘প্রথম পাতা ১৯৫৩ – ১৯৭২’ এক অসামান্য ঐতিহাসিক দলিল। নতুন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই পাতাগুলোর ওপর নজর বুলালেই একটি জাতির সচিত্র ইতিহাস ও সেইসঙ্গে ইত্তেফাকের ভূমিকা পরিস্ফুট হয়ে উঠবে তাদের সামনে।
এখন শুধু মাত্র ঢাকা থেকেই প্রকাশিত হচ্ছে ৫০২টি দৈনিক। সেখানে সর্ব শীর্ষে ইত্তেফাক। সোশ্যাল মিডিয়া ও ফেক নিউজের এই ডামাডোলের মাঝে দৈনিক ইত্তেফাক গণমানুষের নির্ভরযোগ্য মিডিয়ার ভূমিকা পালন করুক এটাই কাম্য।
স্থানীয় এন আর বি টিভির সিইও, এবং সাপ্তাহিক বাংলা মেইলের সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিন্টু জানান, বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির 'আর্কাইভ' ইত্তেফাক। প্রাচীনতম এই পত্রিকাটির সবচেয়ে বড় সাফল্য হচ্ছে যুগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আধুনিকায়ন। মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ, শিল্প কিংবা সংস্কৃতি, সবকিছুতেই ইত্তেফাকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতা জীবনের শুরুতে এই পত্রিকাটির সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক ছিলো। প্রতি শুক্রবারে প্রকাশিত 'তরুণকন্ঠ' ফিচার পাতার নিয়মিত প্রদায়ক ছিলাম টানা কয়েকবছর। অনেক স্মৃতি এই প্রকাশনাটিকে ঘিরে। ইত্তেফাক আরও এগিয়ে যাক। শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দেখার প্রত্যাশা রইলো। বাংলামেইল ও এনআরবি টিভি পরিবারের পক্ষ থেকে ইত্তেফাক সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন।
সিবিএন২৪’এর সম্পাদক মাহবুবুল হক ওসমানী বলেন, সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক এবং ছাত্র হিসেবে আমরা ইত্তেফাকের মাধ্যমে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। দেখেছি- স্বাধীনতার অনেক আগে থেকেই এই পত্রিকা নানা ভাবে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করছে, যা আমাদের জন্য গর্বের। এবং এখনো সেই তা অব্যাহত রয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় ইত্তেফাকের বিরল অবদান অতুলনীয়। দীর্ঘ সাত দশকে অনেক দৈনিক হারিয়ে গেলেও ইত্তেফাকের গৌরবোজ্জ্বল পতাকা এখনো পত পত করে উড়ছে। সেই ধারা অব্যাহত থাকবে, এই প্রত্যাশা করছি।
দৈনিক প্রথম আলোর অবৈতনিক প্রতিবেদক সাকিবুর রহমান খান ইউনিপেক থেকে জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ইত্তেফাক যে ভূমিকা রেখেছে তা অনবদ্য। এখনো দেশে এবং দেশের বাইরে কানাডার ম্যানিটোবাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের খবর আপনার মাধ্যমে ইত্তেফাক যে প্রকাশ করছে তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। এই পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া থেকে শুরু করে আমাদের কানাডা প্রতিনিধিসহ ইত্তেফাকের দীর্ঘ চলার পথে যারা ইত্তেফাককে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন এবং নিয়ে যাচ্ছেন, তাদের সবাইকে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা।
