স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই বাংলার মাটিতে নিজ অস্তিত্ব গেঁথে নিয়েছে ‘দৈনিক ইত্তেফাক’। স্বাধীন-বাংলাদেশের নয় মাসব্যাপী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের চাক্ষুষ সাক্ষী এই ইত্তেফাক। সুদূর অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত অসংখ্য জ্ঞানী, গুণী ও মহীয়সীদের কলম আঁকড়ে ধরার উদ্দেশ্য ছিল এই ইত্তেফাক।
ইত্তেফাক যেন সবার শিক্ষক, অসংখ্য নবীনদের পাশাপাশি প্রবীণদের মধ্যে এক অভিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ গুরুর ন্যায় ভূমিকা পালন করে আসছে। ইত্তেফাকের জন্ম ও পথচলার ইতিহাস অনুবাদ করতে গেলে হাতে-কলমে অজ্ঞ কোনো সাধারণ ব্যক্তিও খ্যাতিমান লেখকে পরিণত হওয়ার যোগ্যতা রাখে। কখনো কলম স্পর্শ করেনি যিনি, ইত্তেফাক তাকেও লেখায় পারদর্শী করে তোলে। পুরাতন থেকে নতুন উভয় প্রজন্মের প্রেরণার উত্স এই ইত্তেফাক। নবীন কোনো লেখক ইত্তেফাকের ছোঁয়ায় নিজ পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের মানসিকতায় আধুনিকতা আনতে সক্ষম হয়। মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনের চেতনা নিয়ে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাওয়া এই ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ সাধারণ জনগণকেও তার চেতনার অংশ করে নিচ্ছে।
পাঁচ যুগেরও অধিক সময় যাবৎ বাংলার মানুষদের নিকট অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নানা সংবাদ প্রেরণে সফল একটি পত্রিকার নাম ইত্তেফাক। ইত্তেফাক তার স্বতন্ত্রতা ও সম্মান এতটাই নিখুঁত ভাবে বজায় রেখেছে, যা তাকে পাঠক ও লেখদের কাছে স্বাভাবিকের তুকনায় কিছুটা অধিক আকর্ষণীয় করে তোলে। লেখার শৈল্পিক চিন্তা-চেতনার কারণে অতিরিক্ত প্রশংসার দাবিদার এই ইত্তেফাক। নবীন থেকে শুরু করে প্রবীণ পর্যন্ত অসংখ্য লেখকের জন্য ইত্তেফাকের পাতায় নিজ লেখা দেখতে পাওয়া মানেই সাহিত্য জীবনের সফলতার পূর্ব ইঙ্গিত। অসংখ্য খ্যাতিমান কলামবিদ, কবি ও লেখকের মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই ইত্তেফাকের বুকে। ইত্তেফাক এমন একটি পত্রিকা যা অনেক অখ্যাত জনকে বিখ্যাত করতে সক্ষম।
ইত্তেফাকে লেখার মাধ্যমে লেখায় শৈল্পিকতা আনা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। লেখক স্বত্তার বহিঃপ্রকাশের ও গৌরব মণ্ডিত প্রচারের এক সফল ও কার্যকরী মাধ্যম ‘দৈনিক ইত্তেফাক’। সেই অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত অসংখ্য জ্ঞানী-গুণীদের সংমিশ্রণে কাজ করে যাচ্ছে ইত্তেফাক। ইত্তেফাক যেন জ্ঞানীদের যৌথ প্রযোজনায় গঠিত বিশাল এক মিলন মেলা, যার প্রতিটি শব্দ ও বাক্যের গঠন হৃদয়স্পর্শী।
বলা বাহুল্য, ইত্তেফাকের দীর্ঘ সময়ের এই পথচলা অতটা সহজ ছিল না। বাধাহীনভাবে সত্যতার প্রকাশ অনেক সময় স্বপ্নতূল্য কিন্তু এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরের ক্ষেত্রে ইত্তেফাকের সফলতার সমকক্ষ উদ্ঘাটন করা দুরূহ ব্যাপার। হিংস্র চিতার মুখ থেকে আহার ছিনিয়ে নিয়ে আনার মতো ভয়ানক অনেক কাজও খুবই বীরত্বের সঙ্গে করেছে ইত্তেফাক। সত্য প্রকাশে অকুতোভয় প্রতিটি পত্রিকা কিন্তু তুলনামুকভাবে ইত্তেফাক যেন প্রয়োজনাতিরিক্ত প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য।
নতুন প্রজন্মকে সৃজনশীলতার শিক্ষা দেওয়ার মতো মহিমান্বিত অসংখ্য কর্মের এক স্পষ্ট ও উন্মুক্ত দলিল এই ইত্তেফাক। ইত্তেফাক পরিশ্রমের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করতে শিখায়, বিনম্র ও শান্তিপ্রিয় হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে লুকায়িত হাতিয়ারের বহিঃপ্রকাশ ও ব্যবহার করতে শিখায়। সময়ের পরিক্রমায় অনেক কিছু পরিবর্তন ঘটলেও নিজ পরিচয়ে অটল রয়েছে সকল কনিষ্ঠের জ্যেষ্ঠ এই ‘দৈনিক ইত্তেফাক’।
স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের জন্য এক উপযুক্ত ও অখণ্ডিত পথনিদর্শক ‘দৈনিক ইত্তেফাক’। ইত্তেফাক আমাদের দেশ ও জাতিকে,আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে জাতীয়ভাবে যতটা নির্ভুলতা ও বাস্তবতার সংমিশ্রণে উপস্থাপন করে আসছে, তা অস্বীকার করে কৃতঘ্নতার পরিচয় আমরা দিতে নারাজ। আমাদের বাঙালি জাতিকে কৃতজ্ঞ করে তুলেছে এই ইত্তেফাক। নতুন প্রজন্মের ব্যবহারিক বিজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ করার এক গরিষ্ঠ ও সর্বাধিক স্বীকার্য বাহন এই ‘দৈনিক ইত্তেফাক’। বাংলার মানুষের গৌরব ও ঔদ্ধত্যের প্রতীক এই ইত্তেফাক।
তাই পথচলার প্রতিটি প্রহরে, শয়ন ও জাগ্রদবস্হায় আমাদের অনুভূতিতে প্রবহমান, আমাদের কাব্যিক ও সাহিত্যিক চিন্তনের প্রাথমিক মুখ্যমণি এই জাতীয় ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ যেন সর্বদা ‘তাজিংডং’ এর ন্যায় মাথা উঁচু করে রাখতে পারে ও ‘প্রশান্তের’ ন্যায় নিজেকে ছড়িয়ে রাখতে পারে—সেই প্রত্যাশা। নতুন প্রজন্মের দৃঢ় মনোবল সংগ্রাহক ও পূর্ণতাপ্রাপ্ত পথনিদর্শক হিসেবে ইত্তেফাকের এই অদম্য প্রচেষ্টাকে আমারা অবিরতভাবে স্বাগত-সম্ভাষণ করাতে সর্বদা প্রস্তুত ও ভাবাবিষ্ট কারণ ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ আমাদের ঔদ্ধত্যের প্রতীক।
লেখক: শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
