ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, প্রযুক্তি দিয়েই প্রযুুক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণার পর গত দশ বছরে তথ্যযোগাযোগ প্রযুক্তির অভাবনীয় রূপান্তরের ফলে ডিজিটাল নিরাপত্তার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যেই বিশ হাজার পর্নো সাইট বন্ধ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়টি আগামী দিনের বড় পেশায় রূপান্তরিত হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে প্রচুর গবেষণা, মেধা ও দক্ষ জনসম্পদ সৃষ্টি এবং সৃজনশীলতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য প্রকৌশলীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী আজ ঢাকায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি)-এর কম্পিউটারকৌশল বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত সাইবার নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দ্রুত গতির ইন্টারনেটের পাশাপাশি ইন্টারনেট নিরাপত্তা অপরিহার্য। শিশুদেরকে ইন্টারনেটে আসতে বলছি, ইন্টারনেট ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছি কারণ ইন্টারনেট হচ্ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জ্ঞান ভান্ডার। ইন্টারনেট এখন শ্বাস-প্রশ্বাসের মতোই অতিপ্রয়োজন। শিশুদের জন্য ইন্টারনেট নিরাপদ করতে আমাদের সাইবার নিরাপত্তা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এই ক্ষেত্রে তিনি ইন্টারনেট নিরাপত্তা সম্পর্কে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সকলে সচেতন থাকলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কেউ খারাপভাবে ব্যবহার করতে পারবে না।
মোস্তাফা জব্বার গত দশ বছরে বাংলাদেশের অগ্রগতিকে বিস্ময়কর উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বের ফলে গত দশ বছর বাংলাদেশ জিডিপিতে অব্যাহতভাবে শতকরা ৭ ভাগের বেশি অবদান রেখে চলেছে, এই নজির কারো নেই।
তিনি বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে প্রযুক্তির অত্যাশ্চর্য ভার্সন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগডাটা, ব্লকচেইন এবং আইওটি প্রযুক্তি বিশ্বকে পাল্টে দেবে। এই প্রযুক্তির সঙ্গে টিকে থাকার জন্য বাংলাদেশ এখন প্রস্তুত তবে এক্ষেত্রে আমাদের নতুন প্রজন্মকে আরও দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নিয়ন্ত্রণে গত এক বছরে সরকারের গৃহীত উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, ফেস বুক কর্তৃপক্ষ এক বছর আগেও আমাদেরকে পাত্তা দিত না। ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন আর আগের অবস্থায় নেই। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অপপ্রয়োগ হতে পারেনি।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ.বি.এম. আলিম আল ইসলাম এবং ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এসডিসি নাজমুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর সম্মানী সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খন্দকার মনজুর মোর্শেদ। সম্মানিত আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেলিটক বাংলাদেশ লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. সাহাব উদ্দিন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আইইবি’র কম্পিউটার কৌশল বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান প্রকৌশলী তমিজ উদ্দীন আহমেদ।
