মানিকগঞ্জের ঘিওরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে গরু চুরির ঘটনা। গত দুই দিনে ঘিওর ইউনিয়ন থেকে ১০টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে গরু চুরির আতঙ্কে ঘুম হারাম হয়ে গেছে উপজেলার প্রতিটি গ্রামের গরু পালনকারী খামারি ও সাধারণ গরুর মালিকদের। একটি চক্র গত বছর দুয়েক ধরে শীতের মৌসুমে গরু চুরি করে আসছে। এমনকি এই চক্রের সঙ্গে গরুর দালাল ও কসাইদের যোগসাজশ রয়েছে। চুরি হওয়া গরু নির্জন স্থানে জবাই করে রাতের আঁধারে মাংস পাচার করে দিচ্ছে তারা। এই মাংস রাতের মধ্যেই চলে যায় জেলা শহর কিংবা অন্যত্র—এমন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
ভুক্তভোগী কৃষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলা সদর ইউনিয়নের পশ্চিম দোতরা গ্রামের মৃত আরমান আলীর ছেলে আবুল বাশারের চারটি গরু (আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ টাকার বেশি) চুরি হয়েছে। ঐ রাতেই একই গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে তফিজ মাতাব্বরের একটি গাভী ও দুইটি বাছুরগরু চুরি হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা। এই গরু পালনই ছিল তাদের অর্থনৈতিক উপার্জনের একমাত্র সম্বল। শেষ সম্বল চুরি যাওয়ায় এখন তারা সবাই সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে। এর আগে সোমবার রাতে কৃষি খামারি মো. আনোয়ার হোসেনের প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি গরু চুরি হয়। ভোররাতে রাস্তার পাশে গরুর মাংস নিয়ে একটি গরুর মৃত বাচ্চা ও চামড়া ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এলাকার লোকজন ভোরবেলা রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার পথে এ দৃশ্য দেখতে পায়।
এছাড়াও সম্প্রতি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ফলসাটিয়া বাসস্ট্যান্ডর ঠিক উত্তর পাশে সরিষাখেতে রক্তাক্ত গরুর মাথা, চামড়া ও ভুঁড়ি পাওয়া যায়। গত দুই বছর আগে উপজেলার বানিয়াজুরী বেড়িবাঁধ, মহাদেবপুর, ধুলন্ডী, সাটুরিয়া, হরিরামপুরেও এমন অমানবিক কর্মকাণ্ডের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
চঙ্গশিমুলিয়া এলাকার কৃষি খামারি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ‘প্রতিদিনের মতো রাতে গোয়ালঘরে গরু দেখতে উঠি। কিন্তু দেখি আমার ঘরের দরজা বাইরে শেকল দিয়ে আটকানো। পরে পাশের লোকজন ডাকাডাকি করে এনে দরজা খুলি। ঘর থেকে বেরিয়ে গোয়ালঘরের সামনে গিয়ে দেখি গরুগুলো নেই। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও গরুগুলো পাইনি। আমার গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য আড়াই লাখ টাকা। আমি রাতেই থানায় ফোন দিয়েছিলাম কিন্তু তারা না এসে আমাকে থানায় যেতে বলেছেন।’
চঙ্গশিমুলিয়া এলাকার মো. হারুন মাস্টার জানান, বিগত কয়েক বছর যাবৎ এ ধরনের গোশত চুরির ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিম দোতরা গ্রামের আবুল বাশার, তফিজ মাতাব্বর ও শিমুলিয়া এলাকার আনোয়ারের গরুগুলো চুরি হওয়ায় ঐ পরিবারগুলো একবারে পথে বসে গেল। গতকাল সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, চঙ্গশিমুলিয়ার খামারি আনোয়ার হোসেনের তিনটি গরু চুরি যাওয়ার শোক সহ্য করতে না পেরে গতকাল ভোররাতে আনোয়ার হোসেনের বাবা আমজাদ মাস্টার বুকের ব্যথায় মারা যান।
ঘিওর থানার ওসি (তদন্ত) মো. মহব্বত খান বলেন, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ ঘটনায় সড়কে থানাপুলিশের টহলের পাশাপাশি বিভিন্ন যানবাহনেও তল্লাশি জোরদার করা হচ্ছে। সংঘবদ্ধ এই চোরচক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
