বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ১৫ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আরো ধৈর্য ধরিতে হইবে, উপায় নাই 

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৫:০৮

অনেকেই আশা করিয়াছিলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্হিতি ২০২১ সালে সহনশীল হইয়া উঠিবে। তাহা হইলে ২০২২ সালের শুরুটায় আবার বিশ্ব স্বাভাবিক জীবনে ফিরিবে, অর্থনৈতিক মন্দা অবস্হা ঘুচিতে শুরু করিবে। কিন্তু তাহা তো হয়ই নাই, বরং গোটা বিশ্ব নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের আঘাতে আবার নাস্তানাবুদ হইয়া পড়িয়াছে। কোনো কোনো দেশে বিগত সংক্রমণের রেকর্ড ভঙ্গ হইতেছে। ফ্রান্সে বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় ২ লক্ষ ৮ হাজার নূতন সংক্রমণ ঘটিয়াছে। যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীনসহ এবং ইউরোপের অপরাপর দেশেও পরিস্হিতি ভয়ানক হইয়া উঠিয়াছে।

 আশঙ্কার বিষয় হইল, বাংলাদেশও কোনো ব্যতিক্রম নহে। বৃহস্পতিবার দেশে সরকারি হিসাবে ৫০৯ জন নূতন রোগী সংক্রমিত হইয়াছে এবং সাত জন মৃত্যুবরণ করিয়াছে। এর আগে সর্বশেষ ১৩ অক্টোবরের এত অধিকসংখ্যক রোগী দেখা গিয়াছিল। লকডাউনের অর্থনৈতিক ক্ষতি জানিয়াও বিভিন্ন দেশ আবার লকডাউন দিতে বাধ্য হইতেছে। অর্থাৎ গোটা পৃথিবীতে জীবন আপাতত দুর্বিষহই রহিয়া যাইতেছে। সর্বার্থেই। দুই বত্সর যাবৎ সামাজিক, পারিবারিক, অর্থনৈতিক জীবন যেন থমকাইয়া গিয়াছে। পরিবারের সদস্যরা একে অন্যের সঙ্গে কুশল বিনিময় করিতে পারিতেছেন না, পাইতেছেন না নিকটজনের সান্নিধ্য। মানুষ অবসাদগ্রস্ত হইয়া পড়িয়াছে। অর্থনৈতিক অবস্হার কথা বিবেচনা করিলে তাহা যেন আরো করুণ দৃশ্য আমাদের সম্মুখে চিত্রায়িত করিয়া চলিয়াছে। 

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পাইয়াছে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী অর্থনীতির দেশে ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তাক খালি হইয়া আসিয়াছে। অর্থাৎ সরবরাহ চেইন যেমন বাধাগ্রস্ত হইতেছে তেমনি গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতাও সীমাবদ্ধ হইয়া পড়িয়াছে। অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলিতেও পূর্বেই অসংখ্য কোম্পানি-ফ্যাক্টরি লে অফ ঘোষণা করিতে বাধ্য হইয়াছে। প্রথম দিকে ভাবা হইয়াছিল ইহা হয়তো অতি সাময়িক সমস্যা, যাহার ধাক্কা বিশ্ব শীঘ্রই কাটাইয়া উঠিতে পারিবে। কিন্তু এই করোনা সংক্রমণের একের পর এক ঢেউ এবং নূতন ভ্যারিয়েন্ট আক্ষরিক অর্থেই এখন বিচলিত করিয়া তুলিয়াছে বিশ্ব অর্থনীতিকে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাধাগ্রস্ত হইতেছে ব্যাপকভাবে, যাহা পুনরায় গড়িয়া তুলিতে কত সময় পার হইবে তাহা কে জানে! মনে রাখিতে হইবে, এই পরিস্হিতি কিন্তু আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজার পর্যন্ত গড়াইয়া যাইতেছে। 

বিশ্ব এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করিয়াছে যে, একটি দেশ একা ভালো থাকিবার কোনো সুযোগ নাই। অপরাপর দেশের ব্যবসায়-বাণিজ্য সকল কিছু বন্ধ হইয়া থাকিলে তাহা নিজ অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলিবেই। ভ্যাকসিন প্রদানের কাজ চলিতেছে বটে, কিন্তু তাহাও এখন পর্যন্ত কোনো দেশকেই কোভিড হইতে সম্পূর্ণ মুক্ত করিতে পারে নাই। উন্নত দেশগুলি শত ভাগ দুই ডোজ টিকা প্রদান করিয়া এখন বুস্টার টিকায় মনোনিবেশ করিয়াছে। কিন্তু উন্নয়নশীল অনেক দেশ এখন পর্যন্ত দুই ডোজ টিকা দিতে পারে নাই। বলিবার অপেক্ষা রাখে না যে, উন্নয়নশীল দেশগুলির সার্বিক অবস্হা করুণতর। সীমিত সম্পদের দেশগুলিতে এমনিতেই অসন্তোষের মাত্রা বেশি। অধিকন্তু সমালোচনাও সহ্য করিতে হয় অধিক। সুতরাং এই সকল দেশের অর্থনীতির দিকে তাকাইয়া দেখিতে হইবে। শত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও অর্থনীতি ও স্বাস্হ্যব্যবস্হা নিয়ন্ত্রণে আনা যাইতেছে না। 

বাংলাদেশও ইহার ব্যতিক্রম নহে। এহেন পরিস্হিতিতে একমাত্র সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রাখা এবং ধৈর্য ধারণ করা ছাড়া আর কীই-বা করিবার আছে। জগতের প্রতিটি বড় ধর্মেই ধৈর্যের পরামর্শ দেওয়া হইয়াছে। তাহাই এখন ভরসা প্রতীয়মান হইতেছে। তথাপি সতর্ক থাকিতে হইবে। গা এলাইয়া দিলে চলিবে না। হিসাব কষিতে হইবে সামনের দিনগুলির দিকে তাকাইয়া। বিশেষ করিয়া যদি অর্থনীতির চাকা সচল রাখিতে হয়। আমরা সর্বজনবিদিত, অর্থনীতি স্হবির হইয়া পড়িলে সর্বার্থেই মুখ থুবড়াইয়া পড়াটা অবশ্যম্ভাবী হইয়া উঠিবে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

আত্মতৃপ্তি লাভ মানে যবনিকা পতন

দুখু মিয়াদের দুঃখ করিবার কারণ নাই!

প্রকৃতির প্রতি সুবিবেচনার সময় আসিয়াছে

স্বপ্ন আজ সত্য হইয়া ধরায় নামিল

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

স্বপ্ন ভাঙিয়া যায় বাস্তবতার করাঘাতে

নার্স নিয়োগ ও সেবাব্রত

গণপরিবহনের দুই রকম চিত্র কেন?

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাই রক্ষাকবচ