ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এমপির ভাই নৌকার ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী 

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯:০৬

রাজশাহীর বাগমারায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন স্থানীয় সাংসদ এনামুল হকের সহোদর ভাই রেজাউল হক। উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন। বাগমারা উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য, রেজাউল হক বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। আগামী ৫ জানুয়ারি বাগমারা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। 

মাড়িয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আসলাম আলী আসকান বলেন, এনামুল হক আওয়ামী লীগের সাংসদ হলেও তার সহোদর রেজাউল হক, স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের লোকজনকে নিয়ে চেয়ারম্যান পদে ভোট করছেন। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেননি রেজাউল হকও। তিনি বলেন, ‘আমার পক্ষে সবাই কাজ করছেন। বিএনপি-আওয়ামী লীগ সবাই। আওয়ামী লীগের ঝড়ে পড়া, পুরোনো নেতারাই বেশি কাজ করছেন।’
 
এদিকে নির্বাচনে প্রচার শুরুর পর থেকেই সাংসদের সহোদর ভাই নানাভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আসলাম আলী বলেন, ‘সাংসদ এনামুল হক নৌকার পক্ষেই আছেন। তবে তার ভাই রেজাউল হক, ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছেন। রেজাউলের মোটরসাইকেল প্রতীকের সমর্থকেরা ১ নম্বর ওয়ার্ডে নৌকার কোনো পোস্টার রাখছেন না। সেখানে নৌকার এক কর্মীকে মারধর করা হয়েছে। এ নিয়ে থানায় অভিযোগও করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’ 

আসলাম আরও বলেন, ‘সাংসদের সহোদর রেজাউল ও তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। তারা কেন্দ্র দখল করে নেবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। নৌকায় ভোট দিলে পরিণতি খারাপ হবে বলেও হুমকি দিচ্ছেন। এ নিয়ে সাধারণ ভোটাররা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই ভোট দিতে যাবেন কি-না? তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।  তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে রেজাউল হক বলেছেন, ‘মানুষের চাওয়া আমি চেয়ারম্যান হই। আমার জন্য সব শ্রেণিপেশার সব দলের মানুষ কাজ করছেন। মনোনয়ন না পেয়ে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। এটা বিদ্রোহী নয়। এখন স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় নৌকার প্রার্থী এবং তাঁর সমর্থকেরাই আমার লোকদের মারধর করছেন। এ কারণে আমার তিনকর্মী থানায় অভিযোগ করেছেন।’ 

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ প্রসঙ্গে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাক আহমেদ বলেছেন, ‘দুইপক্ষেই থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। তবে ভোটের পরিবেশ ভালো।’ 

প্রসঙ্গত, মাড়িয়া ইউপি নির্বাচনে আসলাম ও রেজাউল ছাড়াও আরেকজন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। তার নাম আকবর আলী। তিনিও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এবং একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনিও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। গতবার ইউপি নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন। তখনই তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। 

এবারের ইউপি নির্বাচনে সহোদর ছোট ভাইয়ের বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে কথা বলতে বাগমারার সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হকের মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তবে সাংসদ এনামুলের ব্যক্তিগত সহকারী, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বাগমারায় যারাই বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, তাদের সকলকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

ইত্তেফাক/ ইআ