উত্পাদন ও বাজারদর ভালো, খুশি চাষিরা

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:০৩

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার চরখাগরিয়া গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ করা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দিবসকে ঘিরে এখান থেকে সারাদেশে অর্ধকোটি টাকার ফুল রপ্তানি হয়ে থাকে বলে চাষিরা জানান। একযুগেরও অধিক সময় ধরে এই গ্রামে ফুলের আবাদ হয়ে আসছে। ফুল চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে অর্ধশতাধিক পরিবার।

সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে দেখা যায়, উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের চরখাগরিয়া গ্রামে বিভিন্ন বাড়ির আঙিনাসহ বিশাল মাঠজুড়ে ফুল চাষ করা হয়েছে। গোলাপ, সাদা গোলাপ, গাঁদা, ইন্ডিয়ান খাঁসি গাঁদা, চায়না বেলি, জবা, বোতাম, গ্ল্যাডিওলার্স, জিপসি, গোলাচী, ডালিয়াসহ নানান প্রজাতির ফুল ধরেছে এসব বাগানে। সড়কের দুই পাশে লাগানো স্টার ফুল যেন পথচারীদের জন্য ভিন্ন ধরনের এক আকর্ষণ। মাঠে একদল শিশু গাঁদা ফুল তোলে বস্তাভর্তি ও ড্রাম ভর্তি করছে। এসময় তাদের সাথে কথা হলে তারা জানান, স্কুল শেষ করে এসে দরিদ্র পরিবারকে একটু সহযোগিতা করতে প্রতিদিন তারা কয়েকজন মিলে দল বেঁধে বস্তা ও ড্রাম নিয়ে ফুল তুলতে আসে। প্রতি বস্তায় ফুল ভরে মজুরি হিসাবে পায় ৫০ থেকে ৮০ টাকা। এভাবে শিশুগুলোর দৈনিক আয় ১০০-১৫০ টাকা। এই সামান্য টাকায় বড় জোগান হয়ে উঠে তাদের দরিদ্র পরিবারে।

ফুল চাষি মোহাম্মদ সাকিব জানান, আমি এক সময় জমিতে সবজি চাষ করতাম। সবজিতে লাভের মুখ না দেখে ঝুঁকে পড়েছি ফুল চাষে। ৪ কানি জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ করেছি। ফুল চাষ করে বছরে সব খরচ বাদ দিয়ে ৫০-৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ থাকে।

গ্ল্যাডিওলাস ফুল চাষি নুর মোহাম্মদ, গাদা ফুল চাষি আবদু ছফুর, সৈয়দ আহমদ জানান, ফুলের বাগান করতে খরচ ও শ্রম একটু বেশি। এই গ্রামে ফুল চাষ করে কয়েক ব্যক্তি কোটি টাকার মালিকও হয়েছেন। আবার অনেকে ফুল চাষ করে চট্টগ্রাম শহরে ফুলের দোকানও গড়ে তুলেছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে উত্পাদিত ফুল চাষিদের ন্যায্যমূল্য দিয়ে ক্রয় করে প্রতিদিন নিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ ফুল সরবরাহ করে হাজার হাজার টাকা আয় করে যাচ্ছে। ফুল চাষি মহিউদ্দিন জানান, বছরের সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দিবস, বিয়ে ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বিয়ের লগ্নকে ঘিরে ফুলের চাহিদা প্রচুর পরিমাণ বাড়ে ও দামও থাকে ভালো।

ফুলের বাগান হতে ফুল তুলতে রসুলপুর মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মিনহাজ (১১), ৭ম শ্রেণির ছাত্র মিশকাত (১২), খাদিম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আবির (১১) ও খাদিম আলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র তারেক (৯) ইত্তেফাককে জানান, স্কুল ছুটির পর তারা বাগানে ফুল তুলতে আসেন। এক বস্তা ফুল তুলে দিলে তারা পায় ৫০-৮০ টাকা। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই গ্রামে প্রচুর পরিমাণ ফুল চাষ হয়ে আসলেও উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে ফুল চাষিরা উন্নত পরিসরে সেবা পান না।

সাতকানিয়া উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এস এম জহির বলেন, ফুল চাষ করে চরখাগরিয়ার কৃষকরা সফলতা পেয়েছেন। ওই গ্রামে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ফুল চাষ। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই গ্রাম থেকে উত্পাদিত ফুল বাণিজ্যিকভাবে দেশ-বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব।