বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ১৫ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এইডস

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২২, ২০:১৩

এইডস (Acquired Immune Deficiency Syndrome/AIDS) এইচআইভি (Human Immuno-deficiency Virus/HIV) নামক ভাইরাস সংক্রমণের কারণে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। 

১৯৮১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লসএঞ্জেলস-এ সর্বপ্রথম এইডস শনাক্ত করা হয়। এশিয়ার মধ্যে থাইল্যান্ডে ১৯৮৪ সালে প্রথম এইডস লক্ষ করা যায় এবং মিয়ানমার ও ভারতীয় উপমহাদেশে ১৯৮৬ সালের মধ্যেই এর প্রাদুর্ভাব ঘটে।

বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এইডস শনাক্ত হয় ১৯৮৯ সালে। এরপর থেকে ১০, ২০, ১০০ বা ২০০ জন করে নতুন রোগী প্রতিবছর শনাক্ত হয়েছে। ২০১৮ সালে নতুন রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬৯ জনে। এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে প্রথম এক রোগী মারা যায় ২০০০ সালে। ২০১৮ সালে একই রোগে মৃতের সংখ্যা ১৪৮।

জাতিসংঘের এইচআইভি-এইডস বিষয়ক সংস্থা ইউনিএইডস এর তথ্য মতে, বাংলাদেশে এখন এইডস আক্রান্তের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ০.১ শতাংশ। 

ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১৪ হাজারের বেশি। তবে দেশে চিকিৎসার আওতায় রয়েছে মাত্র আট হাজার রোগী। এই আক্রান্ত হয়ে এই বছরে বাংলাদেশে মৃত্যু হয়েছে ২০৫ জনের। আর এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৫৮৮ জনের। দেশের ২৩ জেলায় এইচআইভি (এইডস) আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি বাড়ছে। যার কারণে ওই এলাকাগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে ঢাকা, গাজীপুর, বগুড়া, বাগেরহাট, যশোর, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, পাবনা ও চট্টগ্রাম ইত্যাদি। 

বাংলাদেশে এইচআইভি ছড়ায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে। নারী-পুরুষ যৌনকর্মী ছাড়াও বিবাহিত দম্পতিদের মাধ্যমেও এ রোগের বিস্তার ঘটছে। সংক্রমিতদের মধ্যে রয়েছেন নারী ও পুরুষ যৌনকর্মী, সমকামী, যক্ষ্মা আক্রান্ত ব্যক্তি, প্রবাসী শ্রমিক, হাসপাতালে প্রসব সেবা নিতে আসা মা ও রোহিঙ্গা। আক্রান্তদের ৩৩ শতাংশ সাধারণ মানুষ। নতুন রোগীদের একটি বড় অংশ অভিবাসীকর্মী। তবে অভিবাসীদের পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও সংক্রমণের হার বেশি। 

২০১৮ সালে এইচআইভিতে আক্রান্ত নতুন রোগীদের ৩০ শতাংশ ছিল অভিবাসী কর্মী বা তার পরিবারের সদস্য। বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি মানুষ বিদেশে থাকেন। তাদের একটি বড় অংশ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন মধ্যপ্রাচ্যে। এদের কেউ কেউ বিদেশে ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপন করেন। কয়েক বছর ধরেই দেখা গেছে, অভিবাসীদের কেউ কেউ এইচআইভি–আক্রান্ত হয়ে দেশে ফিরছেন।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, শিরায় মাদক গ্রহণকারী, নারী যৌনকর্মী, সমকামী/পুরুষ যৌনকর্মী এবং হিজড়া—এই চার ধরনের জনগোষ্ঠীর মধ্যে এইচআইভি/এইডসের ঝুঁকি বেশি। 

ইউএনএইডসের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, সাধারণ মানুষের চেয়ে যৌনকর্মীদের এইচআইভি/এইডসের ঝুঁকি ২১ গুণ বেশি। বাংলাদেশে এক লাখের বেশি নারী যৌনকর্মী আছে। তাদের মধ্যে কিশোরীদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। প্রয়োজনের সময় অনেকে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে না।

বাংলাদেশে এইচআইভি-এইডস প্রতিরোধে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাগুলো কাজ করছে। তবে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি চিকিৎসার সুযোগ-সুবিধা এখনো কম। বেসরকারি কিছু সংস্থার মাধ্যমে রোগীদের সেবা দেওয়া হলেও তা যথেষ্ট নয়।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

একটু চোখ খুলে তাকালেই দেখতে পাবেন

পদ্মা সেতু: শেখ হাসিনার সক্ষমতার স্মারক

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সততা ও সাহসিকতার প্রতীক পদ্মা সেতু

সাফল্য-সংগ্রামে আওয়ামী লীগের অগ্রযাত্রা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সত্যিই কি আমরা দেশকে ভালোবাসি?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল কারেন্সি

পিএসসির আধুনিকায়ন

‘জীবন মরণের সীমানা ছাড়ায়ে’