জাফরউল্ল্যাহর অনুসারী নৌকার প্রার্থী পেলেন ৫৬ ভোট

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২২, ২২:০০

পঞ্চম দফায় অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদরপুর উপজেলার চর মানাইর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ভোট পেয়েছেন ৫৬টি। এই ইউনিয়নের মোট ভোটার ১১ হাজার ৬৮৫টি। এর মধ্যে এই নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৯ হাজার ৮৭৯টি।

সদরপুর উপজেলার চর মানাইর ইউনিয়নটি ফরিদপুর-৪ আসনের অন্তর্গত। এই আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য যুবলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন আর সাবেক সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্ল্যাহ দুই ধারায় বিভক্ত।

গত ৫ জানুয়ারি এই উপজেলার মোট ৯টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়ী হয়েছে তিনটিতে। আর ৬টিতে জয়ী হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এর আগে গত ২৮ নভেম্বর ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে ১৫ ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র একটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিল। বাকি গুলোতে নিক্সন চৌধুরী সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়।

চর মানাইর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ১১ জন নির্বাচন করেন। ৫৬ ভোট পাওয়া নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হলেন মো. বজলু মাতুব্বর। এ নির্বাচনে জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী চশমা প্রতীকের মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৩ হাজার ৩০০ ভোট ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নৌকা প্রতীক নিয়ে ৫৬ ভোট পাওয়া মো. বজলু মাতুব্বর আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী জাফরউল্ল্যাহর সমর্থক। অপরদিকে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম  নিক্সন চৌধুরীর সমর্থক। 

নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট

নৌকার প্রার্থীর এমন ভোট প্রাপ্তির নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি থাকার পরও কী কারণে নৌকার প্রার্থী এত কম ভোট পেলেন, তা খতিয়ে দেখবে জেলা উপজেলার নেতারা।

এ বিষয়ে নৌকার প্রার্থী বজলু মাতুব্বর বলেন, ‘আমি নৌকা প্রতীক পেলেও আমার পক্ষে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়া তো দূরে থাক, কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি। এমনকি কোন খোঁজ-খবরও রাখেননি। আওয়ামী লীগের নেতারা কাজ করেছেন বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে।’

এ বিষয়ে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবুল বাশার জানান, ফরিদপুরের তিন উপজেলা ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের সব ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী জাফরউল্ল্যাহর পছন্দে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল আওয়ামী লীগের কোনো মতামত জাফরউল্ল্যাহ নেননি। অনেক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যাদের অনেককে স্থানীয় ভোটাররা চিনেন না। সদরপুর ইউনিয়নে এমন একজনকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন যিনি নৌকা প্রতীক পেয়েও মনোনয়ন জমা দেননি। নৌকার এই পরাজয়ের কারণ ওই বড় নেতার একঘেয়েমির কারণেই হয়েছে বলে আমরা মনে করি।

এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন, জনগণ যদি ভোট না দেয়, তাহলে কী করার। তাছাড়া এটা নৌকার কোনো পরাজয় নয়। এটা প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরাজয়। তারপরও এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। আমরা দলীয়ভাবে কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

 

 

ইত্তেফাক/ইউবি