শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

শিক্ষার্থীদের মানতে হবে নির্দেশনা

কুয়েটের হল খুলেছে, ক্লাস শুরু রবিবার

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৬:২৩

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) হল খুলে দেওয়া হয়েছে। গত ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৭৮তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো খুলে দেওয়া হয়। 

আগামীকাল রবিবার থেকে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম যথারীতি শুরু হবে। কুয়েটের জনসংযোগ ও তথ্য শাখার মুখপাত্র মো. রবিউল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

কুয়েটের গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৭৯তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কিছু নির্দেশনা দৃঢ়ভাবে মেনে চলার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। 

নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলাবিধির ১২, ১৩, ১৪, ১৬, ১৭ ও ১৮ ধারাসমূহ এবং আবাসিক হলের নিয়মাবলী। ছাত্র শৃঙ্খলাবিধির ১২ ধারা মোতাবেক পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ)-এর পূর্বানুমোদন ছাড়া শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রকার মিছিল, সভা-সমাবেশসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমসমূহ বন্ধ থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারসহ একাডেমিক এরিয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম বহির্ভূত যে কোনো প্রকার ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ইত্যাদি টানানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

কুয়েটের আবাসিক হলের নিয়মাবলীর ৩ (প) ধারা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ ব্যাচ বা তার পূর্ববর্তী ব্যাচসমূহের আবাসিক হলে বসবাসরত স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হল ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। গত ২৩ ডিসেম্বর সিন্ডিকেটের সভা শেষে ৭ জানুয়ারি হল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

উল্লেখ্য, কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ ড. সেলিম হোসেনের ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যুতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ২ ডিসেম্বরের সিন্ডিকেট সভায় ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কুয়েট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। ঐদিন বিকেল ৪টার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ পেয়ে ৭টি হলে থাকা শিক্ষার্থীরা হল ছাড়েন।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর বিকেলে কুয়েটের ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেন মারা যান। তার মৃত্যুর পর সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে এই মৃত্যুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানসহ তার অনুগত ছাত্ররা দায়ী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের লালনশাহ হলের ডিসেম্বর মাসের খাদ্য ব্যবস্থাপক (ডাইনিং ম্যানেজার) নির্বাচন নিয়ে ড. সেলিমকে চাপ দিয়ে আসছিলেন ফজলুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বাধীন কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের রাস্তায় ড. সেলিমকে জেরা শুরু করেন। পরে তারা শিক্ষককে অনুসরণ করে তার ব্যক্তিগত কক্ষে (তড়িৎ প্রকৌশল ভবন) প্রবেশ করেন।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা আনুমানিক আধা ঘণ্টা শিক্ষকের রুমে ছিলেন। পরে কক্ষ থেকে বেরিয়ে ড. সেলিম দুপুরের খাবার খেতে ক্যাম্পাস থেকে নিজ বাসায় যান। দুপুর আড়াইটার দিকে তার স্ত্রী লক্ষ করেন তিনি বাথরুম থেকে বের হচ্ছেন না। দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযোগ ওঠে, দাফতরিক কক্ষে কুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বে কতিপয় ছাত্রের জেরা, অপমান, অবরুদ্ধ করে রাখা ও মানসিক নির্যাতনে ড. সেলিমের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনা তদন্তে দুই দফায় কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি অভিযোগ করে, এটি হত্যাকাণ্ড। অধ্যাপক সেলিমের পরিবারও এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছে। ওই শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল ছুটি ঘোষণা করা হয়। সেই ছুটি দুই দফা বাড়িয়ে ৭ জানুয়ারি হল এবং ৯ জানুয়ারি ক্লাস শুরুর ঘোষণা দেয় প্রশাসন।

সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। গত বৃহস্পতিবার শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষকরা।

গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় কুয়েট ছাত্রলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান, হাসান আব্দুল কাইয়ুম, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান রাজ্জাক ও রিয়াজ খান নিলয়কে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করে ছাত্রশৃঙ্খলা কমিটি। এছাড়া আরও ৪০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন শাস্তি দেওয়া হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীরা প্রায় সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

ইত্তেফাক/এএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

রাবিতে ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদন শুরু

সালাম না দেওয়ায় জুনিয়রকে ছাত্রলীগকর্মীর থাপ্পড়!

এনসিটিবির চেয়ারম্যান হলেন ফরহাদুল ইসলাম

থানা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত তিতুমীর কলেজ অধ্যক্ষ তালাত সুলতানা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ওআইসির ‘ডিশটিংগুইশড স্কলার’ মনোনীত হলেন ড. হাফিজুর রহমান

জাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি

৫০ টাকা করে মনিটর বিক্রি করে শোকজ খেলেন ইবির ৪ কর্মকর্তা

রাবিতে ভর্তি পদ্ধতির ‘স্থিতিশীল কাঠামো’ তৈরি হয়নি!