হঠাত্ প্রচণ্ড বিস্ফোরণ। এরপর চারিদিকে শুধু আগুন। যে যেভাবে পারছে জীবন বাঁচাতে ছুটছে। কেউ কেউ হঠাত্ বিস্ফোরণে ভয় পেয়ে দোকানের শাটার বন্ধ করে দিচ্ছে। চারদিকে চিত্কার-চেঁচামেচি, বাঁচার আর্তনাদ। পুরান ঢাকার চকবাজারের ব্যস্ত এলাকা চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কথা এভাবেই বর্ণনা করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। আগুনে পুড়ে যাওয়া হাজী ওয়াহেদ ম্যানসনের সামনের রাস্তায় পোড়া দুটি পিকআপ ভ্যান, একটি প্রাইভেটকার, অসংখ্য রিকশা, ভ্যান, সাইকেল, মোটরবাইক, ঠেলাগাড়ি পড়ে রয়েছে। এ ছাড়া, ভেঙে পড়া কংক্রিটের দেয়াল, প্লাস্টিকের দানা, পারফিউমের অগণিত ক্যান রাস্তায় পড়ে রয়েছে যা দেখে আগুনের ভয়াবহতা আঁচ করা যায়।
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের ব্যাপারে স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজমহল হোটেল ও হাজী ওয়াহেদ ম্যানসনের মাঝামাঝি রাস্তায় একটি পিকআপ ভ্যান দাঁড়ানো ছিল। হঠাত্ পিকআপটির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের কারণে পিকআপটি কয়েক ফুট উপরে উঠে আবার নিচে পড়ে। এরপরই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পিকআপ বিস্ফোরণের পর রাজমহল হোটেলে আগুন ছড়ায়। হোটেলের সামনে ছিল গ্যাস সিলিন্ডার। সেগুলো বিস্ফোরিত হতে থাকে। একই সময়ে হাজী ওয়াহেদ মঞ্জিলের নিচতলায় আগুন লাগে। এই ভবনের নিচতলায় রয়েছে বডি-স্প্রে ও প্লাস্টিক দানার দোকান। ওপরের তলায় রয়েছে কেমিক্যাল গোডাউন। ফলে নিচতলা ও দোতলায় দ্রুত সময়ের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ওয়াহেদ মঞ্জিল সংলগ্ন জামাল কমিউনিটি সেন্টার ও রাস্তার উল্টো পাশে থাকা দুটি ভবনের চার ও পাঁচ তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
হাবীব নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তখন রাত দশটা বেজে গেছে। তারপরও যানবাহনের জটলা ছিল। দুই পাশের ভবনের নিচ তলায় থাকা হোটেলে খাওয়া-দাওয়া করছিল মানুষজন। হাজী ওয়াহেদ ম্যানশন ও রাজমহল হোটেলের মাঝামাঝি জায়গায় জ্যামে আটকে ছিল একটি পিকআপ। হঠাত্ করে এর গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এরপর একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। তবে প্রথম বিস্ফোরণের পরই সরু রাস্তায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আর তাতে রাস্তায় যানবাহনে আটকে থাকা মানুষ ও পথচারীরা দগ্ধ হন। এরপর রাজমহল হোটেলের সামনে থাকা কয়েকটি সিলিন্ডারও বিস্ফোরিত হয়।
তবে আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হাজী ওয়াহেদ ভবনের নিচতলায় কেমিক্যালের দোকান রয়েছে। সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত। এই আগুনেই রাস্তায় থাকা পিকাআপ ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। আবার কেউ কেউ বলছেন, বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের কথা। অনেকে আবার রাজমহল হোটেলের সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কথাও বলছেন। তবে সবার বক্তব্যে একটি বিষয়ে মিল পাওয়া যায়। সেটি হলো প্রচণ্ড বিস্ফোরণের পরই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
তবে রশিদ নামে একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, এগুলো ভুল কথা। আমি পাশের এটিএম বুথের সামনে ছিলাম। নিজে দাঁড়িয়ে সব দেখেছি। গাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে শুরু। এরপর হোটেলে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর গুদামে বিস্ফোরণ হয়।
অগ্নিকাণ্ডে আহত হাজী মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, আমি নিজ চোখে দেখেছি- ব্যাপক বিস্ফোরণে রাস্তার পাশে দেয়াল ভেঙে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়েছে। বিস্ফোরণটি যখন ঘটে, তখন আমি রিকশায় ছিলাম। রিকশাটির চালক বেঁচে আছেন কি না, তা আমি জানি না।
