শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড—এ কথা নতুন নয়। যে কোনো জাতির জীবনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের জন্য শিক্ষার ভূমিকা অনস্বীকার্য। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, চীন, মালয়শিয়া প্রভৃতি দেশের বর্তমান অগ্রগতির জন্য শিক্ষার প্রায়োগিকতা সর্জনবিদিত। কোনো দেশের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষাসহ সব সেক্টরে সমন্বিত পরিবর্তন অপরিহার্য। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের “সোনার বাংলা’ গড়ার প্রত্যয়ে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ‘রূপকল্প ২০৪১’ বর্তমান সরকারের একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা”। এই রূপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে অনেকগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের জন্য সব খাতের সামগ্রিক পরিবর্তন তথা উন্নয়ন প্রয়োজন। এর জন্য প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টিকোণ (হলিস্টিক এপ্রোচ)। কোনো খাত বাদ রাখা, বা কম গুরুত্ব প্রদান কিংবা কেবল দৃশ্যমান কিছু খাতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন সামগ্রিক উন্নয়ন তথা রূপকল্প ২০৪১ নিশ্চিত করতে পারে না। সামগ্রিক অর্থে উন্নয়ন না হলে দৃশ্যমান উন্নয়নও টেকসই হয় না। সত্যিকারের উন্নয়ের জন্য সব খাতকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে হয়। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনাও সেই অভীষ্ট লক্ষ্যে পরিচালিত।
শিক্ষা কেবল ব্যক্তি বা সমাজের শিক্ষাঙ্গন বা স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে সংযুক্ত করে না, সমাজের অন্য খাতগুলোকে (যেমন—আচরণ, শৃঙ্খলা, অফিস, ব্যাংক, আদালত, পরিবহন, শিল্প ইত্যাদি) ছুঁয়ে যায় এবং মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে।
তাই শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়নে বিশেষভাবে মনোযোগী, যা সম্প্রতি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যেও প্রতিভাত হয়েছে। সম্প্রতি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে সরকারের রূপকল্প ২০৪১ ও শিক্ষার স্বরূপ নিয়ে সরকারের ভাবনা ও পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমান সরকার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধসম্পন্ন যোগ্য, দক্ষ ও অভিজ্ঞ সোনার মানুষ গড়তে বদ্ধপরিকর। সে লক্ষ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষাকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। রূপকল্প অনুযায়ী উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর সমধিক জোর প্রদান করা হবে। সেই লক্ষ্যে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্তর পর্যন্ত যুগোপযোগী ও বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। যোগ্য ও দক্ষ নাগরিক গড়তে এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে বিশ্ববাজারের সঙ্গে লড়াই করার জন্য শিল্প (ইন্ডাস্ট্রি) ও একাডেমিয়ার মধ্যকার পারস্পরিক সোজা-সম্পর্ক তথা ‘সুষম সমন্বয়ের’ ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হবে। সে অনুযায়ী সরকার এগোচ্ছে।
পৃথিবী এখন পূর্বের যে কোনো সময় অপেক্ষা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে লব্ধ শিক্ষাও কয়েক বছর পর প্রায়োগিকভাবে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পুরোনো দক্ষতা বর্তমানে অনুপযোগী, আবার আজকের দক্ষতা ভবিষ্যতের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে শিক্ষা, শিক্ষা পদ্ধতি ও পাঠক্রমে পরিবর্তন তথা যুগোপযোগী করা অতি আবশ্যক। এমতাবস্থায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। অন্যান্য খাত অপেক্ষা শিক্ষার চ্যালেঞ্জও কঠিনতর। কারণ সময়োপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে নাগরিককে বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত রাখতে হয়। দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজে খাপ খাওয়ানোর জন্য জীবনব্যাপী শিক্ষার মাধ্যমে সব সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকার জন্য পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা অপরিহার্য। তাই সমসাময়িক বিশ্বে শিক্ষার সব স্তরে বিজ্ঞানভিত্তিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার বিকল্প নেই।
করোনা ভাইরাস মহামারি পরিস্হিতিতে শিক্ষার চ্যালেঞ্জ আরো প্রকট হয়েছে। কেবল মহামারি-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাওয়ায় যথেষ্ঠ নয়; কারণ, মহামারি-পূর্বাবস্থা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বা রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের জন্য উপযোগী নয়। তাই শিক্ষার ক্ষেত্রেও ব্যাপক বিপ্লব সাধন প্রয়োজন। করোনা ভাইরাস মহামারি পরিস্হিতিতে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান বৈষম্য স্পষ্ট হয়েছে; শিক্ষার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে; গবেষণার অপ্রতুলতাও পরিদৃষ্ট হয়েছে।
ইতিমধ্যে সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা পদ্ধতি ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার জন্য সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা মূল্যায়নের পদ্ধতিতেও আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যেখানে কেবল ভালো ফলাফল নয়, প্রকৃত জ্ঞান বিকাশের পথ সৃষ্টিই মূল উদ্দেশ্য।
শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে ২০২৩ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হবে এবং ২০২৫ সাল থেকে তা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য এ বছর থেকে (২০২২) প্রাথমিকে ১০০টি এবং মাধ্যমিকে ১০০টি প্রতিষ্ঠানে পাইলটিং শুরু হচ্ছে এবং শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চলছে। ইতিমধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে কলা, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগ তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে করে মাধ্যমিক পর্যায়ের একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে জ্ঞান সীমিত না থাকে এবং সব বিষয়ে পারদর্শী হওয়ার সুযোগ থাকে। নোটবুক বা কোচিং নির্ভর পড়াশোনা কিংবা মুখস্হ বিদ্যা অপেক্ষা বর্তমান পাঠ্যক্রমে সৃজনশীল পাঠদানের ওপর সমধিক গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। সঠিক জাতি গঠনের লক্ষ্যে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাঙ্গনের পাঠ্যক্রম ও শিক্ষার মানের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
সবাইকে আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে কিংবা উচ্চশিক্ষা লাভ করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। এই জনবহুল, উন্নয়নশীল বাংলাদেশের অধিকাংশ নাগরিকের জন্য দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। তাই গ্রামে-গঞ্জে-শহরে সর্বত্র কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাড়াতে হবে এবং যোগ্য শিক্ষক-প্রশিক্ষক দ্বারা তা পরিচালনা করতে হবে। শুধু দেশীয় কর্মসংস্থান নয়, যথাযথ প্রশিক্ষণ পেলে অভিবাসীরা বর্তমান সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি আয় করতে সক্ষম হবে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে সক্ষম হবে। মাদ্রাসা শিক্ষাকেও কর্ম ও উত্পাদনমুখী শিক্ষাব্যবস্থায় পরিণত করতে হবে, যেখানে দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে; মওলানা ভাসানী ও বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্যও ছিল তাই।
বর্তমান প্রজন্মকে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কেবল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে না; নতুন নতুন জ্ঞান ও ধারণার সৃষ্টি করবে এবং সমাজে বিদ্যমান সমস্যাদি মোকাবিলায় গবেষণালব্ধ সমাধানের পরামর্শও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসতে হবে। এই ধারা শুরু করতে হবে পাঠ্যসূচি প্রণয়নের মধ্য দিয়ে। শিল্প, নতুন নতুন জ্ঞান ও সমাজের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, সে অনুযায়ী পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদদের সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে। গবেষণার ক্ষেত্র জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পর্ককে পারস্পরিক করে গড়ে তুলতে হবে।
ভৌত কাঠামো ও গবেষণাগারের পাশাপাশি একাডেমিক মহাপরিকল্পনাও গ্রহণ করার ওপর সরকার ও শিক্ষামন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেছেন। সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির আওতায় গবেষণার ব্যাপক দ্বার উন্মোচন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকেও অন্তভুর্ক্ত করার পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঈপ্সিত মৌলিক ও প্রায়োগিক জ্ঞান ও গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মানও নিশ্চিত করতে হবে।
ভর্তিচ্ছুদের কষ্ট লাঘবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলোকে বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরো সহনশীল হতে হবে। অদ্যাবধি যেভাবে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তা বর্তমান সময়ের বিবেচনায় কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়। গত বছর (২০২১) করোনা ভাইরাস পরিস্হিতিতে ভর্তিচ্ছু ও তাদের পরিবারের কষ্ট লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তথা এক দিনে বা স্বল্পতম সময়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়া সত্যি দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডিনগণ সম্মত হলে তা সম্ভব ছিল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর সময়ে ১০টি পৃথক ভর্তি পরীক্ষাকে চারটি প্রধান ইউনিটে আনা হয়েছিল, যা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর সময়ে ১০টি পৃথক ভর্তি পরীক্ষাকে চারটি প্রধান ইউনিটে আনা হয়েছিল, যা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহামেদসহ অন্যান্য ডিনদের ভূমিকাও এক্ষেত্রে খুব ইতিবাচক ছিল। গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও দেশের বিভাগীয় শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা নিয়ে ভর্তিচ্ছুদের কষ্ট অনেকটা লাঘব করেছে। আমি নিজেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ভর্তি পরীক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি; প্রত্যক্ষ করেছি সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবস্থা। এভাবে পরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হলে সামনে ভর্তির লড়াইয়ে পরিবহন, যানজট, শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক দুর্ভোগ কমানো সম্ভব হবে।
শিক্ষাকে রূপকল্পের জন্য প্রস্তুত করা এবং শিক্ষার মাধ্যমে অন্য সব খাতকে উপযোগী করার চ্যালেঞ্জও অনেক। কেবল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, শিল্প, ব্যাংক, গবেষণাগার ইত্যাদির সঙ্গে শিক্ষাক-শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক সহজ ও সহজাত করা এবং রাজনীতির প্রভাবমুক্ত রাখা অন্যতম চ্যালেঞ্জ। গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে গুণগত শিক্ষার্থী তৈরি করার জন্য যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা, যা বর্তমানে দুর্নীতি ও রাজনীতি দ্বারা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত। মানসম্মত শিক্ষককে শিক্ষাঙ্গনে আকৃষ্ট করার জন্য যথাযথ সম্মান ও বেতনকাঠামোও নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষ ও যুগোপযোগী নাগরিক গড়ার কারিগর তথা শিক্ষকগণের দিকেও সুনজর দিতে হবে। সব স্তরের শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে তাদের জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগে রাজনীতি ও দুর্নীতিমুক্ত করা সর্বাগ্রে প্রয়োজন। এক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়োগ বা নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরো বেশি যত্নশীল হতে হবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি উপযুক্ত ও দক্ষ উপাচার্য নিয়োগ না দেওয়া হয়, তাহলে তার কাছে শিক্ষা অপেক্ষা রাজনীতি বা দুর্নীতি আশ্রয় পাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে, যা মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়। শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতির যে ‘মহোত্সব’, তার অবসান সময়ের প্রয়োজনে অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাঙ্গন হবে কেবল শিক্ষা, জ্ঞান, বিজ্ঞান ও গবেষণার ক্ষেত্র; রাজনীতির ‘মাঠ’ নয়। শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে এলে শিক্ষকগণ শিক্ষা ও গবেষণায় আরো ব্রত হবেন। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান অপেক্ষা নিজ কর্মক্ষত্রের প্রতি বেশি মনোযোগী হবেন।
বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ এবং এরই ধারাবাহিকতায় ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত এবং জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থানকে আরো দৃঢ় করে গড়ে তোলার জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা। এটি বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যমান বিরূপ বাস্তবতার অবসান হওয়া আবশ্যক। এ লক্ষ্যে সরকারের প্রত্যয় নির্ণীত হবে কার্যকর পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে। যেমন—রাজনীতির প্রকোপমুক্ত শিক্ষাঙ্গন, যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, ভৌত ও জ্ঞানগত কাঠামো ও সুযোগসুবিধা, গবেষণার খাত ও প্রয়োজনীয় তহবিল, যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম, শিল্প-একাডেমিয়া-শিক্ষার্থীসহ সম্পর্ক ইত্যাদি। ২০৪১ সালের মধ্যে রূপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এসব পদক্ষেপ গ্রহণ আশু প্রয়োজন।
লেখক: অধ্যাপক, নৃবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
