দেশে বানের মতো ঢুকছে ভয়ংকর মাদক ক্রিস্টাল মেথ (আইস)। এক গ্রাম ক্রিস্টাল মেথের দাম ৫ হাজার টাকা। মাদকাসক্ত তরুণ সমাজের কাছে ইয়াবার চেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে এটি।
ইয়াবা তৈরির প্রধান উপাদান এমমেটাফিন। ক্রিস্টাল মেথ তৈরির প্রধান উপাদান হলো মেথাএমমেটাফিন। ইয়াবার চেয়ে কয়েকগুণ কার্যকরী মাদকাসক্তের শক্তি দিয়ে তৈরি এই ক্রিস্টাল মেথ। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার থেকে এই মাদকের চালান আসছে। অনেক ক্ষেত্রে এই চালান বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিকল্প রুটে প্রবেশ করছে। আন্তর্জাতিক মাদক কারবারি সিন্ডিকেট বাংলাদেশকে ক্রিস্টাল মেথ পাচারে রুট হিসেবে ব্যবহার করছে।
২০১৯ সালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আট গ্রাম ক্রিস্টাল মেথের একটি চালান প্রথম ধরা পড়ে। এরপর থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির অভিযানে ১০ গ্রাম থেকে ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত ক্রিস্টাল মেথ ধরা পড়ে। গত বছর বেশ কয়েকটি অভিযানে কেজি খানেক করে এই মাদক উদ্ধার হয়। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর কক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবির হাতে ১ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি চালান ধরা পড়ে। এটিই ছিল মেথ উদ্ধারের এক অভিযানে বড় চালান উদ্ধারের ঘটনা। কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকা দিয়ে মাদক প্রবেশের সবচেয়ে বড় করিডোর।
ক্রিস্টাল মেথের বড় চালান উদ্ধার : এ যাবতকালের ক্রিস্টাল মেথের বড় চালান উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারের টেকনাফে। ২ বিজিবি টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার জানান, সোমবার রাত দেড়টার দিকে তাদের টেকনাফ ব্যাটালিয়নের একটি দল টেকনাফ সি-বিচ বিওপি থেকে সোয়া তিন কিলোমিটার দূরে নোয়াখালীপাড়া এলাকায় মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন সমুদ্র সৈকতে ঝাউ বাগানে অভিযান চালায়। সেখানে একটি গাছের নিচ থেকে লুকানো অবস্থায় ২ কেজি ৬৪ গ্রাম মেথ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত এই মাদকের দাম ১০ কোটি টাকার বেশি।
টেকনাফ থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান, সোমবার রাতে টেকনাফ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পুরাতন পল্লানপাড়া এলাকায় বেগমের বাড়ি নামক ভাড়াবাসার হাসিনার বসতঘরে অভিযান চালিয়ে বালিশের ভেতর থেকে ৫০০ গ্রাম মেথ ও ৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় টেকনাফের হ্নীলার লেদার ২৪ নম্বর ক্যাম্প এলাকার একরাম উদ্দীন (২৩) এবং উখিয়ার বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার হাসিনাকে (৩০) গ্রেফতার করে পুলিশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দিনে দিনে বাড়ছে আইস আসক্তের সংখ্যা। শুরুতে রাজধানী কেন্দ্রিক ধনাঢ্য পরিবারের সন্তানদের মধ্যে আইসের চাহিদা থাকলেও এখন এর চাহিদা সব শ্রেণির মাদকসেবীদের। ঢাকার মতো দেশের অন্য মহানগরীতেও তৈরি হচ্ছে আইস সেবনকারী। এটি সেবনের ফলে অনিদ্রা, অতি উত্তেজনা, স্মৃতিভ্রম, মস্তিষ্ক বিকৃতি, স্ট্রোক, হূদেরাগ, কিডনি ও লিভার জটিলতা এবং মানসিক অবসাদ ও বিষণ্নতার ফলে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। শারীরিক ও মানসিক উভয়ক্ষেত্রে এটির নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এ মাদকের প্রচলনের ফলে তরুণ-তরুণীদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ও অস্বাভাবিক আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ মাদকে আসক্ত হয়ে তরুণ-যুবকরা বিভিন্ন অপরাধে জড়িত হয়ে পড়ছে।
কক্সবাজারে মাদকাসক্ত নিরাময়কেন্দ্র ‘নোঙ্গর’ এর নির্বাহী পরিচালক দিদারুল আলম বলেন, সব ধরনের মাদকের চালান জব্দকালে আটকরা বহনকারীই থাকে। এদের বিরুদ্ধে মামলা হলে কারাগারে গেলেও মূল মাদক ব্যবসায়ীরা আড়ালে থাকায় নতুন পরিবহনকারি সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে মাদক আসা বন্ধ না হয়ে উলটো বাড়ছে। কক্সবাজার সিভিল সোসাইটি ও চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, মাদক দেশের সম্ভাবনাময় প্রজন্ম ধ্বংস করছে। তাই মাদকের বিস্তার রোধ করতে চাইলে মূল মাদক কারবারিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা খুবই জরুরি। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, সমাজের সর্বস্তরের লোকজন এগিয়ে না এলে শুধুমাত্র প্রশাসন একা কখনো মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পুরোপুরি সক্ষম হবে না। সামাজিক ও পারিবারিক ভাবেই মাদক ব্যবসায়ীদের বয়কট করতে হবে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ভেতরে উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি
ওমিক্রন: বেনাপোলে নেওয়া হয়নি নতুন সতর্কতা ব্যবস্থা