অনুগ্রহের কথা ভাবিতে হইবে

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:৫২

ঘটনাটি ঘটিয়াছে কক্সবাজার জেলার টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ উপকূলবর্তী সাগরে। মুহাম্মদ কলিম উল্লাহ নামের এক জেলে মাত্র একবার জাল ফেলিয়া পাইয়াছেন ৩০০ মণ মাছ। এই মাছগুলি তিনি বিক্রয় করিয়াছেন ৬ লক্ষ টাকায়। তিনি টানা জাল ফেলিবার ঘণ্টাতিনেক পরেই এত বিপুল পরিমাণ মাছ পাইয়া হতবাক হইয়া যান। সঙ্গী-সাথি ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় অনেক কষ্ট করিয়া সেই জাল তুলিয়া আনেন। জাল তুলিতেই দেখিতে পান—ছোট পোয়া, ছোট ফাইস্যা, বড় ফাইস্যা, মলা, বাটাসহ ছোট-বড় নানা প্রজাতির মাছে ভরিয়া গিয়াছে তাহার জাল। ইহার আগের দিনও তিনি ৪ লক্ষ টাকার মাছ পাইয়াছিলেন বলিয়া জানা যায়। এক জালেই ৩০০ মণ মাছ পাইবার ঘটনাটি সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করিয়াছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলিতেছেন, অন্যান্য বৎসরের তুলনায় এই বৎসর হঠাৎ করিয়া টানা জালে প্রচুর পরিমাণে মাছ ধরা পড়িতেছে। উপকূলের মানুষ ইহাতে বেজাই খুশি। আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি জানাইয়াছেন, শাহ পরীর দ্বীপ ও সেন্ট মার্টিনসহ কিছু কিছু মোহনায় মাঝেমধ্যে জাল ফেলিলেই প্রচুর মাছ ধরা পড়িতেছে। এই দুইটি এলাকা দুই ধর্মের দুই ধর্মপ্রচারকের নামে নামকরণ করা হইয়াছে। সম্প্রতি কক্সবাজার এলাকায় দুইটি কালো পোয়া মাছ ধরা পড়িয়াছে, যাহা বিক্রয় হইয়াছে সাড়ে তিন লক্ষ টাকায়। মাঝেমধ্যেই এখানে বিস্ময়করভাবে বড় বড় বা বেশি পরিমাণে মাছ ধরিবার ঘটনা ঘটিতেছে। দেখা যাইতেছে, অনেক সময় সারা দিন জাল ফেলিয়াও কোনো প্রকার মাছ পাওয়া যায় না। আবার হঠাৎ করিয়া জালে ধরা পড়িতেছে মাছের স্তূপ। এখানে পাঁচ শতাধিক জেলে কাজ করেন। কিন্তু সবার ভাগ্যেই এমন ঘটনা ঘটে না। এক জালে এত পরিমাণ মাছ শিকারি জেলে নিশ্চয়ই সৌভাগ্যবান। আমরা রূপকথায় এমন কথা শুনিয়া থাকিলেও কক্সবাজারে এখন যেন ইহার প্রতিফলন দেখা যাইতেছে। একেকটি টানা জাল অবশ্য ১০০ হইতে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্য হইয়া থাকে। কিন্তু সংঘবদ্ধ ও খেলাকারী মাছের দল কখন কাহার জালে ধরা দিবে তাহা আমরা কেহ জানি না।

আমরা যাহারা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করি, তাহারা জানি, রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ। তিনি যাহাকে ইচ্ছা অঢেল ও বেহিসাব রিজিক ও ধন-দৌলত দান করিয়া থাকেন। এখানে কাহারো হাত নাই। মানুষকে চেষ্টা করিয়া যাইতে হইবে মাত্র এবং ভরসা রাখিতে হইবে তাহার ওপর। পৃথিবীর সবচাইতে বড় প্রাণী হইতেছে নীল তিমি। ইহার ওজন ১৮১ মেট্রিক টন পর্যন্ত হইতে পারে। দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ ফুট। বিশাল আকৃতির এই প্রাণীটি প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন মেট্রিক টনের বেশি খাবায় খায়। প্রতিদিন প্রায় ৪ কোটি ক্রিল (চিংড়ির মতো এক প্রকারের মাছ) তাহার পেটে যায়। এই প্রচুর খাদ্যের জোগান কে দিয়া থাকেন? আমাদের সৃষ্টিকর্তাই হইলেন খায়রুর রাজিকিন বা উত্তম রিজিকদাতা। একমাত্র তাহার ইচ্ছাতেই রিজিক বাড়ে ও কমে। জমিনের ওপর বিচরণশীল সব প্রাণীর রিজিকের দায়িত্ব তাহারই। রিজিক পাইয়া শুকরিয়া আদায় করিলে তিনি তাহার অনুগ্রহ বাড়াইয়া দেন। কিন্তু তাহার অস্বীকারকারী বা শিরককারীসহ কাহাকেও একেবারে রিজিক হইতে বঞ্চিত করেন না। তাহার নিকট কায়মনো বাক্যে দোয়া করিলে তিনি প্রার্থনাকারীর জীবনে সচ্ছলতা আনিয়া দেন।

তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়িয়া দিয়া বলিয়াছেন, ‘যদি তিনি তোমাদের জীবিকা সরবরাহ বন্ধ করিয়া দেন, তাহলে এমন দ্বিতীয় আর কে আছে যে তোমাদের রিজিক সরবরাহ করিতে পারে? (আল-কোরআন, সুরা মূলক-২১)। তিনিই আবার নামাজ সমাপ্ত করিয়া জমিনে ছড়াইয়া পড়িয়া তাহার অনুগ্রহ তালাশ করিবার কথা বলিয়াছেন। তিনি রাজি-খুশি থাকিলে আমাদের সব কষ্ট ও অভাব-অনটন দূর করিয়া দিবেন। এমনকি পাখির ন্যায় নিশ্চিত রিজিক প্রদান করিবেন, ইহাতে কোনো সন্দেহ নাই। কক্সবাজারের সেই জেলের ন্যায় বিভিন্ন মানুষের জীবনে অনেক সময় অলৌকিকভাবে ও বৈধ উপায়ে যে সম্পদ অর্জিত হয়, তাহা আমরা গভীরে গিয়া কি ভাবিয়া দেখিবার চেষ্টা করি? রিজিক যে আসমান হইতে আসে, তাহা আমাদের অবশ্যই মানিয়া লইতে হইবে।

ইত্তেফাক/এমআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন