মনপুরায় নিখোঁজ মহিষের কাটা মাথা ও পরিত্যক্ত হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়েছে। দুইটি মহিষ জবাই করে মাথা কেটে ফেলে রেখে মাংস নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এতে গোখাদ্যের জন্য উপজেলার বিভিন্ন চরে থাকা হাজার হাজার মহিষ মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।
খোঁজ নিয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১১ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় উপজেলার ৪ নম্বর দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন সংলগ্ন বাসনভাঙ্গা কেঁওড়া বাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় মহিষের দুটি মাথা, চামড়া ও হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও কয়েক মাস আগে উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের পাতালিয়া চর থেকে দুটি মহিষের কাটা মাথা উদ্ধার করা হয় বলে জানান মহিষ রাখালরা। এদিকে গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন মহিষ মালিকের ছয়টি মহিষ নিখোঁজ রয়েছে বলে জানান তারা। নিখোঁজ ছয়টি মহিষের মধ্যে দুটির কাটা মাথা, চামড়া ও পরিত্যক্ত অবস্থায় হাড়গোড় পাওয়া গেছে। মহিষের কান ও চামড়ার বিভিন্ন চিহ্ন দেখে শনাক্ত করেছেন নিখোঁজ মহিষ দুইটির মালিকরা। এখন পর্যন্ত নিখোঁজ চারটি মহিষের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
উদ্ধার করা মাথা, চামড়া ও হাড়গোড় দেখে শনাক্তকারী মহিষ মালিকরা হলেন—দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন রাড়ী ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. মহিউদ্দিন। তারা বলেন, গত সোমবার থেকে মহিষ নিখোঁজের খবর পাই বাতাইনিয়াদের (রাখাল) কাছ থেকে। তার পর থেকে বিভিন্ন চরে আমরা ও বাতাইনিয়ারা খোঁজাখুঁজি করি। পরে বাসনভাঙ্গা চর থেকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে মহিষ দুইটির মাথা, চামড়া ও হাড়গোড় উদ্ধার করি। মহিষ জবাই করে মাথা, চামড়া ও হাড়গোড় রেখে মাংস নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া স্থানীয় মহিষ মালিক নজরুল, মহিউদ্দিন, মালেক দেওয়ান ও আবুল কালামের চারটি মহিষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
এ ব্যাপারে মনপুরা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন নয়ন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. অলিউল্যাহ কাজল বলেন, বিষয়টি খুবই অমানবিক। বিভিন্ন সময়ে বহিরাগত চোর চক্র বিভিন্ন চর থেকে মহিষ চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত। এই বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

যে কারণে বিপাকে আলু চাষিরা