মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

তারকা নয়, ভালো মানুষ হতে চাই: এবাদত

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:১৯

বিমানবাহিনীর ভলিবল দল থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তপ্ত জমিন। এবাদত হোসেন চৌধুরীর ‘স্যালুট’ এখন ক্রিকেট বিশ্বে সমাদৃত। তিন বছরের ক্যারিয়ারকে গৌরবে, রোমাঞ্চে আবৃত করেছে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট। বিধ্বংসী ফাস্ট বোলিংয়ে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক এবাদত। দুই টেস্টে ৯ উইকেট নিয়ে ভরসা, সম্ভাবনার জয়গান শুনিয়েছেন ২৮ বছর বয়সি এ তরুণ। নিউজিল্যান্ড সফর দিয়ে পাদপ্রদীপের আলোয় আসা ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলেছেন এবাদত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জান-ই-আলম

প্রশ্ন: শুধু বাংলাদেশ দল নয় মাউন্ড মঙ্গানুই টেস্ট আপনার ক্যারিয়ারেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আপনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ সবাই। জানতে চাই সফরের প্রথম টেস্টের পর আপনার জীবনে কি কি পরিবর্তন এসেছে?

পরিবর্তন বলতে আসলে, দেশের হয়ে খেলা, দেশকে জেতানোটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আর এরকম একটা জয় আসলে আমাদের দরকার ছিল, আমাদের দলের জন্য। আসলে খুবই ভালো লাগতেছে। জীবনে পরিবর্তন বলতে, মনে হচ্ছে যে দেশকে অনেক কিছু দেওয়ার আছে। আরো কষ্ট করতে হবে এবং আমাদের যে চেষ্টা আছে সেটা চালিয়ে যেতে হবে, যাতে আমরা আরো ভালো দল হতে পারি।

প্রশ্ন: এই কদিনে তারকা খ্যাতি কতটা বেড়েছে?

তারকা খ্যাতি (হাসি), আসলে আমি তারকা হতে চাই না। ভালো মানুষ হয়ে বাঁচতে চাই। যাতে মানুষ মনে রাখে। আমার কাছে মনে হয় সর্বোপরি ভালো মানুষ হওয়াটাই বড় বিষয়, তারকা হওয়ার চেয়ে।  

প্রশ্ন: মেয়ে ভক্তও বেড়েছে নিশ্চয়ই.....

হা হা হা... এই জিনিসটা (মেয়ে ভক্ত) আসলে চাই না। আমার এ জিনিসটার প্রতি অত আগ্রহ নাই।

প্রশ্ন: বিমানবাহিনীর সদস্য ছিলেন। এখন ক্রিকেটের মাঠেও নিজের নতুন পরিচয় তুলে ধরছেন, কোন পরিচয়টা বেশি উপভোগ করছেন?

দেখেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একজন সদস্য এবং ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা, এই দুইটা আসলে আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি দুইটাকেই খুব প্রাধান্য দিব। তবে আমার কাছে সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, দুইটা একসাথে চলছে। মানে দুই জায়গায় প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।

প্রশ্ন: আপনার স্যালুট তো এখন বিশ্বময়। সতীর্থরাও স্যালুট দিচ্ছে। এই স্যালুটের শুরুটা তো মনে হয় মাহমুদউল্লাহর পরামর্শে....

অবশ্যই এটা আমাকে রিয়াদ ভাই (মাহমুদউল্লাহ) স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন। প্রথম থেকে আমার তেমন কোনো সেলিব্রেশন ছিল না। তখন উনি বলেছিলেন যে, তুই এটাকে ব্র্যান্ড করতে পারিস। আমাকে যেহেতু বিমানবাহিনী স্যালুটটা শিখিয়েছে, কীভাবে স্যালুট দিতে হয়, এ জিনিসটা আমি খুব ভালোভাবে পারি। সবচেয়ে বড় জিনিস হচ্ছে পুরো দেশ যখন স্যালুট দেয়, এটা অনেক গর্বের বিষয়।  

প্রশ্ন: বোলার হিসেবে যে উন্নতি করেছেন তাতে কাকে কৃতিত্ব দিবেন বেশি?

আমি চেষ্টা করেছি যখন যে কোচ এসেছে, তার কাছ থেকে কিছু না কিছু নেওয়ার। অনেকের সঙ্গেই কাজ করেছি। যেমন প্রথম থেকে সরোয়ার ইমরান স্যার ছিলেন, এইচপিতে বাবুল স্যার (মিজানুর রহমান বাবুল) ছিলেন, আমাদের জাতীয় দলের যে কোচগুলো ছিলেন, ওটিস গিবসন ছিল। যখন যার কাছ থেকে সুযোগ পেয়েছি কাজ করার, ভালো করার, চেষ্টা করেছি শিখতে।

প্রশ্ন: এই ধারাবাহিকতা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী?

অবশ্যই, এর ধারাবাহিকতা রাখাটা খুবই জরুরি, বিশেষ করে আমাদের ফাস্ট বোলারদের ক্ষেত্রে। এ জিনিসটা কন্টিনিউ করাটা একটু কঠিনই বটে। কারণ মেশিনের মতো একই জায়গায় একটানা বোলিং করাটা মুশকিল। একটু এদিক-সেদিক হবে, তবে নিজের দিক থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, যাতে ধারাবাহিকতা রাখা যায়, উন্নতি করা যায়। পারফরম্যান্সটা ধরে রাখতে চাই। চেষ্টা করব আমি।

প্রশ্ন: ৭ বলে ৩ উইকেট নেওয়ার সময়টাই কি আপনার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত?

তখন আসলে টিম এফোর্টটা এমন ছিল যে, আমাদের সবাই খুব বেশি এফোর্ট দিচ্ছিল মাঠের ভেতর। দুই পাশ থেকে মুশফিক ভাই ও অধিনায়ক মুমিনুল ভাই সবসময় বলতে ছিলেন যে, ‘খুব ভালো হচ্ছে, খুব ভালো হচ্ছে ভাই। বোলারকে সাপোর্ট কর, আমরা খুব ভালো যাচ্ছি। ’ এরকম সাপোর্ট পাওয়ার পর অটোমেটিক্যালি আমার ভেতরে যা ছিল সবই আমি প্রয়োগ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, খুবই ভালো হয়েছে, এমন একটা ম্যাচ জিতেছি । তখনই মনে হয়েছে এটাই আমার ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত।

প্রশ্ন: কার উইকেট নিয়ে বেশি ভালো লেগেছে?

নিউজিল্যান্ডে আসার পরে প্রথম টেস্টে পঞ্চম দিনে বোলিং করি, শুরুতে রস টেলরের উইকেটটা খুবই উপভোগ করেছিলাম। কারণ তখন ওর উইকেটটা এত গুরুত্বপূর্ণ হয়েছিল যে, ও যদি তখন দাঁড়ায়ে যেত তাহলে হয়তো বা দৃশ্যটা অন্যরকম হয়ে যেতে পারতো। তখন খুবই ফোকাসড ছিলাম যে, গতকাল যে বোলিংটা করছি, আজকে যেন সেটা শুরু করতে পারি। সত্যি বলতে, দলের পরিবেশন এমন ছিল যে, আমি আসলে অমন ভালো শুরু করতে বাধ্য হয়েছি। তখন চারপাশ থেকে সবাই উজ্জীবিত ছিল, জেতার যে ক্ষুধা সেটা সবার ভেতরে ছিল, আমার ভেতরেও ছিল। তাই রস টেলরের উইকেটটা খুবই উপভোগ করেছি। আমার এই ছোট ক্যারিয়ারে আমার কাছে এই উইকেটটা খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে।

প্রশ্ন: ক্রাইস্টচার্চে টিম সাউদির কাছে কি পরামর্শ পেলেন?

সাউদিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে, দ্বিতীয় টেস্টে আসার পর আমি ব্যাক অব লেন্থে বল করতেছিলাম, ওটা ওরা খুব সহজে ছেড়ে দিচ্ছিল। এটার জন্যই ওর সাথে কথা বলেছিলাম।

ও আমাকে বলতেছিল যে, দেখ তোমাদের দেশে গেলে আমরাও এমন সংগ্রাম করি। তোমরা তো হিট করো, আমরা হলো সুইং করানোর জন্য বলটা এয়ারে ভাসায়ে দেই। তাই দুইটা দুই ধরনের। তোমরা আজীবন ব্যাক অব লেন্থেই বল করো, তোমাদের বডি ম্যাকানিজম ঐ রকম হয়ে গেছে। এটা একটু কঠিন, এটা ১-২ দিনে হবে না। এটা অনেক সময়ের ব্যাপার।

আমাকে জিজ্ঞাসা করেছে পরের সফর কোথায়, আমি বলেছি দক্ষিণ আফ্রিকা। বলেছে যে, ওখানে তো ভালো উইকেট থাকবে, ওখানে যেন সামনে বল করা যায়, ঐ লেন্থটা বেশি করে অনুশীলন করে যাবা।

আর রিস্ট পজিশন দেখিয়ে দিল একটু। ও আমারে বলছে, তোমার রিস্ট ভালো, তুমি খুব সিমে হিট করতে পারো সুন্দর। তোমার সবকিছুই ভালো আছে। এখন যদি একটু লেন্থটা সমন্বয় করতে পারো, তাহলে আরো ভালো হবে।  

ইত্তেফাক/ ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ!

সাকিব আমাদের সেরা বিকল্প :সুজন

এশিয়া কাপে স্ট্যান্ডবাই সৌম্য-মৃত্যুঞ্জয়

ওপেনার সংকট, শান্ত-মুনিমে মোহভঙ্গ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

শুধুমাত্র পাকিস্তানের বিপক্ষে নয়, এশিয়া কাপও জিতবে ভারত: পন্টিং

ধারাভাষ্য থেকে বিদায় নিলেন চ্যাপেল

শুধুমাত্র পাকিস্তানের বিপক্ষে নয়, এশিয়া কাপও জিতবে ভারত: পন্টিং

ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ম্যাচ ড্র