মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট ২০২২, ১ ভাদ্র ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ভালো থাকা না থাকা

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:৩৮

বর্তমান সময়ে মানুষের সবচেয়ে বেশি ট্রেস কীসে? প্রশ্নের উত্তরে কেউ বলবেন সংসারে শান্তিতে নেই, কেউ বলবেন অফিসে একে অন্যকে ছোট করে কথা বলে, কেউ বলবে অর্থনৈতিক চাপে জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে, কারো কথায় পাওয়া যাবে সন্তানেরা কথা শোনে না, কেউ আবার নিজের মত প্রকাশ না করতে পেরে ভালো নেই! প্রতিনিয়ত ভালো থাকা না থাকার দ্বন্দ্ব মানুষকে ভালো থাকতে দেয় না। জীবনের প্রয়োজন মেটানোর চেয়েও মানুষ একটু স্বস্তি চায়, তা দিন শেষে এবং ঘরে ফিরে।  

সামাজিক অনেক কারণও এখন ভালো থাকার অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে! খুন, ছিনতাই, পরকিয়া, কিশোর অপরাধ, নেশার মতো অপরাধ যখন খুব সামনে থেকে দেখতে হয় তখন ভালো থাকার কোনো উপায়ই নেই যেন! সঙ্গে আছে রোগী নিয়ে হাসপাতালে গেলেও সেখানে ঘুষ দিয়ে চিকিত্সা করানোর মতো জ্বালা, শিক্ষিত হয়ে টাকার বিনিময়ে চাকরি নেওয়ার মতো অসুস্থ প্রতিযোগিতার দায়! এক জীবনে তারাই সবচেয়ে মানসিক যন্ত্রণায় থাকে যারা সবকিছুতে নিজেকে প্রতিযোগী ভাবে। মানুষের একটা লক্ষ্য স্থির করে আগানোর মানসিকতা পারিপার্শ্বিক অনেক চিন্তার ওপর নির্ভর করলেও নিজেকে স্থির করে নিজের ওপর আস্থা রাখাই ভালো থাকার মূলমন্ত্র হতে পারে।  কিন্তু এখানেই ব্যত্যয়। যখন একজন মানুষ অনেক দিক দিয়েই ভালো থাকেন তখন তিনি হয়ে ওঠেন পরচর্চাকারী। অর্থাত্ যখন কোনো মানুষ ভেজালমুক্ত থাকেন তখন অন্যদের নিয়ে বেশি ভাবতে থাকেন। এখানেও প্রতিযোগিতাই বলা যায় আর এ কারণে তখন তারা অস্থিরতা বোধ করেন। কখন অন্যকে খাটো করবেন, কখন আরো বেশি এগিয়ে যাবেন ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু যা কিছুই করেন তাতে যদি অস্থিরতা থাকে তবে ভালো থাকা যায় না।   রয়. টি. বেনেটের একটি উক্তি আছে। তিনি বলেছেন—জীবনে অনেক বিষয় আছে যেগুলো তোমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং সেগুলো নিয়ে মাথা ঘামানোরও মানে হয় না, কারণ এর বাইরেও তোমার হাতে হাজার হাজার জিনিস রয়েছে যেগুলো তুমি বিজয় করতে পার।  হ্যাঁ সব ভাবনার বাইরে নিজের যে কাজে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ সেটা করে যাওয়ার নামই কখনো কখনো ভালো থাকা হতে পারে। আমার মতে ভালো থাকার জন্য শুধু একটি বৃক্ষকে বড় করে তোলাও হতে পারে কোনো কারণ। অভিযোগ বিহীন সম্পর্ক মানুষকে ভালো রাখে। সে হিসেবে প্রকৃতির চেয়ে বড় বন্ধু আর নেই।

তাছাড়া পরোপকার মানুষের ভালো থাকাকে যথেষ্ট অনুপ্রেরণা দেয়। অন্যের জন্য কাজ করতে পারলে সব দ্বিধা মানুষের মধ্য থেকে দূর হয়ে যায়।  একজন মানুষের এমনভাবে নিজেকে গড়ে তোলা প্রয়োজন যাতে তার কাজের কোনো অভাব না থাকে। এখন বেশির ভাগ মানুষ ক্লান্িতর পর শুধু ঘুমকে আলিঙ্গন করেই ভাবে স্বাদের উপহার পেয়ে গেলাম। কোনো কারণে ঘুমে ব্যঘাত ঘটলেই অনেক মানুষ আছে যারা ভালো থাকে না। মেজাজ খিটখিটে করে রাখে সারা দিন। অথচ হজরত আলী (রা.) বলেছেন, ঘুমিয়েই কি কেটে যাবে একটি জীবন? জীবন হোক কর্মচাঞ্চল্যে ভরপুর, ছুটে চলার নিরন্তর অনুপ্রেরণা। বিশ্রাম নেওয়ার জন্য কবরের জীবন চিরকাল পড়ে রয়েছেই। অর্থাৎ ভালো থাকা নির্ভর করে মানিয়ে নেওয়ার ওপরও। নিজেকে পরিশুদ্ধ হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে পরচর্চা বাদ দিতেই হবে, নিজেকে বেশি সময় দিতে হবে, সবকিছুতে নিজেকে প্রতিযোগিতার সম্মুখে নেওয়া যাবে না, সমাজের জন্য অবদান রাখতে হবে, শিশুদের সময় দিতে হবে এবং একটি স্বপ্নকে সামনে রেখে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে দেখার জন্য নিজেকে তৈরি করতে হবে।  

সর্বোপরি মনকে শান্ত না করতে পারলে ভালো থাকা অসম্ভব। দিন শেষে প্রকৃতির কাছে গিয়ে নিজের কথাগুলো বলে আসুন। একটি বৃক্ষকে সামনে নিয়ে বলুন নিজের দুঃখের কথাগুলো। বৃক্ষও আপনাকে উত্তর দেবে। হঠাত্ প্রশান্িতর বাতাস এসে বলে দেবে প্রকৃতির সকল দান তোমার জন্যই হে পৃথিবীর মানুষ! দেখবেন নিজের কথাগুলো নিজের সঙ্গে বলার অভ্যাস হবে। আপনি ভালো থাকতে শুরু করবেন। ভালো থাকা তো খুব জরুরিই।

ইত্তেফাক/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিদেশে বঙ্গবন্ধুর নামানুসারে সড়ক

পৃথিবীর সবচাইতে বড় গাছ 

ইলিশ উৎপাদনের সাফল্য ধরে রাখতে হবে

আনন্দ বেদনা ও সংকটে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

তাইওয়ানকে ঘিরে বৃহৎ শক্তির প্রতিযোগিতা কি যুদ্ধে রূপ নিতে পারে?

ভিন্ন জেলায় চাকরি করা এমপিওভুক্ত শিক্ষকের কথা

হিস্টেরিয়া একটি মানসিক সমস্যা

গণপরিবহন নৈরাজ্য ও বর্তমান বাস্তবতা