বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বাংলাদেশের জাতীয় মুক্তির পথ

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২২, ১০:১৯

ঢাকা থেকে এক বন্ধু এসেছিলেন। তিনি প্রগতিশীল মহলের লোক। তাকে বললাম, দেশে এত অনাচার চলছে, তোমরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে এগিয়ে যাচ্ছ না কেন? সরকার যেভাবে ধর্মবাদীদের আস্কারা দিয়ে চলেছে, তাতে ক্ষতি হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদের। কেবল সংবাদপত্রে বিবৃতি দিয়ে এই ধর্মবাদীদের ঠেকানো যাবে কি? বন্ধু অনেকক্ষণ আমার কথা শুনলেন। এরপর বললেন, দেশের বর্তমান অবস্থায় তুমি বিদেশে বসে যতটা উদ্বিগ্ন, আমরা দেশে বসে তার চাইতেও বেশি উদ্বিগ্ন। কারণ দেশে সামাজিক বিপর্যয় ঘটছে আমাদের চোখের সামনে। কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারছি না। কারণ দেশে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গেলে তার বেনিফিট পাবে বিএনপি। তারা ক্ষমতায় এলে সঙ্গে আসবে জামায়াত। তাহলে তো দেশে তালেবানি শাসন শুরু হয়ে যাবে। সেটা ভালো হবে কি? আমি তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনলাম, তারপর বললাম, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে দেশে তালেবানি শাসন কায়েম হবে, এটা একটা মিথ। বর্তমান আওয়ামী লীগের শাসনে দেশের অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে ধ্বংস করার ব্যাপারে বিএনপি ক্ষমতায় এলে কি তার চাইতে বেশি ক্ষতি হবে? আমি বিএনপিকে সমর্থন করি না। কারণ আমি বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে, বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙিয়ে বিএনপির চাইতেও আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক সমাজের ক্ষতি করেছে বেশি। তবু দীর্ঘকাল আওয়ামী লীগের শাসন কামনা করেছি। এখন এই শাসন সহ্যের বাইরে গেছে। দেশে শিক্ষাব্যবস্থাকে ইসলামীকরণ চলছে। বিএনপি ও জামায়াত আমলের আমলাতন্ত্র দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তি ধ্বংস করছে। বঙ্গবন্ধু দেশে যে সামাজিক ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন এবং সমাজতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থা গড়তে চেয়েছিলেন তা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। দেশে পচনশীল গণতান্ত্রিক উন্নয়নের বিকাশ ঘটেছে। ১৯৭০ সালের আওয়ামী লীগ আর বর্তমানের আওয়ামী লীগ এক নয়। একাত্তর সালে আওয়ামী লীগের যে অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ চেহারা ছিল, আজ তা নেই। আওয়ামী লীগ বিএনপির অনুসৃত নীতি অনুসরণ করেছে। এজন্য আমি একবার আওয়ামী লীগকে ‘তরজমা পার্টি’ নাম দিয়েছিলাম। বিএনপি বলে আল্লাহু আকবর, আওয়ামী লীগ বলে আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। বিএনপি বলে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, আওয়ামী লীগ তাকে অনুবাদ করে বলে বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। বিএনপির স্লোগান অনুকরণ করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের জয়বাংলা স্লোগান তলিয়ে গেছে। যে স্লোগান দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করা হয়েছিল, সেই স্লোগান আজ আওয়ামী লীগ মহলে খুব কম শোনা যায়। আওয়ামী লীগের সম্ভবত ভাবনা দেশের সব মানুষ ধর্মান্ধ হয়ে গেছে। তারাও সে রকম ধর্মান্ধ না হলে ভোট পাওয়া যাবে না। তাই বিএনপি-জামায়াতের অনুকরণে তারা দাড়ি রেখেছেন, টুপি পরছেন। ধর্মীয় সুরা ছাড়া কোনো অনুষ্ঠান শুরু করেন না। বিএনপি সংবিধানের দুটি ভিত্তি ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্রকে অপসারণ করেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বাহাত্তরের সংবিধান পুনঃপ্রবর্তন করেছে; কিন্তু এ দুটি ভিত্তি পুনরায় নির্মাণের চেষ্টা করেনি। আওয়ামী লীগের বিশালত্ব এখনো আছে, কিন্তু আদর্শ বিচু্যত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য আজ নতুন আওয়ামী লীগ চাই। সেই আওয়ামী লীগের হবে একাত্তর সালের মতো সংগ্রামী চেহারা। কারণ সমাজে এখন ধ্বংসযজ্ঞ চলছে। তাকে পুনর্নির্মাণ করতে গেলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অবশ্যই ফিরে যাওয়া দরকার। দেশ চলছে বঙ্গবন্ধুর নামে, অথচ বঙ্গবন্ধু কোথাও নেই। তার আদর্শকে বহুদিন আগে জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে। পচনশীল ধনবাদী উন্নয়ন দ্বারা যা হয়, দেশে সেই ধনবাদী উন্নয়ন হয়েছে। সেই উন্নয়নের বারো আনা ফসল গেছে নব্য ধনীদের ঘরে। সাধারণ মানুষ সেই ফসল পেয়েছে চার আনা। তা দিয়ে একটি দেশের উন্নয়ন মাপা যায় না। যে কারণে ৩০ লাখ শহিদ মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছিলেন, তাদের প্রতি সম্মান দেখানো হয়নি। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন, তা এখন লোহার বাংলাও নয়। আওয়ামী লীগের শতকরা ৮০ ভাগ সদস্য নব্য ধনী। এখন বাংলাদেশে চরিত্রবান ও আদর্শবান মানুষ আওয়ামী লীগে ঠাঁই পায় না। সেখানে চরিত্রহীন টাকাওয়ালা মানুষদের নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এই অবস্থায় দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে কীভাবে? দেশে যেটুকু সুশাসন চলছে, তা শেখ হাসিনার সততার জন্য। মুশকিল হচ্ছে, তিনি সত্। কিন্তু তার চারদিক ঘিরে রেখেছে লুটেরা কোম্পানি। সাংস্কৃতিক জগতে এখন সাহিত্য পুরস্কার দেওয়ার বেলায়ও ঘুষ নেওয়া হয়। টাকাওয়ালা লোক দেখে দেখে জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হয়। গত ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জগতেও চলছে নৈরাজ্য। আসাদুজ্জামান নূর সংস্কৃতিমন্ত্রী থাকাকালে ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েছিলেন। তখন ইসলামী ব্যাংকের পোস্টারে ঢাকা শহরের প্রতিটি ল্যাম্পপোস্ট ছয়লাব হয়ে গিয়েছিল। ইসলামী ব্যাংকের পোষকতা, ধর্মীয় পোষকতা দ্বারা কি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়া যায়? তাই বন্ধুকে বললাম, আওয়ামী লীগকে এই মুহূর্তে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা দেশের জন্য ক্ষতিকর হবে। এর জন্য বিকল্প গণতান্ত্রিক দল গড়ে তোলা দরকার, যাতে ভোটযুদ্ধে আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে ধর্মনিরপেক্ষ দলের হাতেই ক্ষমতা যায়। এই দল হবে একাত্তর সালের আওয়ামী লীগ। মুজিবের আদর্শ ধ্বংস করে এরা মুজিবকোট পরে ঘুরে বেড়ায়। এদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করা দরকার। দেশে সামাজিক জীবনে যে ধস নেমেছে, তাকে রুখে দাঁড়াতে হবে। লোটাস কামাল সাহেব ধনীদের জন্য যে অর্থনীতি প্রবর্তন করেছেন, তাতে নব্য ধনীরাই শুধু লুটপাট করার সুবিধা পাচ্ছে। আমি বুঝি না, দেশের ছোটো ছোটো বাম দলগুলো কেন আওয়ামী লীগের নৌকায় চড়ে নির্বাচনে জয়ী হতে চায়। তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতা হ্রাসের জন্য তারাই দায়ী। তাত্ত্বিক ঝগড়া এবং চীন ও রাশিয়ার ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে তারা দেশের মানুষের আস্থা হারিয়েছে। এই আস্থা অর্জন করতে হলে একাত্তরের আওয়ামী লীগের মতো সংগ্রামী হতে হবে। মুখে বামপম্হি কাজে বিলাসী জীবন যাপন করা চলবে না। দেশে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এসে গেছে। এখন দেশে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বিরোধী দল দরকার। ড. কামাল হোসেন, ডাক্তার বদরুদ্দোজা, আ স ম আবদুর রব—এসব ফসিল দ্বারা দেশ ও জাতির পুনর্নিমাণ সম্ভব নয়। এরা সুবিধাবাদী। তাই বাংলাদেশের রাজনীতির মোড় ঘোরাতে চাই শক্তিশালী তরুণ নেতৃত্ব। গণশত্রুদের ফাঁসি দেওয়ার ব্যাপারে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি না হলে একজন অপরাধীকেও ফাঁসি দেওয়া যেত না। আওয়ামী লীগ সরকারই ফাঁসি দিত না। তার প্রমাণ, কাদের মোল্লাকে প্রথমে ফাঁসি না দিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের ফলে সরকার বাধ্য হয়ে কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেয়।

সরকারের উদারতাতেই দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ও গোলাম আজমকে ফাঁসি দেওয়া হয়নি। সরকার ইচ্ছা করলে গণজাগরণ মঞ্চ থেকেই দেশে গণতান্ত্রিক বিরোধী দল গড়ে উঠতে পারত। সরকার সেখানে হেফাজতিদের মাঠে নামিয়ে কৌশলে গণজাগরণ মঞ্চকে ধ্বংস করে। এই মঞ্চের নেতা ইমরান পড়েছিলেন সিপিবির খপ্পরে। এই দল আরাম কেদারায় শুয়ে তত্ত্ব ঝাড়তে ভালোবাসে। আর্থিক স্বাচ্ছ্যন্দের ফলে তাদের এত মেদ ও ভুঁড়ি বেড়েছে যে, তাদের পক্ষে গঠনমূলক আন্দোলনে নামাও সম্ভব নয়। রেজা কিবরিয়া, তাজউদ্দীনপুত্র সোহেল তাজ—এরা সবাই হতে পারতেন আওয়ামী লীগের এসেট। কিন্তু আওয়ামী লীগে যে কায়েমি স্বার্থ গড়ে উঠেছে, তারা এখন কোনো আদর্শবান ও কোনো চরিত্রবান লোককে গ্রহণ করে না। আতিউর রহমানের মতো একজন সত্ ও কর্মনিষ্ঠ অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হয়েছিলেন। তিনি দেশে সাধারণ মানুষের উপকার হওয়ার মতো ব্যাংকিং ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে যাচ্ছিলেন। আওয়ামী সিন্ডিকেটের চক্রান্েতর কারণে তিনি গভর্নর পদে থাকতে পারেননি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের নামে চীনের কাছ থেকে কঠিন শর্ত মেনে অর্থ এনে এখন দেশ ভারত ও মার্কিন চাপ দ্বারা দিশেহারা। কোন পথে যাবেন তা ঠিক করতে পারছেন না। ভারতে মোদি সরকার প্রথম নেহরুর মিশ্র অর্থনীতি ত্যাগ করে ধনবাদী অর্থনীতি গ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ঠাকুর-দেবতার প্রতিমা সাজান। কংগ্রেস তার ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি পরিবর্তন করে ভোট পাওয়ার জন্য বিজেপির নীতি অনুসরণ করে। দলের সভাপতি রাহুল গান্ধী শিবমন্দিরে গিয়ে শিবভক্ত সাজেন। আমেরিকার সঙ্গে বামপম্হিদের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে পরমাণুসংক্রান্ত সামরিক চুক্তি করেন। তার ফল এখন ভালো হয়েছে কি? ভারতের গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব এশিয়ায় আর নেই। বাংলাদেশও বঙ্গবন্ধুর নাম নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নেতৃত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছিল। সেই মুহূর্তে চীন, আমেরিকা ও ভারত এই ত্রয়ী শক্তির দ্বন্দ্বে জড়িয়ে বাংলাদেশ দিশেহারা। তাই বলছিলাম, বাংলাদেশে নতুন প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল প্রয়োজন। সত্ ও চরিত্রবান তরুণদের ঐকমত্যে এই দল তৈরি হবে। ছোটো বাম দলগুলো দেশে বাম শক্তির উত্থানের চেষ্টা না করে এত দিন নব্য ধনীদের পা লেহন করে চলেছে। শাপলা চত্বরে আওয়ামী লীগের প্রশ্রয়ে যে হেফাজতি অভু্যত্থান ঘটতে যাচ্ছিল, তা রোখার জন্য তারা ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে পারেনি। তারা গিয়ে আওয়ামী লীগের নৌকায় আশ্রয় নিয়েছে। তারপর মন্ত্রিত্ব থেকে বিদায় নিয়ে তাদের গান গাইতে হচ্ছে—‘আগে জানলে তোর ভাঙা নৌকায় চড়তাম না।’ আসলে বিলাসী জীবনযাপন এবং রাজনৈতিক নীতিহীন বামেরা দেশে শক্তি সঞ্চয় করতে পারেনি। এই দোষ দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার নয়, এই দোষ বামপম্হি দলগুলোর। বিশেষ করে কমিউনিস্ট পার্টির। এখন আর কমিউনিস্ট আন্দোলন দ্বারা আমাদের জাতীয় মুক্তি ঘটবে না। জাতীয় মুক্তির জন্য তরুণ বামদের নতুন গণতান্ত্রিক দল গড়ে তুলতে হবে। যে দল আওয়ামী লীগের একাত্তর সালের ভূমিকা গ্রহণ করবে এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী হবে। এই ধরনের একটি দল পচনশীল আওয়ামী লীগের শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে পারবে। এখন পর্যন্ত সেই তরুণ শক্তির জাগরণের আভাস পাচ্ছি না। কিন্তু যত শক্ত কাজই হোক, এই গণতান্ত্রিক বিরোধী দল গড়ে তুলতেই হবে। নইলে আগামী নির্বাচনেও বিএনপি-জামায়াত গিয়ে সংসদে বসতে পারে। সেখানে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তির ভূমিকা হবে দেশে একাত্তরের আওয়ামী লীগের ভূমিকা গ্রহণ করা এবং সংসদে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বিরোধী দল উপস্হিত করা। আমার কথাটি এখন রূপকথা মনে হতে পারে, ঢাকার বন্ধুকে বললাম, একাত্তর সালের আওয়ামী লীগের মতো একটি রাজনৈতিক দলের উত্থান প্রয়োজন, যারা দেশে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য এবং গণতন্ত্রকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সংগ্রামী ভূমিকা গ্রহণ করবে। তারা শুধু দেশের নব্য ধনীদের নয়, মার্কিন ও চীন উভয় সাম্রাজ্যবাদের থাবা থেকে বাংলাদেশকে রক্ষার চেষ্টা করবে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে সুইজারল্যান্ড ও তুরস্ক যদি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারে, তাহলে কেন বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকার চীন-মার্কিন দ্বন্দ্ব থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারছে না? ঢাকার বন্ধুকে বললাম, আওয়ামী লীগ না হলে দেশ প্রগতির পথে চলবে না, এটা আপনাদের ভুল ধারণা। দেশে সুশাসন প্রবর্তনের জন্য আন্দোলনে নামতে হবে। মন্ত্রিত্ব পাওয়া যাবে না, এই ভয়ে কোনো কোনো বাম দল নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে। দেশের তরুণ শক্তি আজ অন্ধকারে ডুবে থাকলেও এই অন্ধকার থেকে শেখ মুজিব যেমন মাথা ঊঁচু করে নেতা হয়েছেন, তেমনি আজকের তরুণ সমাজও নতুন শেখ মুজিব জন্মগ্রহণের মতো সামাজিক অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে। আমার প্রশ্ন, বর্তমানে বামেরা কেন সেই নতুন সমাজ গঠনের দিকে আগাচ্ছে না?

লন্ডন, ১৩ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার

ইত্তেফাক/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

আমের আঁটি বর্জ্য নয়, সম্পদ

আশা-আকাঙ্ক্ষার বাতিঘর হয়ে এসেছিলেন তিনি

উলটা বুঝিলি রে!

বর্তমান সংস্করণের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার অনিরাপদ!

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ইউক্রেন যুদ্ধের ঝুঁকিপূর্ণ শেষ পরিণতি

যে কারণে শিশু-কিশোররা অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে

রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে এখনো কি কূটনৈতিক তৎপরতা সম্ভব?

অসুখ-বিসুখ