মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

চিরনিদ্রায় শায়িত কাজী আনোয়ার হোসেন

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২২, ১৬:৫৯

একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। মাসুদ রানা ও কুয়াশার স্রষ্টা এবং সেবা প্রকাশনীর প্রতিষ্ঠাতা কাজী আনোয়ার হোসেন চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) বাদ আসর রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে সেগুনবাগিচা জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে আক্ষেপ করলেন তার পাঠক, শুভানুধ্যায়ী ও আত্মীয়-স্বজনরা। মনের কষ্ট প্রকাশ করলেন সেবা প্রকাশনীর লেখকরা। তারা বললেন, এই রকম গুণী মানুষকে রাষ্ট্র সম্মান জানায়নি। কিন্তু দেশের পাঠকরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কাজী আনোয়ার হোসেনকে সম্মানের আসনে রেখেছেন। পাঠকের ভালোবাসাই তার সারাজীবনের কর্মের অর্জন। 

গত বুধবার বিকেল চারটা ৪০ মিনিটে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে মারা যান কাজী আনোয়ার হোসেন। এরপর থেকে তার মরদেহ ফ্রিজিং ভ্যানে করে কাকরাইলের কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে রাখা হয়। সেখান থেকে সকাল দশটায় তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় তার সেগুনবাগিচার বাসভবনে। শেষবারের মতো কাজী আনোয়ার হোসেনকে শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে তার মরদেহ আনার পর পরিবারের সদস্য থেকে শুরু করে এলাকাবাসী, পাঠক-ভক্তরা ভিড় জমান সেখানে।

কাজী আনোয়ার হোসেনকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন তার শ্যালিকা ও বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন। শ্রদ্ধা জানাতে আসেন সেবা প্রকাশনীর স্বনামধন্য লেখক নিয়াজ মোরশেদ। তিনি বলেন, এদেশের পাঠক সৃষ্টিতে অনন্য ভূমিকা রেখেছিলেন কাজী আনোয়ার হোসেন। হুমায়ূন আহমেদের আগেই তিনি এ দেশে বই পড়ার পথটি তৈরি করেছিলেন। এমনকি জেলায় জেলায় নিজের গাড়িতে চড়ে মাইকিং করে বই বিক্রি করেছিলেন।

সেগুনবাগিচার বাসভবনে ছেলে কাজী শাহনূর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমার বাবা একজন যোদ্ধা মানুষ ছিলেন। সবসময় সাহস নিয়ে বেঁচেছেন। তিনি পরিবারকে নিয়ে থাকতে পছন্দ করতেন।

কাজী আনোয়ার হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে মাসুদ রানা স্বত্বাধিকার নিয়ে একটি মামলা লড়েছিলেন কাজী আনোয়ার হোসেন। সে বিষয়ে তার পুত্রবধূ মাসুমা মায়মূর বলেন, ৪৩ বছর ধরে মাসুদ রানা ও কুয়াশা সিরিজ লিখেছেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তার বইগুলোর লেখক হিসেবে শেখ আবদুল হাকিম নিজেকে দাবি করেন। তবে এ বিষয়টি এখনও আদালতে বিচারাধীন এবং অমীমাংসিত।

কাজী আনোয়ার হোসেনকে রাষ্ট্রীয় কোন স্বীকৃতি না দেয়ায় আক্ষেপ করে তার চাচাতো ভাই কাজী রওনাক হোসেন বলেন, অনেক অযোগ্য লেখক রাষ্ট্রীয় পেয়েছেন। কিন্তু কাজী আনোয়ার হোসেন যিনি এদেশের কিশোর-তরুণদের বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করে অবক্ষয় থেকে মুক্ত রেখেছিলেন, সেই তিনি লেখক হিসেবে কোন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি। এটা আমাদের কষ্ট দেয়।

এদিকে, কাজী আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বাণী দিয়েছেন সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। এছাড়া শোক জানিয়ে বাণী দিয়েছে বাংলা একাডেমি।  

ইত্তেফাক/এএএম