শেকৃবি শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ

সেন্ট মার্টিনে প্লাস্টিক ও পলিথিনের বর্জ্য দিয়ে মাছের মুর‌্যাল

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২২, ১৯:১৯

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সৈকতে পড়ে থাকা বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বোতল, চিপসের প্যাকেট, পলিথিন, ফেলে দেয়া ছেড়া জাল, বস্তা ইত্যাদি আবর্জনা দিয়ে একটি কোরাল মাছ এবং একটি কচ্ছপের মুর‌্যাল তৈরি করেছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ফিশারিজ, অ্যাকুয়াকালচার ও মেরিন সায়েন্স অনুষদ।

এ কাজে সহযোগিতায় ছিল চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অনুষদ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক, স্থানীয় জেলে ও বাসিন্দারা যেন যত্রতত্র প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনা না ফেলেন—সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করার লক্ষ্যে মুর‌্যাল দুটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এ কার্যক্রমের পরিকল্পনাকারী ও প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ড.  কাজী  আহসান হাবীব। এ কার্যক্রমে সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে চ্যানেল ২৪ এবং অর্থায়নে আছে কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশন (কেজিএফ)।

ফেলনা প্লাস্টিক বোতল, পলিথিনের প্যাকেট, নষ্ট জাল ইত্যাদি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এই ম্যুরালটি।

শেকৃবির ফিশারিজ, অ্যাকুয়াকালচার ও মেরিন সায়েন্স অনুষদের অধ্যাপক ড.  কাজী আহসান হাবীব বলেন, ‘সেন্ট মার্টিন দ্বীপ আমাদের দেশের একমাত্র প্রবাল সমৃদ্ধ দ্বীপ। প্রতিবছর শীতকালে প্রতিদিন প্রায় ৩-৪ হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন দ্বীপে বেড়াতে আসেন। তাদের অনেকেই জানেন না যে এই দ্বীপের সমুদ্রতলে লুকিয়ে আছে বিচিত্র সব বর্ণিল ও মনোরম সুন্দর সব প্রাণী ও উদ্ভিদ। কিন্তু অপরিকল্পিত পর্যটন, দূষণ, মাছ ও প্রবালের আবাস স্থল ধ্বংস, মাত্রাতিরিক্ত মৎস্য আহরন, অবৈধভাবে প্রবাল আহরণ ও অবকাঠামো নির্মাণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সেন্ট মার্টিনের প্রবাল প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বর্তমানে হুমকির মুখে। পরিবেশ দূষণের অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণ হলো প্লাস্টিক ও পলিথিন আবর্জনা, ছেড়া জাল ও নাইলন বস্তা নিক্ষেপ, যা চূড়ান্তভাবে সাগরের পানিতে চলে যায় ও এর অনেকাংশ পানির নীচে প্রবালের উপর জমা হয়ে প্রবাল প্রতিবেশ বিনষ্ট করে।'

তিনি আরও বলেন, 'পরিবেশ দুষণের হাত থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপকে বাঁচানোর উদ্যোগ হিসেবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, অ্যাকুয়াকালচার ও মেরিন সায়েন্স অনুষদ একটি গবেষণা কার্যক্রমও হাতে নিয়েছে। এই গবেষণায় দ্বীপের সৈকত ও পানির তলদেশ কী পরিমাণ ও কী ধরনের প্লাস্টিক এবং অন্যান্য আবর্জনা দ্বারা দূষিত হচ্ছে তা নিরূপণ করা হবে। গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে প্লাস্টিক দূষণরোধে এবং দ্বীপের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কী ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে তার একটি রূপরেখা ও সুপারিশমালা প্রণয়ন করে সরকারকে দেয়া হবে।'

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল ধারণ করা দ্বীপ সেন্ট মার্টিন আইল্যান্ড সংলগ্ন প্রবাল প্রতিবেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যকে রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার এটিকে গত ৪ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে সামুদ্রিক সুরক্ষিত অঞ্চল বা মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া হিসাবে ঘোষণা করেছে। ইতোপূর্বে ১৯৯৯ সালে  এই দ্বীপকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া বা প্রতিবেশগতভাবে সঙ্কটাপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।

ইত্তেফাক/এসটিএম