পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে দন্ত, চক্ষু, শিশু, নাক-কান-গলা, হূদ্রোগ ইত্যাদি বিভাগে কোনো ডাক্তার নেই। প্রতিদিন শতশত রোগী এসব বিভাগে ভিড় জমালেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা ছাড়াই তাদের ফেরত যেতে হচ্ছে। চিকিৎসকের মঞ্জুরিকৃত ৩৫টি পদের মধ্যে মাত্র ১২ জন ডাক্তার কর্মরত রয়েছেন।
জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১০০ শঘ্যার এ হাসপাতালে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কোনো চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা নামমাত্র চিকিৎসা পেয়ে থাকেন। জেলা হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হালনাগাদ অবস্হান ও শূন্য পদের মাসিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বর্তমানে কনসালট্যান্ট পদগুলো অনেকাংশে শূন্য। মেডিসিন, সার্জারি, অর্থোসার্জারি, চক্ষু, শিশু বিভাগে মঞ্জুরিকৃত সিনিয়র কনসালট্যান্টের একজনও কর্মরত নেই। জুনিয়র কনসালট্যান্টের গাইনির দুই জন, শিশুর এক জন, নাক-কান-গলার একজন, রেডিওলজির এক জন, কার্ডিওলজির একজন, প্যাথলজির এক জন এবং ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগে এক জনের করে পদের মঞ্জুরি থাকলেও সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। জরুরি বিভাগে মেডিক্যাল অফিসারের মঞ্জুরিকৃত তিনটি পদের একটি শূন্য। সহকারী সার্জনের পাঁচটি পদের সবগুলোই শূন্য। সেবা তত্ত্বাবধায়কের পদটিও খালি। বর্তমানে আউট ডোর ও ইনডোরে দৈনিক গড়ে ৫০০ জন রোগী বিভিন্ন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। যার মধ্যে কেউ কেউ চিকিৎসাসেবা না পেয়েই ফিরে যান।
জেলা হাসপাতালে দন্ত বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা দৈনিক রোগীর সংখ্যা ৫০ জনের ঊর্ধ্বে। এখানে মঞ্জুরিকৃত ডেন্টাল সার্জনের একটি পদ ও প্রযুক্তিবিদের একটি পদ শূন্য থাকায় আউটডোরে একজন মাত্র দন্ত প্রযুক্তিবিদ দাঁতের চিকিৎসা দিচ্ছেন। দাঁত তোলা, দাঁতে পুঁজ হওয়া, দন্ত ক্ষয় বা ক্যারিজ, ক্যাভিট, মাড়ি ফোলা ইত্যাদি নানা রোগ নিয়ে রোগীরা হাসপাতালের শরণাপন্ন হন। গত চার বছর ধরে ডেন্টাল সার্জন না থাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির এ স্টাফের কাছে প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাওয়া যায় না। তাই দাঁতের চিকিৎসার জন্য অগত্যা হাসপাতালের বাইরে বেসরকারি ডেন্টাল সার্জন বা সাধারণ দাঁতের ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট পদটি দুই বছরের বেশি সময় ধরে শূন্য। এ পদের কনসালট্যান্ট অবসরে চলে গেলে নতুন কাউকে পদায়ন করা হয়নি।
জেলা হাসপাতালের সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. হাসনাত ইউসুফ জাকি ইত্তেফাককে বলেন, অপারেশন থিয়েটারসহ সব ধরনের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্হা থাকা সত্ত্বেও ডাক্তারের অভাবে চক্ষু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চক্ষু বিভাগে চিকিৎসকের একমাত্র পদটি সিনিয়র কনসালট্যান্ট হওয়ায় সেখানে জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদে টেকনিক্যাল কারণে কাউকে নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে পিরোজপুরে ২৫০ শঘ্যার হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে হওয়ায় এখানে চিকিৎসকের মঞ্জুরিকৃত ও পদায়নের সংকট কেটে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইত্তেফাক/বিএএফ

অবৈধ যানের দখলে কুমিল্লার সড়ক